সাইফ হাসান ক্রিজে থাকলে জনকপুর বোল্টস ম্যাচে থাকে, তিনি ফিরে গেলে ম্যাচও যেন তাঁর সঙ্গেই ফিরে যায়। দলটার সব দায় দায়িত্ব যেন তাঁর কাঁধেই, তিনি ব্যর্থ হলে বিপাকেই পড়তে হয় জনকপুরকে।
গল্পের শুরটা, বল হাতে। লুম্বিনী লায়ন্সের বিপক্ষে পাওয়ার প্লেতেই বল হাতে নেন। নিজের করা প্রথম ওভারেই তুলে নেন মেইডেন। যদিও শেষমেষ চার ওভার শেষে ৩১ রান দিতে হয়েছে কোন উইকেট ছাড়াই। তবে আসল কাজটা তো ব্যাট হাতে। সেখানেই সাইফের দিকে তাকিয়ে ছিল দল।

১৫০ রানের লক্ষ্যে শুরুতেই উইকেট হারানো দলকে একপাশ থেকে ধরে রেখেছিলেন সাইফ। ২৫ বলে ২৮ রান করে যখন ফিরলেন, দল তখনো লড়াইয়ে ছিল। কিন্তু তিনি যেতেই সব কেমন এলোমেলো হয়ে গেল। কয়েক ওভারের মধ্যেই ম্যাচের গতি পুরোপুরি ঘুরে যায়, আর জনকপুর থামে ১৩৩ রানে। সাইফ ক্রিজে থাকলে যে ইনিংসটা দাঁড়ায়, আর ফিরে গেলে দল খেই হারিয়ে ফেলে আবারও সেটা বোঝা গেল।
এর দুই দিন আগে তিনি খেলেছিলেন আরও বড় এক ইনিংস। বিরাটনগর কিংসের ১৭৫ রানের লক্ষ্যে একাই টানলেন, ৪৮ বলে ৭১ রান, সঙ্গে পাঁচটি ছক্কা। জয় থেকে মাত্র ২ রান দূরে থেমে গেল জনকপুর। এমন ইনিংস খেলে হেরে ফেরার কষ্টটা সাইফই ভালো জানেন।
টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই দলের নির্ভরতার নাম হয়ে উঠছেন তিনি। কাঠমান্ডু গোখরার্সের বিপক্ষে জনকপুরের প্রথম জয়ের দিনেও অপরাজিত ৪০ রান ছিল তাঁর ব্যাটে। সেদিন বল হাতেও ছিলেন দুর্দান্ত, ৪ ওভারে মাত্র ১১ রান দিয়ে নিয়েছিলেন ২ উইকেট। ব্যাটে-বলে একই মানুষের ওপর এতটা নির্ভর করা কোনো দলের জন্যই সহজ কথা নয়।

জনকপুরের ব্যাটিং এখন যেন সাইফ হাসানের কাঁধে ভর দিয়েই দাঁড়িয়ে আছে। তিনি টিকে থাকলে ইনিংস টিকে থাকে, তিনি সরে গেলে সবকিছু ভেঙে পড়ে। এই ভার একজন ব্যাটার কতদিন একা বইবেন, প্রশ্নটা এখন জনকপুরের নিজেদেরই।










