বাংলাদেশের খেলাধুলার জগতে খেলোয়াড়দের পজিশন নিয়ে বোধহয় খুব বেশি ভাবতে নেই! যখন যাকে যেখানে ইচ্ছা খেলিয়ে দিলেই হলো। ছোটবেলার ‘যেমন খুশি তেমন সাজো’ প্রতি যোগিতার মতো অনেকটাই! আর দিনশেষে ফলাফল খারাপ হলে দায়টা গিয়ে পড়ে খেলোয়াড়ের ওপর।
ভুটানের বিপক্ষে বিশ্বনাথ ঘোষকে স্ট্রাইকার হিসেবে খেলানোর সিদ্ধান্তটা অন্তত সেটাই মনে করিয়ে দিল। একজন নিয়মিত ডিফেন্ডারকে জোর করে সেন্টার ফরোয়ার্ড বানিয়ে গোলের প্রত্যাশা! তাতে দিনশেষে যা হওয়ার কথা ছিল, ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে যেন তাই ঘটল! প্রথমার্ধেই একের পর এক সুযোগ নষ্ট করেছেন বিশ্বনাথ। ১৮ মিনিটে রাকিবের ক্রস থেকে হেড পোস্টের বাইরে, ২৫ মিনিটে প্রায় ফাঁকা জায়গা থেকে শট বাইরে, এমনকি ৩৯ মিনিটে সামনে শুধু গোলরক্ষককে পেয়েও লক্ষ্যভেদ করতে পারেননি তিনি।
না, বিশ্বনাথকে ছোট করে দেখার কিছু নেই। ডিফেন্ডিং পজিশনে তিনি কতটা কার্যকর, সেটা অসংখ্যবার দেখা গিয়েছে। বিশেষ করে তাঁর লং থ্রো বাংলাদেশের আক্রমণে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, সেটাও আমরা দেখেছি বহুবার! একজন ডিফেন্ডার হিসেবে তাঁর শক্তির জায়গা ব্যবহার না করে তাঁকে স্ট্রাইকার বানানো বোধহয় বিনোদন ব্যতীত কিছুই না!

আক্রমণভাগে ফলস নাইন হিসেবে শেখ মোরসালিনকে কি ব্যবহার করা যেত না? যিনি নিয়মিত এই পজিশনে খেলেন। দলের স্কোয়াডে লেফট উইংয়ে খেলা শুকি ইতফুসা, মোহাম্মদ ইব্রাহীম কিংবা মোহাম্মদ মাহী খানকেও তো সুযোগ দিয়ে দেখা যেত। অন্তত তারা আক্রমণভাগের খেলোয়াড়! অপশন থাকার পরও কেন এমন সিদ্ধান্ত? এটাই যেন এই মুহুর্তে কোটি টাকার প্রশ্ন! ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্তের এমন নিদারুণ দৈন্য দেখে হতবিহ্বল হওয়া ছাড়া আর কী-ই বা করার আছে! টাস্কি খাওয়াটাই যেন নিয়তি!
বিশ্বনাথ বদলি হওয়ার পরই ৬৮ মিনিটে গোলের দেখা পায় বাংলাদেশ। ইব্রাহীমের ডান পায়ের শটেই আসে সেই কাঙ্ক্ষিত গোল। বিষয়টা এমন নয় যে ইব্রাহীমকে শুরু থেকেই নামালে বাংলাদেশ গোলের বন্যা বইয়ে দিত। প্রশ্নটা বরং খেলোয়াড়দের সহজাত পজিশনে না খেলিয়ে এমন এলোমেলো পরীক্ষা-নিরীক্ষার যৌক্তিকতা নিয়ে।
হ্যাঁ, এক্সপেরিমেন্ট থাকবে, এটার দরকারও আছে বটে। কিন্তু সেটা হতে হবে যুক্তি ও পরিকল্পনার ভিত্তিতে। আদতে এদেশের ক্রীড়াঙ্গন চলেই এভাবে, জোড়াতালি দিয়ে! প্রতিপক্ষ ভুটান, সামনে গোল করার সুযোগ, অথচ সেখানে একজন ডিফেন্ডারকে দিয়ে স্ট্রাইকারের কাজ করানোর কী দরকার ছিল?

গোলের নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারে না, কিন্তু অন্তত পজিশনের নিশ্চয়তাটুকু তো দেওয়া যায়! ‘যেমন খুশি তেমন সাজো’, এভাবেই সাজছে দেশের ফুটবল!











