বাংলাদেশ ক্রিকেটের দীর্ঘদিনের অপেক্ষা ছিল একজন বিশ্বমানের লেগ-স্পিনারের। বহু বিনিদ্র রজনী কাটানোর পর পাওয়া গিয়েছিল রিশাদ হোসেনকে, কিন্তু, তাঁকে ব্যবহার করা হচ্ছে না দক্ষ হাতে। রিশাদের প্রতিভা যেন এই দেশে ব্যবহারের জন্যই নয়।
সদ্য শেষ হয়েছে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। যেখানে চট্টগ্রামে হওয়া তৃতীয় ম্যাচ ছিল সিরিজের বিজয়ী নির্ধারণী। আগের দুই ম্যাচে দলে থাকলেও সেই ম্যাচেই একাদশ থেকে বাদ পড়েন রিশাদ।
চট্টগ্রামের সাগরিকার পিচটা ব্যাটিংয়ের পক্ষে অত্যন্ত সুবিধাজনক। এসব জায়গায় রিশাদের মতো লেগ-স্পিনাররাই বেশি কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারতেন। কিন্তু, তাঁকেই বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

যেসব ম্যাচে সুযোগ পান সেগুলোতেও রিশাদকে ঠিকমতো ব্যবহার করা হয় না। দ্বিতীয় ম্যাচে কোটার দশ ওভার বল করলেও প্রথম ম্যাচে হাত ঘুরিয়েছেন মাত্র পাঁচ ওভার। আগের সিরিজগুলোই এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়েছে বহুবার।
গত অক্টোবরে ঘরের মাঠে মোকাবিলা করেছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের। প্রথম ম্যাচেই ক্যারিয়ার সেরা বোলিং করে ৩৫ রানে শিকার করেন ছয় উইকেট। বাকি দুই ম্যাচেও নজরকাড়া বোলিং করে সিরিজে শিকার করেন মোট ১২ উইকেট।
ক্যারিবিয়ানদের সামলে অস্ট্রেলিয়া উড়ে যান বিগব্যাশে হোবার্ট হ্যারিক্যান্সের হয়ে। দেশের চেয়ে ভিন্ন এক কন্ডিশনে বল করতে হলেও রিশাদ থামবেন কেন? ১১ ম্যাচে ১৫ বার সাজঘরে ফিরিয়েছিলেন প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের। হন স্পিনারদের মধ্যে যৌথভাবে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারী।

নিজের স্বল্পকালীন ক্যারিয়ারের সেরা সময় কাটাতে থাকার মুহূর্তে মুখোমুখি হন পাকিস্তানের। যেখানে প্রথম ম্যাচে মাত্র দুই ওভার বল করার সুযোগ দেওয়া হয় তাঁকে। পরের ম্যাচে ৯.৩ ওভার বল করে তিন উইকেট শিকার করলেও শেষ ম্যাচে বল হাতে আসে মাত্র সাত ওভারের জন্য।
একের পর সিরিজ যাচ্ছে। কিন্তু, যে বিষয়টার কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না তা হলো রিশাদকে ঠিকমতো কাজে লাগাতে না পারা। তাঁর মতো প্রতিভা বিশ্বেই আছে হাতেগোণা সেখানে বাংলাদেশ পেয়েও যেন দাম দিতে পারছে না।
যখনই যেখানে সুযোগ পেয়েছেন, সকল জায়গাতেই নিজের প্রতিভার চিহ্ন রেখে গেছেন রিশাদ। যদিও দল কাজে লাগাচ্ছে না যথাযথভাবে। তাঁকে সঠিক পথে ব্যবহার করতে না পারাটা ব্যর্থতা ছাড়া কোনো ফলই নিয়ে আসবে না বাংলাদেশের জন্য।











