ফুটবল বিশ্বে রিয়াল মাদ্রিদ মানেই এক অদম্য লড়াইয়ের গল্প। খাদের কিনারা থেকে ফিরে আসার জাদুকরী ক্ষমতা তাদের রক্তে। তবে এবারের লা লিগার সমীকরণটা যেন একটু বেশিই জটিল। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার চেয়ে এক ম্যাচ বেশি খেলে নয় পয়েন্টে পিছিয়ে থেকেও কি শিরোপা জেতা সম্ভব?
বার্সেলোনা কোচ হানসি ফ্লিক নিজেও অবশ্য স্বস্তিতে নেই। তিনি প্রতিপক্ষকে সম্মান জানিয়েই বললেন, ‘এটি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত এক রক্তক্ষয়ী লড়াই হবে। আমি জানি রিয়াল মাদ্রিদ সহজে হার মানবে না।’
লিগে রিয়ালের হাতে আছে আর মাত্র ছয়টি ম্যাচ, বার্সেলোনার ছয়টি। লস ব্ল্যাঙ্কোদের সামনে এখন একটাই পথ – বাকি সব ম্যাচে জয়। যদি তারা শেষ ছয় ম্যাচের ১৮ পয়েন্ট ঘরে তুলতে পারে, তবে তাদের মোট সংগ্রহ দাঁড়াবে ৯১। ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যায়, গত সাত মৌসুমের ছয়বারই এই পয়েন্ট চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোনো বাড়তি চাপ না থাকায় আরবেলোয়ার শিষ্যরা এখন সম্পূর্ণ মনোযোগ দিতে পারবে স্পেনে। মাদ্রিদের জন্য স্বস্তির বিষয় হলো, রিয়াল বেটিস এবং বার্সেলোনা বাদে বাকি দলগুলো পয়েন্ট টেবিলের দশ নম্বর বা তার নিচে অবস্থান করছে।
মাদ্রিদ সব ম্যাচ জিতলেও তাদের ভাগ্য ঝুলে থাকবে বার্সেলোনার হারের ওপর। লিগ জিততে হলে মাদ্রিদকে কেবল এল ক্লাসিকোতে জিতলেই হবে না, বরং প্রার্থনা করতে হবে যেন ফ্লিকের দল আরও অন্তত দুটি ম্যাচে হোঁচট খায়। ৩২ ম্যাচের মধ্যে যারা মাত্র চারটিতে হেরেছে, তাদের বাকি ছয় ম্যাচে দুইবার হারানো কতটা বাস্তবিক, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।
তবুও ধরে নেওয়া যাক, সব হিসাব যদি মিলে যায় এবং লিগ শেষে দুই দলের পয়েন্ট সমান (৯১) হয়, তবে স্প্যানিশ লিগের নিয়ম অনুযায়ী ‘হেড-টু-হেড’ বা এর ভিত্তিতে বিজয়ী নির্ধারিত হবে। অক্টোবরে বার্নাব্যুতে ২-১ ব্যবধানে জেতার কারণে এই লড়াইয়ে মাদ্রিদই এগিয়ে।

মাঠের লড়াই শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত সব সমীকরণই কেবল শুষ্ক পরিসংখ্যান আর সাদা-কালো কাগজের খেলা। তবে ইতিহাসের কামব্যাক কিংসখ্যাত রিয়াল মাদ্রিদকে যারা চেনেন, তারা জানেন, যতক্ষণ তাত্ত্বিকভাবে সম্ভাবনা টিকে থাকে, ততক্ষণ লস ব্ল্যাঙ্কোসদের মৃত ঘোষণা করা বিপজ্জনক।











