বাবার মতোই ‘অলরাউন্ডার’ ছেলে

‘বাপকা বেটা, সিপাহি কা ঘোড়া!’ বাবার পরিচয় ছাপিয়ে নিজের নাম প্রতিষ্ঠা করা মোটেও সহজ নয়। আর বাবা যদি হন আবদুল রাজ্জাকের মতো অলরাউন্ডার, তাহলে প্রত্যাশার চাপটা থাকবে একটু বেশিই। তবে ২২ বছর বয়সী আলী রাজ্জাক যেন সেই চাপকেই কাজে লাগাচ্ছেন নিজের সামর্থ্য দেখিয়ে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এখনো অভিষেক হয়নি, তবে পাকিস্তানের ঘরোয়া ক্রিকেটে ব্যাট হাতে তাঁর পারফরম্যান্স বলছে, নজর রাখতেই পারেন এই তরুণের ওপর।

ছক্কা হাঁকাতে পারেন, দ্রুত রান তুলতে পারেন, আবার দল বিপদে পড়লে ইনিংসের হালও ধরতে পারেন। আলীর ব্যাটিংয়ে আপাতত মিলছে এই তিনেরই আভাস। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টস ট্রফির শেষ রাউন্ডে অয়েল অ্যান্ড গ্যাসের বিপক্ষে একই ম্যাচে ৬৪ ও ১১১ রানের ইনিংস খেলেছেন তিনি।

১৪৯ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে যখন ধুঁকছিল আলীর দল ঘানি, তখন সাত নম্বরে ব্যাট করতে নামেন তিনি। সেখান থেকে হুসাইন তালাতের সঙ্গে ১০৯ এবং হাশিবুল্লাহ খানের সঙ্গে ১২০ রানের দুটি গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন। ১৫১ বলে ৮টি চার ও ৬টি ছক্কায় ১১১ রানে অপরাজিত থেকে দলকে বিপদ থেকে বের করে আনেন আলী। শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ড্র হয়।

প্রেসিডেন্টস ট্রফির চলতি মৌসুমে ১১ ইনিংসে ৪৮৩ রান করেছেন আলী, গড় ৫৩.৬৬। দুটি সেঞ্চুরির পাশাপাশি রয়েছে তিনটি অর্ধশতক। ঘানির হয়ে মৌসুমে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক তিনি। এর আগে স্টেট ব্যাংক অব পাকিস্তানের বিপক্ষে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়েও ১০১ রানের ইনিংস খেলেছিলেন।

বাবার সঙ্গে তুলনা উঠবেই। আবদুল রাজ্জাক ছিলেন এমন একজন ক্রিকেটার, যিনি ব্যাট হাতে দ্রুত ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারতেন, আবার বল হাতেও রাখতে পারতেন কার্যকর অবদান। ছেলেও অলরাউন্ডার, তবে এখনো বাবার মতো দুই বিভাগে সমান প্রভাব বিস্তার করতে পারেননি।

চলতি মৌসুমে সাত ইনিংসে ২৬.৪ ওভার বোলিং করে পেয়েছেন দুটি উইকেট। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১৬ ম্যাচে তাঁর মোট রান ৯৮৭, গড় ৩৯.৪৮। তবে আলীর ব্যাটিংয়ে আক্রমণাত্মক মেজাজের পরিচয় আগেও মিলেছে। এ বছরের শুরুতে ন্যাশনাল টি-টোয়েন্টি কাপে অভিষেকেই এক ওভারে তুলেছিলেন ২৬ রান। লাহোর ব্লুজের হয়ে মুলতান রিজিয়নের বিপক্ষে ২৬ বলে করেছিলেন ৪৫ রান।

বাবার মতো তারকা অলরাউন্ডার হতে পারবেন কি না, সেই উত্তর সময় দেবে। তবে ব্যাট হাতে যে আগমনী বার্তা দিচ্ছেন, তা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

 

লেখক পরিচিতি

আল ওয়াসি তালুকদার

সাব এডিটর

Share via
Copy link