বয়স কম, রক্ত গরম

সর্বকনিষ্ঠ পাঁচ বিশ্বজয়ী ফুটবলারদের নিয়ে থাকছে খেলা ৭১ এর আজকের আয়োজন।

বিশ্বকাপের সোনালী ট্রফি ছোঁয়া অনেক কিংবদন্তির কাছে যেখানে আজন্মের সাধনা, সেখানে মাত্র কয়েকজন প্রতিভাধর কিশোর বয়সেই এই দুর্লভ গৌরবের স্বাদ পেয়েছেন। সর্বকনিষ্ঠ পাঁচ বিশ্বজয়ী ফুটবলারদের নিয়ে থাকছে খেলা ৭১ এর আজকের আয়োজন।

  • থিয়েরি অরি (২০ বছর)

​ফ্রান্সের ১৯৯৮ বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নযাত্রায় ২০ বছরের তরুণ অরি ছিলেন এক উজ্জ্বল বিস্ময়। টুর্নামেন্টে ছয় ম্যাচে তিনটি গোল করে তিনি। যদিও ফাইনালে মাঠে নামার সুযোগ হয়নি, তবে সেই আসরের পারফরম্যান্সই তাকে আর্সেনাল ও ফ্রান্সের ইতিহাসে অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার হওয়ার ভিত গড়ে দেয়।

  • কিলিয়ান এমবাপ্পে (১৯ বছর)

২০১৮ সালে গতি আর ছন্দের জাদুতে ফুটবল বিশ্বকে মোহাবিষ্ট করেছিলেন ১৯ বছর বয়সী কিলিয়ান এমবাপ্পে। পেলের পর দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপের ফাইনালে গোল করার বিরল কীর্তি গড়েন তিনি। ২০২২ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে করা তার জোড়া গোলটি তাকে আগামীর মহাতারকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।

  • জিউসেপ্পে বার্গোমি (১৮ বছর)

১৯৮২ বিশ্বকাপে ইতালির রক্ষণে পাহাড় হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন ১৮ বছরের তরুণ বার্গোমি। ফাইনালে তৎকালীন বিশ্বসেরা ফরোয়ার্ড রুমেনিগের মতো খেলোয়াড়কে একক নৈপুণ্যে রুখে দিয়ে তিনি ফুটবল বিশ্বে সাড়া ফেলেন। পেশাদার ফুটবলে পা রাখার মাত্র এক বছরের মাথায় তিনি এই ঐতিহাসিক শিরোপার দেখা পান।

  • রোনালদো নাজারিও (১৭ বছর)

১৯৯৪ বিশ্বকাপে মাত্র ১৭ বছর বয়সে ব্রাজিল দলের সদস্য হিসেবে স্বর্ণপদক গলায় ঝোলান ‘দ্যা ফেনোমেনন’ খ্যাত রোনালদো নাজারিও। যদিও সেই আসরে তাকে এক মিনিটের জন্যও মাঠে দেখা যায়নি, তবে তার অবিশ্বাস্য প্রতিভা তখনই বিশ্ববাসীর নজর কেড়েছিল। পরবর্তী জীবনে ইনজুরি বাধা না হলে তিনি হয়তো ইতিহাসের ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যেতেন।

  • পেলে (১৭ বছর)

ফুটবল সম্রাট পেলে ১৯৫৮ সালে ১৭ বছর বয়সেই বিশ্ব ফুটবলকে নিজের পদানত করেন। ইনজুরি কাটিয়ে টুর্নামেন্টের মাঝপথে যোগ দিলেও তিনি কোয়ার্টার ফাইনালে গোল, সেমিফাইনালে হ্যাটট্রিক এবং ফাইনালে জোড়া গোল করে ব্রাজিলকে প্রথম বিশ্বকাপ এনে দেন। কান্নারত কিশোর পেলের সেই মুহূর্তটি আজও ফুটবলের চিরন্তন এক দৃশ্য।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link