ফাতিমা সানার অনন্য অলরাউন্ড নৈপুণ্য ও অতিমানবীয় লড়াই সত্ত্বেও শেষ রক্ষা হলো না পাকিস্তানের। নারী এশিয়া কাপের হাইভোল্টেজ দ্বিতীয় সেমিফাইনালে লঙ্কানদের কাছে হেরে স্বপ্নের ইতি ঘটলো পাকিস্তান নারী দলের। ব্যাটে-বলে প্রতিপক্ষকে একাই ধসিয়ে দেওয়ার সব রোমাঞ্চকর নাটকীয়তা রচনা করেও দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছাতে পারলেন না একাকী ফাইট করে যাওয়া এই অধিনায়ক।
টস হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে পাকিস্তান যখন মারাত্মক টপ-অর্ডার বিপর্যয়ে পড়ে, তখন দলের হাল ধরেন সানা। ধুঁকতে থাকা দলের সম্মানজনক পুঁজ নিশ্চিত করতে প্রথমে গুল ফিরোজার সঙ্গে ৪০ রানের অতি প্রয়োজনীয় জুটি গড়েন।
ফিরোজা বিদায় নিলে শেষ দিকে তাণ্ডব চালিয়ে তুবা হাসানকে সাথে নিয়ে ২৪ বলে ৩৮ রানের এক বিধ্বংসী অপরাজিত জুটি উপহার দেন। সানার ৩৬ বলে অপরাজিত ৪৭ রানের ঝোড়ো ইনিংসেই ভর করে পাকিস্তান নির্ধারিত ওভারে ১৩০ রানের লড়াকু পুঁজি সংগ্রহ করে।

১৩১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নামা শ্রীলঙ্কার ওপর শুরুতেই বল হাতে আঘাত হানেন সানা। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারের পরপর দুই বলে শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক আথাপাত্তু এবং সানজানা কাবিন্দিকে সাজঘরে ফিরিয়ে লঙ্কান টপ অর্ডার গুঁড়িয়ে দেন।
কিন্তু মাঝের ওভারে শ্রীলঙ্কার মিডল অর্ডার ৬৭ রানের বিশাল জুটি গড়ে ম্যাচ পাকিস্তান থেকে ছিনিয়ে নিতে শুরু করে।ম্যাচের সেই ক্রাঞ্চ মোমেন্টেও আবারও দৃশ্যপটে হাজির হন পাক অধিনায়ক।
১৭তম ওভারের প্রথম বলেই বিপজ্জনক হয়ে ওঠা সেট ব্যাটার হার্শিতা সামারাবিক্রমাকে আউট করে বিপজ্জনক জুটি ভাঙেন। ঠিক একই ওভারের শেষ বলে লেগ বিফোর উইকেটের ফাঁদে ফেলেন আরেক সেট ব্যাটার কবিশা দিলহারিকে।

এক ওভারে জমে যাওয়া দুই সেট ব্যাটারকে ফিরিয়ে চার উইকেট তুলে নিয়ে লঙ্কানদের জয় প্রায় রুদ্ধ করে দিয়েছিলেন সানা। কিন্তু সতীর্থদের কাছ থেকে উপযুক্ত সাপোর্ট না মেলায় সানার এই অবিস্মরণীয় ‘ওয়ান ম্যান শো’ শেষ পর্যন্ত এক ট্র্যাজিক হিরোর গল্পেই পরিণত হলো।











