রোদে তামাটে হওয়া মুখ, কপালে জমে থাকা বিন্দু বিন্দু ঘাম আর চোখে একরাশ বিস্ময় – বাউন্ডারি লাইনের ঠিক ওপাশেই দাঁড়িয়ে থাকতো একদল কিশোর। মাঠের ভেতরে যখন ব্যাট-বলের লড়াই চলতো, তখন বাউন্ডারির বাইরে এই খুদে যোদ্ধাদের মনে চলতো আগামীর তারকা হওয়ার এক নি:শব্দ প্রস্তুতি। দীর্ঘ দুই দশকের বিরতি ভেঙে তামিম ইকবালের হাত ধরে সেই মায়াবী মুখগুলো আবারও ফিরছে বাংলাদেশের ক্রিকেট আঙিনায়।
আগামী সোমবার চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে শুরু হতে যাওয়া কিউইদের বিপক্ষে সিরিজটি দিয়েই এই হারানো ঐতিহ্য ফেরাচ্ছে বিসিবি। বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামের অনূর্ধ্ব-১৪ ও অনূর্ধ্ব-১৬ বয়সভিত্তিক দলের ২২ জন কিশোর ক্রিকেটারকে এবার বল বয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যে তারকাদের তারা টেলিভিশনের পর্দায় দেখে অভ্যস্ত, এবার তাদের খুব কাছ থেকে দেখার বিরল সুযোগ পাবে এই খুদে ক্রিকেটাররা।
মাঠের সেই খুদে স্বপ্নবাজদের এখন আর প্রথাগত ‘বল বয়’ নামে ডাকা হবে না। তাদের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে একটি সম্মানজনক ও অনুপ্রেরণাদায়ক পরিচয় – ‘ফিউচার স্টার্স’। বিসিবির এই উদ্যোগের পেছনে মূল লক্ষ্য হলো, কিশোরদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তোলা এবং তাদের বুঝিয়ে দেওয়া যে, তারা মাঠের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

এবার কেবল মাঠের ভেতরে থাকার সুযোগই নয়, বিসিবি এই খুদে ক্রিকেটারদের সুবিধা ও স্বাস্থ্যের দিকেও বিশেষ নজর দিয়েছে। রোদ-গরমের ধকল সামলে তারা যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে দায়িত্ব পালন করতে পারে, সেজন্য তাদের জন্য পর্যাপ্ত উন্নত মানের খাবার ও পানীয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সোনালী পাতা ওল্টালে দেখা যায় অনেক বড় তারকার শুরুটা হয়েছিল এখান থেকেই। মোহাম্মদ আশরাফুল থেকে শুরু করে তামিম ইকবাল কিংবা শাহরিয়ার নাফিস – সবাই কোন না কোন সময় এই বাউন্ডারি লাইনের পাশে দাঁড়িয়ে আগামীর স্বপ্ন বুনেছিলেন।
দীর্ঘ দুই দশক পর আবারও বাউন্ডারি লাইনে দাঁড়াবে একদল হাতে বল আর চোখে স্বপ্ন থাকা কিশোর। আজ যারা মাঠের বাইরে থেকে সিনিয়রদের খেলা দেখছে এবং যত্নে বল কুড়িয়ে দিচ্ছে, কোন এক কালে হয়তো তাদের নিখুঁত কাভার ড্রাইভ বা আগুনের গোলায় উত্তাল হবে গ্যালারি।












