দর্শকদের জন্য ফ্যান লাগাচ্ছেন তামিম!

দর্শকদের সুবিধার কথা আসলে কজন ভেবেছেন? এতদিন কেউ না ভাবলে অবশেষে একজন ভেবেছেন, তিনি তামিম ইকবাল খান। দর্শকদের কথা চিন্তা করে গ্যালারিতে ফ্যান লাগানোর উদ্যোগ নিচ্ছেন তিনি। 

কখনো বৃষ্টি মাথায় কখনও গ্রীষ্মের তপ্ত দুপুরের গরম উপেক্ষা করে মাঠে আসেন দর্শকরা। লক্ষ্য একটাই, বাংলাদেশ দলকে উৎসাহ দেওয়া, লিটন দাসদের জন্য গলা ফাটানো। তবে এই দর্শকদের সুবিধার কথা আসলে কজন ভেবেছেন? এতদিন কেউ না ভাবলে অবশেষে একজন ভেবেছেন, তিনি তামিম ইকবাল খান। দর্শকদের কথা চিন্তা করে গ্যালারিতে ফ্যান লাগানোর উদ্যোগ নিচ্ছেন তিনি।

দর্শকরা ক্রিকেটের প্রাণ, খাঁ খাঁ করা স্টেডিয়াম প্রাণ ফিরে পায় তাদের জন্যই। তামিম ভালো করেই জানেন সেটা, এককালে তার জন্যও তো এই দর্শকরা হাতে প্ল্যাকার্ড তুলে ধরেছেন, সুসময়, দুঃসময়ে পাশে থেকেছেন। এবার যে প্রতিদান দেওয়ার সময় এসেছে।

অ্যাডহক কমিটি গঠনের পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতির আসনে বসেছেন তামিম। অনেকবারই বলেছেন সুযোগ পেলে ক্রিকেটের জন্য অনেক কিছু করবেন। অল্প সময়ের মধ্যে তামিম তার কথা রেখেছেন। ক্ষমতা হাতে পেয়েই একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছেন। সেখানে ক্রিকেটারদের বেতন বাড়ানোর মতো বিষয় যেমন আছে, তেমনই দর্শকদের সুবিধার কথাও ঠাঁই পেয়েছে।

স্টেডিয়ামে চড়া মূল্যে খাবার কিনতে হতো দর্শকদের। তামিম সেটা কমিয়ে এনেছেন। এবার সেই দর্শকদের আরামের কথা চিন্তা করে গ্যালারিতে ফ্যান বসানোর প্রয়াস দেখাচ্ছেন।

একটা টি-টোয়েন্টি ম্যাচ ৩-৪ ঘণ্টা, আর ওয়ানডে বা টেস্ট হলে তো আরও দীর্ঘ সময় বসে থাকতে হয়। ফ্যান থাকলে মানুষ দীর্ঘ সময় গ্যালারিতে থাকতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে, যা সরাসরি দর্শক উপস্থিতি বাড়াতে সাহায্য করবে।

শুধু তাই নয়, এটি হিট-স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করবে। অতিরিক্ত গরমে মাথা ঘোরা, ডিহাইড্রেশন, এসব ঝুঁকি থাকে। ফ্যান বাতাস চলাচল বাড়িয়ে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি কিছুটা কমে।

তামিম এসব নিয়ে ভেবেছেন। তবে এই উদ্যোগ এখনো পরীক্ষামূলক অবস্থায় আছে। প্রথমে পরখ করে দেখা হবে এটা আসলে কতটা কার্যকর, আদৌ এর সফলতা পাওয়া যাবে কিনা। পরীক্ষায় ইতিবাচক ফলাফল আসলে, তবেই পুরো শেরে-বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে বসবে ফ্যান।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে, এ নিয়ে তামিম লেখেন, ‘মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে এই ধরনের ফ্যান বসানোর চেষ্টা করছি আমরা। এটা একদমই পরীক্ষামূলক ব্যবস্থা আপাতত। শেডগুলো এই ফ্যানকে ধারণ করতে পারবে কি না, ফ্যান বসালেও কতটা কার্যকর হয়, এসব আমরা পরীক্ষা করে দেখব। যদি কার্যকারিতা বুঝতে পারি, তখন মিরপুরে গ্যালারির ছাউনি থাকা অংশগুলোয় এই ফ্যান আমরা বসাব এবং পরবর্তীতে চেষ্টা করা হবে অন্যান্য মাঠেও ব্যবহার করার।’

সব ঠিকঠাক থাকলে এটা হয়তো দর্শকদের জন্য স্বস্তি হয়ে আসবে। প্রচণ্ড গরম সহ্য করে আর খেলা দেখতে হবে না গ্যালারিতে বসে।

লেখক পরিচিতি

প্রত্যয় হক কাব্য

স্বপ্ন লেখার কি-বোর্ড

Share via
Copy link