অপরাজিত অ্যাস্টন ভিলাকে উড়িয়ে দিল বার্সেলোনা

সমস্ত সমালোচনার মোক্ষম জবাব দিয়ে কাম্প ন্যু-তে অপরাজিত অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে ৩-০ গোলের দুর্দান্ত এক জয় তুলে নিল কাতালানরা।

পিএসজি এবং রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে হোঁচট খাওয়ার পর বার্সেলোনার ইউরোপীয় সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল সমালোচকরা। সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রল হচ্ছিল যে হ্যান্সি ফ্লিকের দল কেবল ছোট দলের বিপক্ষেই দাপট দেখাতে পারে। সেই সমস্ত সমালোচনার মোক্ষম জবাব দিয়ে কাম্প ন্যু-তে অপরাজিত অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে ৩-০ গোলের দুর্দান্ত এক জয় তুলে নিল কাতালানরা।

ম্যাচের শুরু থেকেই অ্যাস্টন ভিলার ডিফেন্সের ওপর চড়াও হয়ে হ্যান্সি ফ্লিক তাঁর ট্রেডমার্ক ৪-২-৩-১ ফরমেশনে দল সাজিয়ে কড়া হাই-প্রেসিংয়ের কৌশল নেন। ভিলার মিডফিল্ড বিল্ড-আপের সময় পেদ্রি এবং রড্রি মিলে পাসিং লেনগুলো সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেন। এর ফলে ভিলার মিডফিল্ডার জোয়াও গোমেস আন্ডার-প্রেসড হয়ে মারাত্মক ভুল পাস বাড়াতে বাধ্য হন, যা থেকে ম্যাচের সপ্তম মিনিটেই লামিনে ইয়ামাল গোল করে বার্সাকে দ্রুত এগিয়ে নেন।

বার্সেলোনার আক্রমণে সবচেয়ে বড় ট্যাকটিকাল টার্নিং পয়েন্ট ছিল উইং ও হাফ-স্পেসের নিখুঁত ব্যবহার। রাফিনহা এবং লামিনে ইয়ামাল নিজেদের ফ্ল্যাঙ্ক থেকে ভেতরে কেটে ভেতরে আসার সময় ফুলব্যাক জোয়াও ক্যান্সেলো হাই ওভারল্যাপ করেন। ভিলার ডিফেন্সিভ ব্লক যখন ওয়াইড এরিয়া সামলাতে ব্যস্ত, ঠিক তখন সেন্ট্রাল হাফ-স্পেসগুলোতে ফাঁকা জায়গা তৈরি হয়। ৫২তম মিনিটে ফেরমিন লোপেসের অ্যাসিস্টে রাফিনহার বক্সের ভেতর থেকে করা গোলটি এই ট্যাকটিক্যাল ওভারলোডেরই নিখুঁত ফসল।

ট্যাকটিক্যালি বার্সেলোনার রূপান্তর ছিল দারুণ। বল পজেশন হারানোর সঙ্গে সঙ্গে ডিফেন্সিভ লাইনে দ্রুত লাইন মেইনটেইন করা এবং পজেশন ফিরে পাওয়ার পর জোয়াও ক্যান্সেলোর থার্ড ম্যান রান ভিলার ব্যাকলাইনকে সম্পূর্ণ এলোমেলো করে দেয়। ৬৪তম মিনিটে তৃতীয় গোলটিতে ক্যান্সেলোর অসাধারণ আউটসাইড-দ্য-ফুট পাস এবং রাফিনহার নিখুঁত পজিশনিং প্রমাণ করে যে ফ্লিকের থিওরিতে উইংব্যাকের আক্রমণাত্মক স্বাধীনতা দলটির প্রধান অস্ত্র।

ম্যাচে ৬৫ শতাংশ পজেশন রেখে বার্সেলোনা কেবল বল পায়ে রাখেনি, বরং ভিলাকে বলের পেছনে দৌড়াতে বাধ্য করেছে। ভিলার কাউন্টার-অ্যাটাকিং থ্রেটকে নিউট্রালাইজ করতে বার্সার সেন্ট্রাল ডিফেন্ডাররা হাই-লাইন ডিফেন্স ব্যবহার করলেও মিডফিল্ড থেকে ট্যাকটিক্যাল ফাউল ও সময়মতো ব্যাক-ট্র্যাকিং নিশ্চিত করায় ভিলা পুরো ম্যাচে মাত্র একটি শট লক্ষ্যে রাখতে পেরেছিল। সব মিলিয়ে এটি ছিল পজিশনাল প্লে ও আধুনিক হাই-ইনটেনসিটি ফুটবলের এক নিখুঁত সমন্বয়।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

Share via
Copy link