এশিয়া কাপের প্রথম সেমিফাইনালে আবারও সেই ভারতের কাছেই ৪০ রানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিল বাংলাদেশ নারী দল। হারটা নতুন কিছু নয়, তবে ম্যাচের ধরন দেখলে বোঝা যায় দুই দলের মধ্যে দূরত্বটা এখনো কতটা বড়।
টসে জিতে বাংলাদেশ ভারতকে আগে ব্যাটিংয়ে পাঠায়। শুরুতে ভারতের রানও তেমন দ্রুত উঠছিল না, পাওয়ারপ্লের পর সাত ওভারে মাত্র ৩৩ রান তোলে তারা। কিন্তু শেফালি ভার্মা এক প্রান্ত ধরে খেলে যান, তুলে নেন ৬৪ রান। শেষ দিকে দীপ্তি শর্মার ৬ বলে ১৩ রানের ছোট্ট ঝড় ভারতকে নিয়ে যায় ১৪৯ রানে। জবাবে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ থেমে যায় ১০৯ রানে। বল হাতেও দীপ্তি নেন ৩ উইকেট।
আসল পার্থক্যটা বোঝা যায় দুই দলের সাম্প্রতিক অবস্থান দেখলে। এবারের এশিয়া কাপে ভারত এক ম্যাচও হারেনি। গ্রুপ পর্বে থাইল্যান্ড, হংকং আর পাকিস্তানকে হারিয়ে পূর্ণ পয়েন্ট নিয়ে সেমিতে ওঠে তারা, পাকিস্তানকে তো মাত্র ৫৫ রানে গুটিয়ে দিয়ে জিতেছিল ৭ উইকেটে। এই জয়ের পর টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে টানা ষষ্ঠবারের মতো ফাইনালে উঠল ভারত, মানে এই ফরম্যাট চালু হওয়ার পর থেকে একবারও ফাইনাল থেকে বাদ পড়েনি তারা। বাংলাদেশ এখনো সেই জায়গায় পৌঁছাতে পারেনি।

মুখোমুখি লড়াইয়ের হিসাব দেখলে দূরত্বটা আরও স্পষ্ট হয়। দুই দল এ পর্যন্ত খেলেছে ২৪টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ, যার ২১টিতেই জিতেছে ভারত। বাংলাদেশের জয় মাত্র ৩টিতে, তার মধ্যে সবচেয়ে বড়টা ২০১৮ সালের এশিয়া কাপ ফাইনালে। সেই এক জয়ের পর গত আট বছরে বড় মঞ্চে আর তেমন সুবিধা করতে পারেনি বাংলাদেশ। অর্থাৎ একটা সময়ের ব্যতিক্রম বাদ দিলে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের লড়াইটা কখনোই সমানে সমান ছিল না।
এই ম্যাচেও সেই পুরনো ছবিটাই দেখা গেছে। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে শেফালির ক্যাচ ফেলেন ফাহিমা খাতুন, এরপর একই ব্যাটারের আরেকটা সুযোগ হাতছাড়া করেন নাহিদা আক্তার। দুবার জীবন পেয়ে শেফালিই দলের সবচেয়ে বড় ইনিংসটা খেলেন। রান তাড়া করতে নেমেও বাংলাদেশ ছন্দ ধরে রাখতে পারেনি, মাঝের ওভারে মাত্র ১৫ বলে ৩ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ কার্যত হাতছাড়া হয়ে যায়।
সব মিলিয়ে দেখলে ছবিটা পরিষ্কার। ভারত যেখানে টানা জিতে ফাইনালের পথে হাঁটছে, বাংলাদেশ সেখানে এখনো সেমিফাইনালের বাধাই পেরোতে পারছে না। পরিসংখ্যান থেকে মাঠের পারফরম্যান্স, সব জায়গাতেই দূরত্বটা এখন অনেকটাই স্থায়ী রূপ নিয়েছে।












