এক দিনেই অরেঞ্জ ক্যাপের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ

চলতি আসরের এক রবিবাসরীয় বিকেল থেকে রাত অবধি ক্রিকেটবিশ্ব দেখল ব্যাটারদের এক অভূতপূর্ব 'মিউজিক্যাল চেয়ার' খেলা। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে অরেঞ্জ ক্যাপ বা সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের মুকুটটি হাতবদল হলো চার-চারবার।

আইপিএল যেন এক রোমাঞ্চকর নাট্যমঞ্চ, যেখানে প্রতি মুহূর্তেই চিত্রনাট্য বদলায়। চলতি আসরের এক রবিবাসরীয় বিকেল থেকে রাত অবধি ক্রিকেটবিশ্ব দেখল ব্যাটারদের এক অভূতপূর্ব ‘মিউজিক্যাল চেয়ার’ খেলা। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে অরেঞ্জ ক্যাপ বা সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের মুকুটটি হাতবদল হলো চার-চারবার।

শনিবারের রাতটা ছিল বিরাট কোহলির। গুজরাট টাইটানসের বিপক্ষে ৮১ রানের সেই ধ্রুপদী ইনিংসের পর অরেঞ্জ ক্যাপটা শোভা পাচ্ছিল তাঁর মাথাতেই। কিন্তু রবিবারের সূর্য ওঠার পরই শুরু হলো সিংহাসন দখলের লড়াই। দিনের শেষে সাত ম্যাচে ৩২৮ রান নিয়ে কোহলিকে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে তালিকার পঞ্চম স্থানে।

সিংহাসন চ্যুত হওয়ার এই মহাকাব্যের প্রথম নায়ক লোকেশ রাহুল।  দুপুরের তপ্ত রোদে পাঞ্জাব কিংসের বোলারদের ছাতু করে খেললেন অপরাজিত ১৫২ রানের এক অতিমানবীয় ইনিংস।

কোহলিকে টপকে রাহুল যখন শীর্ষে, ঠিক তখনই দিনের দ্বিতীয়  ম্যাচে আবির্ভাব তরুণ তুর্কি বৈভব সুরিয়াভানশির। আসরে নিজের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে বৈভবও পৌঁছে যান ৩৫৭ রানে। তবে ২৩৫.০০ স্ট্রাইক রেটের জাদুতে রাহুলকে নিচে ঠেলে দিয়ে বৈভবই বসেন চূড়ায়।

কিন্তু নাটকের শেষ অঙ্ক তখনও বাকি। রাতের আঁধারে রাজস্থান রয়্যালসের বিপক্ষে ৫৭ রানের এক ম্যাচ জেতানো টর্নেডো ইনিংস খেলেন অভিষেক শর্মা। আর তাতেই সব হিসেব উল্টে দিয়ে ৩৮০ রান নিয়ে দিনের চূড়ান্ত মুকুটটি ছিনিয়ে নেন সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের এই ওপেনার। ২১২.২৯ স্ট্রাইক রেটে খেলা অভিষেকের এই ইনিংস তাকে বসিয়েছে সবার উপরে।

​বর্তমানে অরেঞ্জ ক্যাপের লড়াইয়ে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে আছেন যথাক্রমে বৈভব ও রাহুল (উভয়েরই ৩৫৭ রান)। ৩৪৯ রান নিয়ে চারে আছেন বিধ্বংসী ব্যাটার হেইনরিখ ক্লাসেন। একই দিনে চার নক্ষত্রের এই শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই প্রমাণ করল – আইপিএল ২০২৬ স্রেফ টুর্নামেন্ট নয়, এ যেন এক ক্রিকেটীয় রণক্ষেত্র।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

জীবন তড়িৎ কোষে অ্যানোডে ক্রীড়ার উন্মাদনা আর ক্যাথোডে সাহিত্যের স্নিগ্ধ নির্যাস।

Share via
Copy link