রয়ের ব্যাটে জ্বলে উঠল প্রতিরোধের আলো!

সবাই যখন অন্ধকারে পথ হারায়, কেউ কেউ তখন মশাল হয়ে সামনে আসে, বাকিদের আলো হয়ে পথ দেখায়। জেসন রয় ঠিক সেটাই করলেন।

সবাই যখন অন্ধকারে পথ হারায়, কেউ কেউ তখন মশাল হয়ে সামনে আসে, বাকিদের আলো হয়ে পথ দেখায়। জেসন রয় ঠিক সেটাই করলেন। পেশোয়ার জালমির বোলিং তোপে যখন করাচি কিংসের একের পর এক ব্যাটার আত্মাহুতি দিয়ে ফিরছে, সেখানেই বুক ফুলিয়ে দাঁড়িয়ে থাকলেন।

আগে ব্যাট করতে নামা করাচির একপ্রান্তে হোঁচট খেতে থাকে। প্রতিপক্ষ বোলারদের তোপে একের পর এক উইকেট পড়তে থাকে। টপ অর্ডার ভেঙে পড়ে, মিডল অর্ডারও দিতে পারেনি কোনো ভরসা। যেন উইকেটের এ প্রান্তে জেসন রয়, আর ও প্রান্তে হতাশার দীর্ঘশ্বাস, এভাবেই এগোচ্ছিল করাচির ইনিংস।

এই ধ্বংসস্তূপের মাঝেই একা দাঁড়িয়ে ছিলেন জেসন। চারপাশে যখন কেবল ব্যর্থতার গল্প, তখন তাঁর ব্যাট থেকেই বের হচ্ছিল প্রতিরোধের আলো। ধৈর্য আর আগ্রাসনে নিজের ইনিংসটা গড়ে তুলেছেন নিখুঁত পরিকল্পনায়। প্রতিটি বল খেলেছেন বুঝেশুনে, আবার সুযোগ পেলেই করেছেন নির্মম আক্রমণ।

অন্যদিকে একমাত্র কিছুটা প্রতিরোধ গড়েছিলেন আজম খান। তাঁর ৩৫ রানের ইনিংসটা ছিল ক্ষণিকের স্বস্তি। কিন্তু সেটাও থেমে যায় খুব দ্রুতই। বাকিরা কেউই পৌঁছাতে পারেননি উল্লেখযোগ্য কোনো স্কোরে। ফলে পুরো দায়িত্বটা এসে পড়ে রয়ের কাঁধে, আর সেই দায়িত্ব তিনি কাঁধে নিয়েছেন একদম নিখুঁতভাবে।

মাত্র ৫১ বলে ৮৫ রান, সংখ্যাটা যেমন চোখে পড়ে, তার চেয়েও বেশি দৃষ্টিনন্দন ছিল তাঁর ব্যাটিংয়ের ধরন। বাউন্ডারি আর ছক্কায় সাজানো ইনিংস, কিন্তু তার ভেতরে ছিল এক গভীর দায়িত্ববোধ। যেন জানতেন, আজ যদি তিনি না দাঁড়ান, তাহলে সব শেষ।

নিজের খেলা প্রথম দুই ম্যাচে তাঁর ব্যাট ছিল নীরব। কিন্তু তৃতীয় ম্যাচেই তিনি দেখিয়ে দিলেন নিজের আসল রূপ। বড় খেলোয়াড়রা তো চাপের মুখেই নিজেদের সামর্থ্য দেখায়, রয় সেটাই করেছেন। মূলত তাঁর হাত ধরেই করাচি তুলেছে ১৮২ রানের লড়াকু পুঁজি।

লেখক পরিচিতি

প্রত্যয় হক কাব্য

স্বপ্ন লেখার কি-বোর্ড

Share via
Copy link