কোনো রক্ষণাত্মক কৌশলেই হাল্যান্ডকে থামানো যায় না!

আর্লিং হাল্যান্ডের জোড়া গোলে ভর করে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে দুর্দান্ত জয় দিয়ে অভিযান শুরু করেছে ম্যানচেস্টার সিটি। পর্তুগিজ পরাশক্তি এফসি পোর্তোর ঘরের মাঠ এস্তাদিও দো দ্রাগাও এ অনুষ্ঠিত রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ২-০ ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে ইংলিশ জায়ান্টরা।

আর্লিং হাল্যান্ডের জোড়া গোলে ভর করে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে দুর্দান্ত জয় দিয়ে অভিযান শুরু করেছে ম্যানচেস্টার সিটি। পর্তুগিজ পরাশক্তি এফসি পোর্তোর ঘরের মাঠ এস্তাদিও দো দ্রাগাও এ অনুষ্ঠিত রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ২-০ ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে ইংলিশ জায়ান্টরা। নতুন কোচ এঞ্জো মারেস্কার অধীনে দুটি গোল করে দলের জয় সুনিশ্চিত করেন নরওয়েজিয়ান গোলমেশিন হাল্যান্ড।

ঘরের মাঠে শুরু থেকেই শারীরিক ফুটবলের ওপর ভর করে সিটিকে চাপে রাখার চেষ্টা করে পোর্তো। প্রথমার্ধে সিটির খেলোয়াড়রা পজেশনাল ফুটবলে আধিপত্য দেখালেও পোর্তোর জমাট রক্ষণ ভাঙতে হিমশিম খায়। তবে বিরতির পরপরই দৃশ্যপট বদলে দেন হাল্যান্ড। ৪৭ মিনিটে এক নিখুঁত ফিনিশিংয়ে সিটিকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেওয়ার পর, ম্যাচের যোগ করা সময়ে প্রতি আক্রমণের ফল হিসেবে দলের ও নিজের দ্বিতীয় গোলটি সম্পন্ন করেন এই নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার।

পোর্তোর দুই সেন্ট্রাল ব্যাক গভীর ডিফেন্সিভ ব্লক তৈরি করে হাল্যান্ডকে আটকে রাখার কৌশল নিয়েছিলেন। কিন্তু এঞ্জো মারেস্কা ট্যাকটিক্যালি হাল্যান্ডকে প্রথাগত নম্বর নাইন পজিশনে আটকে না রেখে কিছুটা নিচে নেমে আসার স্বাধীনতা দেন। এর ফলে পোর্তোর রক্ষণের সেন্ট্রাল ব্যাকরা পজিশন ছেড়ে সামনে চলে আসতে বাধ্য হয় এবং হাল্যান্ড তাঁর ক্ষুরধার গতি কাজে লাগিয়ে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের পেছনের ফাঁকা জায়গায় হানা দিয়ে প্রথম গোলটি তুলে নেন।

ফিনিশিংয়ের পাশাপাশি প্রথমার্ধে পোর্তোর হাই-প্রেসিং সামলাতে হাল্যান্ডের হোল্ড-আপ প্লে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। মাঝমাঠ থেকে আসা লং বলগুলোতে তিনি নিজ দৈহিক শক্তি ব্যবহার করে বল নিয়ন্ত্রণে রাখেন এবং উইঙ্গারদের পাস বাড়িয়ে আক্রমণে নতুন স্পেস তৈরি করেন।

​ম্যাচের শেষদিকে পোর্তো সমতায় ফিরতে অল-আউট আক্রমণে উঠলে মারেস্কা দ্রুত ট্রানজিশনাল কাউন্টার-অ্যাটাকিং ফুটবলের নির্দেশ দেন। অতিরিক্ত সময়ে মাঝমাঠে বল ছিনিয়ে নেওয়ার মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে কমপ্যাক্ট পোর্তো ডিফেন্সকে পরাস্ত করে বক্সে ফাঁকায় বল পান হাল্যান্ড এবং ক্লিনিক্যাল শটে জয় সুনিশ্চিত করেন।

​ইউরোপীয় ফুটবলের কঠিনতম ভেন্যুগুলোর একটিতে এই জয় ম্যানচেস্টার সিটি ও কোচ মারেস্কার জন্য চমৎকার এক সূচনা এনে দিল। একই সাথে যেকোনো ধরনের রক্ষণাত্মক কৌশলের বিপক্ষেও যে হাল্যান্ড সমান বিপজ্জনক, এই ম্যাচটি ছিল তারই সুস্পষ্ট প্রমাণ।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

Share via
Copy link