আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা শুরুর পর প্রায় ১৩ বছর বাংলাদেশকে অপেক্ষা করতে হয়েছিল প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলার জন্য। সেখানে আজকের দিনে এসে বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেও খেলতে পারেনি বাংলাদেশ। তাও কেবল এক উপদেষ্টার দম্ভের কারণে। এমন ঘটনা ক্রিকেটের জন্য নিশ্চয় শোভনীয় নয়।
২০২৪ সাল পর্যন্ত হওয়া প্রতিটি বিশ ওভারের বিশ্বকাপেই অংশ নিয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু, চিত্রটা বদলে গেল ২০২৬ সালের ভারত-শ্রীলঙ্কা বিশ্বকাপে এসে। দেশের তৎকালীন আইন ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এমন গোয়ার্তুমি করেন যে খেলতে যেতে পারেনি লিটন দাসের দল।
চলতে থাকা ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) নিলাম থেকে একমাত্র বাংলাদেশি হিসেবে মুস্তাফিজুর রহমানকে কিনেছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স। কিন্তু, জানুয়ারিতে এসে হুট করে তাঁকে রিলিজ করে দেয় দলটি। জানা যায়, এমন কাজের পেছনে নির্দেশ আছে ভারতের ক্রিকেট বোর্ডের।

বিসিবির সেই সময়ের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল ঠিক করেন তাঁরা চিঠি লিখবেন ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থাকে। পুরো বিষয়ের ভার ছেড়ে দিবেন আইসিসির ওপরে। কিন্তু, সেখানেই বাদ সেজে বসেন আসিফ নজরুল।
বিসিবি চিঠি পাঠানোর আগেই ফেসবুক পোস্টে জানিয়ে দেন, বাংলাদেশের পক্ষে ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়া নিরাপদ নয়। বরং, খেলা হতে হবে শ্রীলঙ্কায়। এমনকি উপদেষ্টা আইপিএলের নির্দেশনা বন্ধের কথাও জানান।
এরপর দর্শকদের সামনে মঞ্চায়িত হয় এক কূটনৈতিক ব্যর্থতা। শ্রীলঙ্কায় খেলতে যাওয়ার গো ধরে বসে থাকা বাংলাদেশ আইসিসির ভোটে হারে বড় ব্যবধানে। সমস্ত প্রস্তুতি নিয়ে বসে হাকার পরেও বিশ্বকাপের বিমানে উঠা হয়নি লিটন দাসদের পক্ষে।

বর্তমান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক ঘটনায় জানিয়েছেন নিজের অসন্তোষ। কেবলমাত্র বিসিবির নির্বাচন নয় বরং বিশ্বকাপে খেলতে না যাওয়ার বিষয় নিয়েও তদন্ত হবে বলে তিনি জানান। বের করে আনতে চান প্রকৃত ঘটনা।
ক্রীড়া উপদেষ্টা হিসেবে আসিফ নজরুল তখন ক্রীড়াঙ্গনের প্রধান অভিভাবক। নিজের কাজে সেই মর্যাদা রাখতে পারেননি তিনি। তাঁর অপরিণত সিদ্ধান্তের কারণেই বিশ্বকাপের অংশ থেকেই দর্শক বনে যেতে হয়েছে বাংলাদেশকে।









