বাংলাদেশ ক্রিকেটে নতুন ভোরের আভাস, পুরোনো কাঠামো ভেঙে ভবিষ্যতের জন্য গড়া হচ্ছে এক শক্তিশালী সেতু! দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় ছিল জাতীয় দলের পাইপলাইন। কোথাও যেন ছন্দপতন, কোথাও পরিকল্পনার ঘাটতি। সেই শূন্যতা পূরণ করতেই এবার বড়সড় পরিবর্তনের পথে হাঁটছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড(বিসিবি)। নতুন করে সাজানো হচ্ছে হাইপারফরম্যান্স ইউনিট(এইচপি), যেখানে শুধু প্রতিভা নয়, গুরুত্ব পাবে ধারাবাহিক উন্নয়ন আর কাঠামোগত শৃঙ্খলা।
এই পরিবর্তনের কেন্দ্রে আছেন তামিম ইকবাল। অ্যাডহক কমিটির দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, শুধু জাতীয় দল নয়, তার পেছনের ভিত্তিটাই হতে হবে মজবুত। সেই ভাবনা থেকেই এইচপি ইউনিটকে বড় পরিসরে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা। শোনা যাচ্ছে, খুব শিগগিরই একটি বিস্তৃত রোডম্যাপ উপস্থাপন করবেন তিনি, যেখানে জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ সরবরাহ লাইনকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
এই নতুন রূপকল্পের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন ‘বাংলাদেশ টাইগার্স’ অধ্যায়ের ইতি। একসময় জাতীয় দলের বাইরে থাকা ক্রিকেটারদের প্রস্তুত রাখার উদ্দেশ্যে গড়া হলেও, বাস্তবে প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে এই উদ্যোগ। বড় বাজেট থাকা সত্ত্বেও কার্যকর পরিকল্পনার অভাবে সেটি ধীরে ধীরে গুরুত্ব হারিয়েছে। তাই এবার সেই জায়গাটিকে সরিয়ে দিয়ে একই লক্ষ্যকে আরও সুসংগঠিতভাবে যুক্ত করা হচ্ছে এইচপি কাঠামোর ভেতরেই।

নতুন পরিকল্পনায় বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে ‘এ’ দল। জাতীয় দলের দরজায় কড়া নাড়া ক্রিকেটার এবং ছিটকে পড়া অভিজ্ঞদের নিয়ে গড়া হবে একটি প্রতিযোগিতামূলক স্কোয়াড। বছরের বিভিন্ন সময়ে সিরিজ ও সফরের মধ্য দিয়ে তাদের পারফরম্যান্স যাচাই করা হবে। অর্থাৎ, জাতীয় দলে ফেরার পথটা এখন আরও স্পষ্ট, পারফরম্যান্সই হবে একমাত্র মাপকাঠি।
আরেকটি বড় পরিবর্তন আসছে বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে। অনূর্ধ্ব-১৯ পেরিয়ে সরাসরি এইচপিতে ঢুকে পড়ার পথ আর আগের মতো সহজ থাকছে না। এখন থেকে তরুণদের জন্য তৈরি করা হচ্ছে একটি আলাদা উন্নয়ন ধাপ, যেখানে তাদের স্কিল, ফিটনেস ও মানসিক প্রস্তুতিকে পরিপূর্ণভাবে ঘষেমেজে নেওয়া হবে। লক্ষ্য একটাই, জাতীয় দলের সঙ্গে ব্যবধান যতটা সম্ভব কমিয়ে আনা।
পরিকল্পনাটি মাঠে গড়াতে খুব বেশি দেরিও নেই। সামনে রয়েছে জিম্বাবুয়ে এ দল-এর বাংলাদেশ সফর, যা হতে পারে এই নতুন অধ্যায়ের সূচনা মঞ্চ। এরপর ধারাবাহিকভাবে বিদেশ সফরের সূচিও সাজানো হবে, যাতে ক্রিকেটাররা বিভিন্ন কন্ডিশনে নিজেদের প্রমাণের সুযোগ পান।

কোচিং সেটআপেও আসছে পরিবর্তনের ইঙ্গিত। এইচপি ইউনিটের মাস্টারমাইন্ড হিসেবে দেখা যাবে মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন-কে, যিনি দীর্ঘদিন ধরে দেশের ক্রিকেটে প্রতিভা গড়ার কারিগর হিসেবে পরিচিত। তার সঙ্গে স্থানীয় কোচদের সমন্বয়ে তৈরি হতে পারে একটি শক্তিশালী সাপোর্ট স্টাফ।










