হৃদয়ের জন্য জায়গা নেই!

তাওহীদ হৃদয় নিজেকে দুর্ভাগা ভাবতেই পারেন। সদ্যই ৩৫০ রানের ইতিহাস গড়া এক ইনিংস খেলেছেন। সেটাও আবার খোদ দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে। তারপরও টেস্ট দলের দরজা তাঁর জন্য সহসাই খুলছে না।

তাওহীদ হৃদয় নিজেকে দুর্ভাগা ভাবতেই পারেন। সদ্যই ৩৫০ রানের ইতিহাস গড়া এক ইনিংস খেলেছেন। সেটাও আবার খোদ দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে। তারপরও টেস্ট দলের দরজা তাঁর জন্য সহসাই খুলছে না।

হ্যাঁ, হয়তো স্কোয়াডে থাকবেন হৃদয়। সেটার দরকারও আছে। তবে, মূল একাদশে জায়গা পাওয়ার পথটা খুবই কঠিন। কারণ, সেখানে তাঁর জন্য বড় লড়াই নিয়ে অপেক্ষা করছেন দুই দানব, মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাস।

বয়স ৩৯, দলেও মুশফিকুর রহিম এখনও টেস্ট দলের বড় পারফরমার। মিডল অর্ডারে তাঁর ভূমিকা বাংলাদেশের জন্য অপরিহার্য। এখনও এই দলটার খুঁটি মুশফিকুর রহিম, সেটা বললেও ভুল হবে না। তাই তো হৃদয়কে যদি দলে ঢুকতে হয়, তবে অপেক্ষা করতে হবে মুশফিকের অবসর পর্যন্ত। তাঁকে টেক্কা দিয়ে এই দলে সুযোগ পাওয়া হৃদয়ের জন্য আপাতদৃষ্টিতে অসম্ভবই বটে।

আরেকটা উপায়ও কিন্তু আছে। তবে সেই জায়গায় অপেক্ষা করছে লিটন দাসের বাধা। অন্য ফরম্যাটে যেমন-তেমন হলেও টেস্টে লিটন অন্যরকম। অবশ্য তাঁর ক্যারেক্টারটাও এখানেও ভিন্ন। টেস্টে লিটন দাস যে জায়গায় ব্যাট করেন, সেটা ম্যাচের গতিপথ পাল্টে দেয়। আগ্রাসী ব্যাটিংটা তাঁর কাছে দাবি হয়ে ওঠে। সেই জায়গায় দায়িত্বটা বেশ ভালোভাবেই পালন করে আসছেন লিটন। অর্থাৎ এখানেও হৃদয়কে কোনো প্রয়োজন আপাতত বাংলাদেশের নেই। তার ওপর দলের উইকেটরক্ষকের ভূমিকাও লিটনকেই নিতে হয়।

হৃদয় তাই একপ্রকার অভাগা ভাবতেই পারেন নিজেকে। এই মুহূর্তে হাজার পারফর্ম করেও বর্তমান যে একাদশ, সেখানে তাঁর জন্য জায়গা হবে না। হয়তো দলে তিনি ঢুকেও পড়তে পারেন সহসা, তবে একাদশের হিসাব যে আলাদা। দলের দুই সেরা তারকার সঙ্গে টেক্কা দিয়ে জায়গা করে নেওয়া চাট্টিখানি কথা নয়। আরও নিষ্ঠুরভাবে বললে অসম্ভব। তাই তো হৃদয়ের সামনে এখন একটাই পথ খোলা, অপেক্ষা। মুশফিক যদি বিদায় নেন, তবেই কপাল খুলতে পারে তাওহীদ হৃদয়ের।

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link