পরীক্ষা-নিরীক্ষার সংস্কৃতি কি তবে ফিরছে?

দীর্ঘ সময় ধরে আমরা আমাদের শক্তির গভীরতা বা ‘পাইপলাইন’ নিয়ে এক ধরণের রক্ষণশীল মানসিকতা লালন করেছি। যার ফলে বড় আসরে অপ্রস্তুতভাবে খেলোয়াড়দের নামিয়ে দিয়ে ক্যারিয়ারের শুরুটাই করতে হয় ব্যর্থতার বোঝা নিয়ে।

​বাংলাদেশ ক্রিকেটে একাদশ গঠন মানেই যেন এক চিরচেনা ধাঁচ। কিছু নাম সেখানে অবধারিত, কিছু মুখ সেখানে অপরিহার্য। দীর্ঘ সময় ধরে আমরা আমাদের শক্তির গভীরতা বা ‘পাইপলাইন’ নিয়ে এক ধরণের রক্ষণশীল মানসিকতা লালন করেছি। যার ফলে বড় আসরে অপ্রস্তুতভাবে খেলোয়াড়দের নামিয়ে দিয়ে ক্যারিয়ারের শুরুটাই করতে হয় ব্যর্থতার বোঝা নিয়ে। তবে ২০২৬ এ এসে সেই অচলায়তন ভাঙার এক ঝোড়ো হাওয়া বইতে শুরু করেছে।

​তানজিদ হাসান তামিমের কথাই ধরুন। দেশসেরা ওপেনার তামিম ইকবালের বিকল্প হিসেবেই বাংলাদেশ স্কোয়াডে আসেন তিনি। এমনকি নামে মাত্র দুই-এক ম্যাচ দেখেই বিশ্বকাপের মতো কঠিন মঞ্চে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল তাকে। ফলাফল? ক্যারিয়ারের শুরুটা হয়েছে ভয়াবহ রকমের বাজে।

যদি তাকে এর আগে জিম্বাবুয়ে কিংবা আয়ারল্যান্ডের মতো অপেক্ষাকৃত ছোট দলগুলোর বিপক্ষে সিরিজ খেলিয়ে আন্তর্জাতিক মেজাজের সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়া হতো, তবে আজ তাকে এত লম্বা সময় ধুঁকতে হতো না।

​আমাদের পাশের দেশ ভারত কেন আজ ক্রিকেটের পরাশক্তি? তার উত্তর লুকিয়ে আছে তাদের ‘এ’ দল এবং ব্যাকআপ তৈরির প্রক্রিয়ায়। তারা শুভমান গিল কিংবা যশস্বী জয়সওয়ালদের হঠাৎ করে বড় ম্যাচে ছুড়ে দেয় না। আয়ারল্যান্ড বা জিম্বাবুয়ের মতো দলগুলোর বিপক্ষে সিরিজগুলোতে এই তরুণদের খেলিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য পাকাপোক্ত করা হয়।

ফলে যখন তারা বড় কোনো সিরিজে মূল দলে সুযোগ পায়, তখন তারা মোটেও নবাগতদের মতো নার্ভাস থাকে না।ভারত তাদের পাইপলাইনকে প্রস্তুত করে মাঠের অভিজ্ঞতায়, আর আমরা প্রস্তুত করি নেটের অনুশীলনে – পার্থক্যটা এখানেই।

মুস্তাফিজুর-তাসকিনদের মতো নিয়মিত পারফর্মারদের সরিয়ে নিউজিল্যান্ডের আনকোরা এই দলের সাথে রিপন ও সাকলাইনকে সুযোগ দেওয়াটা সেই পুরনো ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়ারই বহি:প্রকাশ।

কেন আমরা নতুনদের সুযোগ দিতে ভয় পাই? কারণ হলো হারলে জনরোষ আর সমালোচনার ভয়। সিরিজ হারলে কি জবাবদিহি করতে হবে, এই চিন্তায় আমরা আমাদের মূল একাদশকেই বারবার ঘানি টানাই। ফলে আজও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের অবসর পরবর্তী একজন জেনুইন ফিনিশার পাচ্ছি না আমরা।

কিন্তু ২০২৬ সালে এসে ম্যানেজমেন্ট যে সাহস দেখিয়েছে, তাকে সাধুবাদ জানানো উচিত। সমালোচনার ভয়কে তুড়ি মেরে উড়িয়ে তারা রিপন আর সাকলাইনদের মতো তরুণদের সামনে এনেছে। বড় প্রেক্ষাপটে চিন্তা করলে, একটা সিরিজ হারলে হয়তো সাময়িক সমালোচনা হবে, কিন্তু একজন রিপন বা সাকলাইন যদি তৈরি হয়ে যান, তবে আগামী এক যুগ বাংলাদেশ ক্রিকেট তার সুফল পাবে।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

জীবন তড়িৎ কোষে অ্যানোডে ক্রীড়ার উন্মাদনা আর ক্যাথোডে সাহিত্যের স্নিগ্ধ নির্যাস।

Share via
Copy link