টি-টোয়েন্টির লড়াই মানেই স্নায়ুর চূড়ান্ত পরীক্ষা। বাংলাদেশ দলের জন্য ১৮০ ছাড়ানো রান তাড়া করে জেতাটা বরাবরই হিমালয় জয়ের মতোই কঠিন। টি-টোয়েন্টির ইতিহাসে এখন পর্যন্ত মাত্র তিনবার এই অসাধ্য সাধন করেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
- নিদাহাস ট্রফি (২০১৫)

শ্রীলঙ্কার প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে সেদিন তৈরি হয়েছিল এক নতুন ইতিহাস। লঙ্কানদের দেয়া ২১৫ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ যে জিততে পারে, তা হয়তো অতিবড় আশাবাদী সমর্থকও ভাবেননি।
কিন্তু মুশফিকুর রহিমের ৩৫ বলে ৭২ রানের সেই টর্নেডো ইনিংসটি আজও ভক্তদের হৃদয়ে গেঁথে আছে। তামিম ইকবালের ৪৭ এবং লিটন দাসের ঝড়ো ৪৩ রানের ওপর ভর করে ক্রিকেট বিশ্বকে অবাক করে দিয়েছিল বাংলাদেশ। সেটিই ছিল টাইগারদের ইতিহাসে প্রথম ১৮০ ছাড়ানো রান তাড়া করে জয়ের মহাকাব্য।
- জিম্বাবুয়ে সিরিজ (২০২১)

২০২১ সালে জিম্বাবুয়ের মাটিতে লক্ষ্য ছিল ১৯৪ রান। ওপেনার সৌম্য সরকারের ৬৮ এবং মাহমুদউল্লাহর দায়িত্বশীল ব্যাটিং জয়ের ভিত গড়ে দেয়। কিন্তু ম্যাচের শেষাংশে আবির্ভাব হয় শামীম পাটোয়ারীর।
মাত্র ১৫ বলে ৩১ রানের এক বিধ্বংসী ক্যামিও খেলেন তিনি। ২০০-এর বেশি স্ট্রাইকরেটে অপরাজিত থেকে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন এই তরুণ। সেই ম্যাচটিই ছিল টাইগারদের টি-টোয়েন্টিতে দ্বিতীয় সফল চেজ।
- নিউজিল্যান্ড সিরিজ (২০২৬)

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে লক্ষ্য ছিল ১৮৩! টপ অর্ডার তেমন জ্বলে না উঠলেও দলের হাল ধরেন মিডল অর্ডারের ব্যাটাররা। তাওহীদ হৃদয়ের ব্যাট থেকে এলো ৫১ রানের নান্দনিক এক ইনিংস। সাথে পারভেজ হোসেন ইমনের ঝোড়ো ইনিংস।
ইমন ফিরে গেলে ব্যাট হাতে ক্রিজে আসেন শামীম পাটোয়ারী। ঠিক যেন ২০২১ সালের সেই হারারে ম্যাচের অ্যাকশন রিপ্লে! আজকেও তিনি সেই অপ্রতিরোধ্য ভঙ্গিতে শুরু করলেন। খেললেন মাত্র ১৩ বলে ৩১ রানের এক ঝড়ো ক্যামিও। আবারও জয় নিশ্চিত করে যখন মাঠ ছাড়লেন, নামের পাশে অপরাজিত ৩১ রান! এটিই ছিল টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে বাংলাদেশের তৃতীয় সফলতম রান তাড়া।











