১৩ বছর পর রিয়াল মাদ্রিদের ডাগআউটে ফিরেছেন হোসে মরিনহো। মৌসুমের শুরুটা হয়েছিল টানা তিন জয়ে। কিন্তু শুক্রবার রাতে সেভিয়ায় রিয়াল বেটিসের কাছে ১-০ গোলে হেরে নিজের দ্বিতীয় দফার প্রথম হারের মুখ দেখলেন পর্তুগিজ কোচ। আর সেই হার তিনি মোটেও সহজভাবে নেননি। এমবাপ্পের পেনাল্টি মিসও ছড়িয়েছে আগুন।
ম্যাচে বল দখল, আক্রমণ, সুযোগ তৈরি—সবকিছুতেই এগিয়ে ছিল রিয়াল। তবু জেতা হয়নি। ৮১ মিনিটে বদলি ট্রয় প্যারটের গোলে পিছিয়ে পড়ার পর যোগ করা সময়ে পেনাল্টি পায় দলটি, কিন্তু কিলিয়ান এমবাপ্পের শট ঠেকিয়ে দেন বেটিস গোলরক্ষক আলভারো ভায়েস। এই মিসেই শেষ পর্যন্ত পয়েন্ট হাতছাড়া হয় রিয়ালের।
সংবাদ সম্মেলনে মরিনহো স্পষ্ট করেই বলেন, এই হার তাঁর কাছে ব্যাখ্যাতীত। তাঁর ভাষায়, ‘মাঝেমধ্যে আপনি হেরে যান, কিন্তু কেন হারলেন বুঝতেই পারেন না। আমরা পুরো ম্যাচে ডোমিনেট করেছি, আমাদের সেন্টারব্যাকরা সবকিছু নিয়ন্ত্রণে রেখেছিল, প্রচুর আক্রমণ আর গোলের সুযোগ তৈরি হয়েছে। ড্র হলেও হতাশ হতাম, কারণ আমরা তার চেয়ে বেশি প্রাপ্য ছিলাম। তাহলে হারের পর কেমন লাগছে ভাবুন।’ খেলোয়াড়দের নিয়েও কোনো অভিযোগ নেই তাঁর, উল্টো বেটিসকে কটাক্ষ করে বলেন, তারা ড্র করার পরিকল্পনা নিয়ে নেমে শেষ পর্যন্ত পুরো তিন পয়েন্টই বাগিয়ে নিয়েছে।

এমবাপ্পের পেনাল্টি মিস ঘিরে বিতর্কও কম হয়নি। রিপ্লেতে দেখা যায়, শট নেওয়ার সময় বেতিস ডিফেন্ডার মার্ক বার্ত্রা বক্সের দিকে ঢুকে পড়েছিলেন, যদিও তখনো তাঁর পা মাটি স্পর্শ করেনি। এই সূক্ষ্ম কারণেই রেফারি সেটিকে নিয়ম লঙ্গন হিসেবে ধরেননি, ফলে পেনাল্টি আবার নেওয়ার সিদ্ধান্তও আসেনি। এ নিয়ে জিজ্ঞেস করা হলে মরিনহো সরাসরি রেফারিংয়ের সমালোচনা এড়িয়ে যান। বলেন, ঘটনাটি তিনি ড্রেসিংরুমে গিয়েও ভালোভাবে দেখেননি, তাই এখনই মন্তব্য করতে চান না।
তবে একটি জায়গায় খানিকটা ক্ষোভ ঝাড়েন—বেটিসের খেলোয়াড়েরা মাদ্রিদের খেলোয়াড়দের চেয়ে বেশি চালাক বলে উল্লেখ করেন মরিনহো। তাঁর ভাষায়, বেটিসের খেলোয়াড়েরা রেফারিকে প্রভাবিত করতে বেশি পটু—ফাউলের শিকার হলে মাটিতে পড়ে থেকে প্রতিপক্ষকে কার্ড খাওয়ানোর চেষ্টা করে। অন্যদিকে রিয়ালের ছেলেরা কার্ড পাওয়ার উপযোগী ফাউলে শিকার হয়েও সঙ্গে সঙ্গে উঠে দাঁড়িয়ে পড়ে, ফলে বিষয়টা রেফারির নজরেই পড়ে না।
এই হারের পরও লিগ টেবিলে রিয়াল এখনও ওপরের দিকেই আছে, তবে শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার সঙ্গে ব্যবধান বেড়েছে। আগামী মঙ্গলবার ইন্টার মিলানের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগ অভিযান শুরুর ঠিক আগে এই হার মরিনহোর জন্য বাড়তি চাপ হয়েই থাকল।












