কেন ফোটে, কেন কুসুম ঝরে যায়!

মার্কিন ক্রিকেটের অখ্যাত ২২ গজে ফুটেছিল এক অনবদ্য কুসুম। সৌন্দর্য আর সৌরভ ছড়িয়ে অল্পকালের ভেতরেই যিনি ঝরে গেছেন। তিনি নেজাম আহমেদ হাফিজ।

ফুটবল, বাস্কেটবল কিংবা গলফের ডামাডোলে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিকেট কখনো সেভাবে আলো ছড়ায়নি। তবু, মার্কিন ক্রিকেটের অখ্যাত সেই ২২ গজেই ফুটেছিল এক অনবদ্য কুসুম। সৌন্দর্য আর সৌরভ ছড়িয়ে অল্পকালের ভেতরেই যিনি ঝরে গেছেন। তিনি নেজাম আহমেদ হাফিজ।

গায়ানার রোজ হলে ১৯৬৯ সালের ২১ এপ্রিল জন্ম হয় নেজামের। কৈশোরে ক্রিকেটের প্রেমে পড়া বালক নেজাম ১৯৮৮ সালে গায়ানার অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অধিনায়ক হিসেবে ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগোর মুখোমুখি হয়েছিলেন নিজের প্রথম ম্যাচে। ম্যাচটিতে ত্রিনিদাদের ক্যাপ্টেন ছিলেন ক্যারিবীয় কিংবদন্তি ব্রায়ান লারা। সে ম্যাচটায় অবশ্য ভালো করতে পারেননি নেজাম। তবে নিজের মেধার স্বাক্ষর রাখতে খুব বেশি দেরিও করেননি। কিছুদিনের মধ্যেই লিওয়ার্ড আইল্যান্ডের বিপক্ষে ১১৬ রানের এক ক্যামিও ইনিংস খেলে নিজের ব্যাটিং কারিকুরি দেখান তিনি।

তবে, তারকায় ঠাসা গায়ানা দলে নিয়মিত হওয়ার তেমন সুযোগ পাননি এই ডানহাতি ওপেনার। পরে আর্থিক টানাপোড়েন এবং পারিবারিক কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান এই ওপেনার। কোমল হৃদয়ের অধিকারী নেজাম গায়ানা ছাড়ার আগে নিজের সব ক্রিকেট সামগ্রী বিলিয়ে দেন জুনিয়র খেলোয়াড়দের মাঝে। গায়ানার হয়ে মোটে ছয়টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেন এই ব্যাটার।

১৯৯২ সালে পরিবারের সঙ্গে নিউইয়র্কের কুইন্সে এসে জীবিকার তাগিদে এআইজি নামের একটি ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে যোগদান করেন তিনি। কিন্তু নেজামের রক্তে ছিল ক্রিকেটের প্রতি অমোঘ ভালোবাসা। তাই যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিকেটে নিজের জায়গা করে নিতে খুব একটা বেগ পেতে হয়নি এই ক্রিকেটারকে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রখ্যাত কমনওয়েলথ ক্রিকেট লিগের ক্লাব আমেরিকান ক্রিকেট সোসাইটিতে (এসিসি) খেলার সুযোগ পেয়ে যান নেজাম। ক্লাবটিতে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের জেরে নয় বছরে সাতবার লিগ চ্যাম্পিয়ন হন তিনি। এতে ক্লাবের অধিনায়কত্বের ভার বর্তায় তাঁর ওপর। সঙ্গে, যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলে খেলার দুয়ারও খুলে যায় নেজামের সামনে।

একইসঙ্গে পেশাগত জীবনেও সাফল্যের দেখা পান এই ক্রিকেটার। এআইজি ছেড়ে লোয়ার ম্যানহাটনের জনপ্রিয় প্রতিষ্ঠান মার্শ অ্যান্ড ম্যাকলেনানে ক্লেইমস অ্যানালিস্ট হিসেবে চাকরি পান তিনি। এ দিকে, ১৯৯৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র দলে ডাক পান তিনি। সে বছরেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের ঘরোয়া লিগের ক্লাবগুলোর সঙ্গে খেলতে দেশটিতে সফরে যায় যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু প্রথম ম্যাচেই ইনজুরিতে পড়ে গোটা সফরটাই মিস করেন নেজাম।

পরে ২০০০ সালে দেশের হয়ে ইংল্যান্ড সফরে গিয়ে দ্যুতি ছড়ান এই ব্যাটার। সতীর্থ মার্ক জনসনের সাথে ওপেনিংয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে ইয়র্কশায়ার দ্বিতীয় একাদশের বিরুদ্ধে দলের বড় জয় নিশ্চিত করেন তিনি। ম্যাচটিতে কার্যকর ৩৩ রানের এক নক খেলেন তিনি। পুরো সফরে ৪৪.৫ গড়ে তিনটি হাফ সেঞ্চুরিসহ সর্বোচ্চ ২৬৭ রান সংগ্রহ করেন নেজাম। সফরে মোট দুটি জয় পায় যুক্তরাষ্ট্র। এই পারফরম্যান্সের বদৌলতে পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের কানাডা সফরে সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব পান তিনি। সবাই ভেবে নিয়েছিলেন, হয়ত শীঘ্রই ফর্মের তুঙ্গে থাকা ৩১ বছর বয়সী নেজামের হাতেই মার্কিন দলনেতার ভার উঠতে চলেছে।

কিন্তু নিয়তির লিখন, যায় না খণ্ডন! ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর। যুক্তরাষ্ট্রের সেই বিভীষিকাময় দিন। প্রতিদিনের মতো সকালে অফিস শুরুর আগেই ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের নর্থ টাওয়ারের ৯৪ তলায় অবস্থিত মার্শ অ্যান্ড ম্যাকলেনানের অফিসে পৌঁছান নেজাম। কে জানত, সেদিনই এক বিধ্বংসী বিমান হামলা যবনিকা ঘটাতে যাচ্ছে মাত্র ৩২ বছর বয়সী দেশের এই উদীয়মান তারকার জীবনের!

ফুটবল, বাস্কেটবল আর গলফের দেশ যুক্তরাষ্ট্রে নেজাম নিভৃতে ছড়িয়েছিলেন ক্রিকেটের অমোঘ সৌরভ। তবে, ভাগ্য খুব বেশিদিন সুযোগ দেয়নি তাঁকে। তবু, অল্প কয়েকদিনে তিনি যা করেছেন, তা-ই বা কম কীসে!

লেখক পরিচিতি

সাব এডিটর

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link