ইংল্যান্ড এখন হাসানের হোম গ্রাউন্ড!

বিস্ময় শব্দটাকেই যেন নিজের বশে নিয়ে এসেছেন হাসান মাহমুদ। ইংল্যান্ডের মাটিতে বানিয়ে ফেলেছেন নিজের দ্বিতীয় হোম গ্রাউন্ড। মাঠে নামবেন, হাতে উঠবে বল, আর ব্যাটারের স্টাম্পে আঘাত হানবেন, কেন্টের জার্সিতে এখন যেন এটাই হাসানের স্বাভাবিক ক্রিয়াকলাপ। সাত উইকেট নিয়ে কেন্টকে জিতিয়ে প্রমাণ করলেন সেটা।

বিস্ময় শব্দটাকেই যেন নিজের বশে নিয়ে এসেছেন হাসান মাহমুদ। ইংল্যান্ডের মাটিতে বানিয়ে ফেলেছেন নিজের দ্বিতীয় হোম গ্রাউন্ড। মাঠে নামবেন, হাতে উঠবে বল, আর ব্যাটারের স্টাম্পে আঘাত হানবেন, কেন্টের জার্সিতে এখন যেন এটাই হাসানের স্বাভাবিক ক্রিয়াকলাপ। সাত উইকেট নিয়ে কেন্টকে জিতিয়ে প্রমাণ করলেন সেটা।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ের নায়ক ছিলেন। এরপর আবারও কাউন্টি ক্রিকেটে ফিরেছেন হাসান। আর ফিরেই বুঝিয়ে দিলেন, কেন ইংল্যান্ডের মাটিতে তাঁকে নিয়ে এত আলোচনা। অস্ট্রেলিয়ার ফর্মটাই নিজের সঙ্গে বিমানে তুলেছিলেন হাসান।

উস্টারশায়ারের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে চার উইকেট, দ্বিতীয় ইনিংসে আরও তিন, ম্যাচে মোট সাত উইকেট। কেন্টের ৮৪ রানের জয়ে বল হাতে সবচেয়ে বড় অবদান তো বাংলাদেশের এই পেসারের। প্রথম ইনিংসেই শুরু হয়েছিল ধ্বংসযজ্ঞ। উস্টারশায়ার ২৬ রানে পৌঁছাতেই পরপর দুই বলে দুই উইকেট তুলে নেন হাসান। এরপর থামেননি। শেষ পর্যন্ত ৬৮ রান দিয়ে চার উইকেট—ব্যাটারদের ওপর তৈরি করেছিলেন ভয়াবহ চাপ। দ্বিতীয় ইনিংসেও সেই ধারাবাহিকতা ধরে রেখে আরও তিন উইকেট যোগ করেন নিজের ঝুলিতে।

 

নতুন বল হাতে সাফল্য পেয়েছেন। যখন দরকার উইকেট এনে দিয়েছেন, জুটি ভেঙেছে প্রতিপক্ষের। হাসান মাহমুদ সবই করেছেন একা হাতে। হাসানের বোলিংয়ের সবচেয়ে নজরকাড়া দিক উইকেট নেওয়ার ধরন। সাত উইকেটের একটিতেও ফিল্ডারের সাহায্যের দরকার পড়েনি। হয় বোল্ড, না হয় ব্যাটারকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেছেন।

হাসানের গতি আছে, সুইং আছে, আছে ব্যাটারকে অস্বস্তিতে ফেলার মতো অ্যাকশন। আর সবচেয়ে বড় কথা, আক্রমণের মানসিকতা। কেন্টের সতীর্থ ম্যাট মিলনেও হাসানের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। তাঁর চোখে হাসান দলের আক্রমণে বাড়তি কিছু যোগ করেছেন, তাঁর অ্যাকশন ব্যাটারদের জন্য অস্বস্তিকর এবং গতি দিয়ে তিনি প্রতিপক্ষকে চাপে রাখতে পারেন। সহজ করে আখ্যা দিয়েছেন, হাসান টপক্লাস!

ইংল্যান্ডের মাটিকে তাই হাসান মাহমুদের দ্বিতীয় হোম গ্রাউন্ড বললে হয়তো খুব একটা বাড়িয়ে বলা হবে না। কারণ এখানে তিনি শুধু খেলছেন না, নিয়মিতভাবে নিজের ছাপ রেখে যাচ্ছেন। বিস্ময়কে বশে আনার গল্পটা যেন শেষই হচ্ছে না। বরং প্রতিটি ম্যাচে হাসান মাহমুদ নতুন করে লিখছেন, বাংলাদেশের পেস বোলিংয়ের ভবিষ্যৎ যে শুধু সম্ভাবনা নয়, সেটি এখন বাস্তবতাও।

লেখক পরিচিতি

স্টাফ রিপোর্টার

Share via
Copy link