চমক রেখেই সাফের দল ঘোষণা বাংলাদেশের!

দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলে প্রকৃত নাম্বার নাইনের সংকট। হামজা চৌধুরী কিংবা শমিত সোমের মতো ফুটবলাররা মাঝমাঠে থাকলেও আশানুরূপ ফল পাচ্ছিল না দল। বরাবরই ফিরতে হচ্ছিল খালি হাতে। এর অন্যতম বড় কারণ গোল করার মতো নির্ভরযোগ্য স্ট্রাইকারের অভাব। গোল করবেন কে, এই প্রশ্নই ঘুরেফিরে সামনে এসেছে বারবার। এবার তাই কি দুইজন প্রকৃত নাম্বার নাইনকে নিয়ে আক্রমণভাগ সাজিয়েছেন কোচ টমাস ডুলি?

চমক দিয়েই ঘোষণা করা হলো বাংলাদেশের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের স্কোয়াড। বহুল আলোচিত যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী রোনান সুলিভানের সঙ্গে প্রথমবারের মতো সিনিয়র দলে ডাক পেয়েছেন ইংল্যান্ডপ্রবাসী মোহাম্মদ মাহী খান। তবে কি এবার দূর হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা, একজন প্রকৃত নাম্বার নাইনের অভাব?

রোনান ও মাহী দুজনই ইতোমধ্যে বাংলাদেশের যুব দলের হয়ে অভিষিক্ত হয়েছেন। গত এপ্রিলে অনূর্ধ্ব-২০ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে আলো ছড়িয়েছিলেন রোনান। তবে সেপ্টেম্বরে যুবাদের এএফসি এশিয়ান কাপে খুব একটা নজর কাড়তে পারেননি মাহী। তা সত্ত্বেও প্রতিভাবান এই ফরোয়ার্ডকে নিয়ে রয়েছে প্রত্যাশা।

দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলে প্রকৃত নাম্বার নাইনের সংকট। হামজা চৌধুরী কিংবা শমিত সোমের মতো ফুটবলাররা মাঝমাঠে থাকলেও আশানুরূপ ফল পাচ্ছিল না দল। বরাবরই ফিরতে হচ্ছিল খালি হাতে। এর অন্যতম বড় কারণ গোল করার মতো নির্ভরযোগ্য স্ট্রাইকারের অভাব। গোল করবেন কে, এই প্রশ্নই ঘুরেফিরে সামনে এসেছে বারবার। এবার তাই কি দুইজন প্রকৃত নাম্বার নাইনকে নিয়ে আক্রমণভাগ সাজিয়েছেন কোচ টমাস ডুলি?

এবার রেকর্ডসংখ্যক প্রবাসী বংশোদ্ভূত ফুটবলার নিয়ে দল গড়েছে বাংলাদেশ। আসিয়ান কাপের স্কোয়াডে জায়গা না পাওয়া সৈয়দ কাজেম শাহ কিরমানিও ফিরেছেন দলে। জিদান ইউসুফ, তারিক কাজী ও জায়ান আহমেদের মতো ফুটবলাররা সামলাবেন রক্ষণভাগের দায়িত্ব। মাঝমাঠেও থাকছে প্রবাসী বংশোদ্ভূতদের উপস্থিতি। হামজা চৌধুরী ও শমিত সোমের সঙ্গে রয়েছেন অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া এবং কাজেম শাহ।

আক্রমণভাগে রয়েছেন আরও তিন প্রবাসী ফুটবলার, শুকি ইতফুসা, ফারহান আলী ওয়াহিদ ও ফাহমিদুল ইসলাম। সব মিলিয়ে ১২ জন প্রবাসী বংশোদ্ভূত ফুটবলারকে নিয়ে ২৩ বছর পর সাফের শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নামতে প্রস্তুত বাংলাদেশ।

ইনজুরি কাটিয়ে দলে ফিরেছেন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার তপু বর্মণ ও বিশ্বনাথ ঘোষ। রক্ষণভাগে রয়েছেন সাদ উদ্দিন ও রহমত শাহের মতো অভিজ্ঞ ফুটবলাররাও। ফিরেছেন ইশা ফয়সালও। এতগুলো বিকল্পের মধ্যে কাকে রেখে কাকে নিয়ে রক্ষণভাগ সাজাবেন ডুলি, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

মাঝমাঠে চার প্রবাসী বংশোদ্ভূত ফুটবলারের পাশাপাশি রয়েছেন দুই সোহেল রানা। দলে জায়গা ধরে রেখেছেন মোহাম্মদ হৃদয়ও। অন্যদিকে, আক্রমণভাগে স্থানীয়দের মধ্যে আছেন ইনজুরি থেকে ফেরা ফয়সাল আহমেদ ফাহিম এবং ফর্টিসের হয়ে দারুণ ছন্দে থাকা মোহাম্মদ ইবরাহীম।

আগের টুর্নামেন্টেই অভিষিক্ত মিনহাজুল করিম স্বাধীনও রয়েছেন স্কোয়াডে। আর রাকিব হোসেন ও শেখ মোরসালিন তো দলের অপরিহার্য অংশ। তাছাড়া গোলরক্ষক পজিশনে আছেন মিতুল মারমা, মেহেদী হাসান শ্রাবণ ও সুজন হোসেন। এবারও ডাক পায়নি সাইফ কেরাওয়ালা।

আগামী ৫ নভেম্বর ভুটানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে বাংলাদেশের সাফ মিশন। তবে শুরুতেই পাওয়া যাবে না হামজা, জায়ান ও ফারহানকে।

লেখক পরিচিতি

আল ওয়াসি তালুকদার

সাব এডিটর

Share via
Copy link