উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের হাই ভোল্টেজ ম্যাচে অ্যানফিল্ডের রাত দেখল এক রোমাঞ্চকর কামব্যাক। খেলার শুরুতে পিছিয়ে পড়েও সিমিওনের জমাট রক্ষণে ফাটল ধরিয়ে ২-১ গোলের জয় ছিনিয়ে নিল অলরেডরা। ডমিনিক জোবোস্লাই এবং আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের ট্যাকটিকাল বুদ্ধিমত্তা ও ম্যাচের মাঝপথে কৌশলী পরিবর্তনই ম্যাচের চিত্র বদলে দেয়।
খেলার শুরু থেকেই দিয়েগো সিমিওনে তাঁর চেনা ৫-৩-২ ডিফেন্সিভ ফর্মেশনে দলকে সাজান। লিভারপুলের উইং প্লে বন্ধ করতে অ্যাতলেটিকো তাদের ফুলব্যাকদের বেশ ডিপে রেখে ডিফেন্সিভ ব্লক তৈরি করে।
ম্যাচের ১৭ মিনিটে ট্রানজিশন মোমেন্টের সুযোগ নিয়ে উইং দিয়ে দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকে উঠে প্রথম গোলটি করেন মার্কোস লরেন্টে। প্রাথমিক এই গোল লিভারপুলের জন্য বড় ধাক্কা হলেও তারা দ্রুতই খেলার ধরন বদলে ফেলে।

গোল খাওয়ার পর লিভারপুল কেবল উইং দিয়ে ক্রস না বাড়িয়ে মাঝমাঠে পজিশনাল রোটেশন শুরু করে। ডমিনিক জোবোস্লাই মাঝমাঠ থেকে বারবার অ্যাতলেটিকোর হাফ স্পেস এলাকায় ড্রাইভ করেন। অ্যাতলেটিকোর ব্যাকলাইনের অ্যাগ্রেশন কাটাতে দূর থেকে বক্সে ওভারল্যাপিং রান নিয়ে রোনাল্দ আরাউহোর পাস থেকে দারুণ ফিনিশিংয়ে স্কোরলাইন ১-১ করেন তিনি।
দ্বিতীয় অর্ধের শুরুতেই লিভারপুলের প্রেসিং ইনটেনসিটি বহুগুণ বেড়ে যায়। অ্যাতলেটিকো যখনই তাদের বক্স থেকে বল ক্লিয়ার করার চেষ্টা করছিল, লিভারপুলের মিডফিল্ড সেকেন্ড বল রিকভারিতে পুরোপুরি আধিপত্য বিস্তার করে।
এরকমই একটি সেকেন্ড বল রিকভারি থেকে ফাকা স্পেস পান আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। অ্যাতলেটিকো ডিফেন্ডাররা ক্লোজ-ডাউন করার আগেই দূরপাল্লার এক পাওয়ারফুল শটে বল জালে জড়িয়ে জয় নিশ্চিত করেন এই আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার।

পুরো ম্যাচজুড়ে অ্যাতলেটিকোর লো ব্লককে ভাঙতে লিভারপুল ডিফেন্ডারদের ওপরে তুলে এনে হাই লাইন ডিফেন্স খেলে, যা প্রতিপক্ষের ওপর নিরবচ্ছিন্ন চাপ তৈরি করে। একই সাথে ম্যাক অ্যালিস্টার ও জোবোস্লাইয়ের ক্রমাগত পজিশন চেঞ্জ করার ফলে অ্যাতলেটিকোর সেন্ট্রাল মিডফিল্ডাররা কাকে মার্ক করবেন তা নিয়ে দ্বিধায় পড়ে যান।
অ্যানফিল্ডের এই জয় প্রমাণ করে কেবল গতি বা শারীরিক শক্তি নয়, জমাট ডিফেন্সিভ প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মাঝমাঠের ট্যাকটিকাল নমনীয়তা ও হাই প্রেসিং দিয়েও জয় ছিনিয়ে নেওয়া সম্ভব।











