সিলেট টেস্টে ঘুরে দাঁড়ানোর শেষ সুযোগ বাংলাদেশের!

সিলেটের প্রথম সেশনটা সামলে নিতে পারলে ম্যাচ বাংলাদেশের দিকে ঝুঁকতে পারে। মিরপুরে ঠিক এই কাজটাই পারেননি ব্যাটাররা।

ফাঁদটা বাংলাদেশই পেতেছিল, পড়ল নিজেরাই। মিরপুরে স্পিনবান্ধব উইকেট বানিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে বিপাকে ফেলার পরিকল্পনা ছিল, অথচ রোস্টন চেজ আর জোমেল ওয়ারিকান দুজনে মিলেই নিয়ে গেলেন ১৪ উইকেট। আট উইকেটের হারে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে স্বাগতিকরা। বৃহস্পতিবার সিলেটে শুরু হচ্ছে দ্বিতীয় টেস্ট, আর জয় ছাড়া বাংলাদেশের সামনে অন্য কোনো পথ নেই।

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের হিসাবে সেই চাপ আরও পরিষ্কার। হারের পর বাংলাদেশের পয়েন্ট শতাংশ ৫৫.৫৬ থেকে নেমে ৪৭.৬২, দল চার থেকে পাঁচে, ভারত উঠে এসেছে চারে। সিলেটে জিতলে পয়েন্ট হবে ৫৪.১৭, ড্র হলে ৪৫.৮৩, হারলে ৪১.৬৭। ফাইনালের লড়াইয়ে ৬০ শতাংশকে সাধারণত নিরাপদ মাপকাঠি ধরা হয়, আর সেখানে পৌঁছাতে বাকি পাঁচ টেস্টের চারটিই জিততে হবে। সিলেটের জয়টা তাই শুধু সিরিজ বাঁচানোর নয়, হিসাব বাঁচিয়ে রাখারও শর্ত।

মিরপুরের হারকে শুধু স্পিনের কাছে হার বললে অর্ধেক কথা বলা হয়। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের তিন স্পিনার ওয়েস্ট ইন্ডিজের ১০ উইকেটের আটটি নিয়েছেন, নাঈম হাসান একাই ৩৩ রানে ৪টি। অথচ ১৭০ রানের লক্ষ্যে সেই তিন স্পিনারের ঝুলি ছিল শূন্য, দুটি উইকেটই নিয়েছেন পেসাররা।

ব্যাটিংয়ে দৃশ্যপটটা আরও কঠিন। দ্বিতীয় ইনিংসে প্রথম পাঁচ ব্যাটার মিলে করেছেন ২৭ রান, আর আটে নামা নাঈম একাই করেছেন ৫২। ১০ উইকেটের ছয়টিই বোল্ড বা এলবিডব্লিউ। শান্ত দুই ইনিংসেই পড়েছেন এলবিডব্লিউতে, মেহেদী দুইবারই বোল্ড হয়েছেন ওয়ারিকানের বলে। মানে সমস্যাটা পিচের চেয়ে ব্যাটারদের সিদ্ধান্তে বেশি।

সিলেটে মাঠ পরিচিত হলেও এটা বাংলাদেশের দুর্গ নয়, সবশেষ চার টেস্টে দুটি জয়, দুটি হার শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়ের কাছে। আর এই মাঠের গল্প শুরুর সেশনেই লেখা হয়ে যায়। ২০২৪ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টস জিতে বোলিং নিয়ে প্রথম সেশনেই ৫৭ রানে ৫ উইকেট তুলে নিয়েছিল বাংলাদেশ, তবু ২০২ রানের জুটিতে ২৮০ তুলে ৩২৮ রানে ম্যাচ জিতেছিল লঙ্কানরা।

এ বছর মে মাসে টস জিতে বোলিং নেওয়া পাকিস্তান বাংলাদেশকে ১১৬ রানে ৬ উইকেটে ফেলেও ম্যাচ হেরেছে, কারণ লিটন দাস ১২৬ করে ইনিংস টেনে নিয়েছেন ২৭৮-এ। এই দুই ম্যাচেই টস জিতে বোলিং নেওয়া দল হেরেছে, আর শুরুর ধস সামলে ওঠা দল জিতেছে। লিটন নিজেই বলেছিলেন, “উইকেট পরের দিকে বেশ ব্যাটিংবান্ধব হয়ে যায়। সকালে মেঘলা থাকলে ওই প্রথম ১০ ওভার খুব গুরুত্বপূর্ণ।”

ঘাসের উইকেটে তিন পেসার নিয়ে নামার সম্ভাবনাই বেশি। সে ক্ষেত্রে হাসান মাহমুদ, শরীফুল, তাসকিন আর এবাদতের তিনজনের সঙ্গে স্পিনে জায়গা পাবেন দুজন। নাঈমকে বাদ দেওয়া কঠিন , ফলে প্রশ্ন দাঁড়ায় মেহেদী না তাইজুল, আর সিলেটে সবশেষ টেস্টে ছয় উইকেট নিয়েছিলেন তাইজুল।

ব্যাটিংয়ে মুমিনুল কনকাশনের কারণে নেই। অমিত হাসানের খেলা নিশ্চিত নয়, জাকিরও সুযোগ পেতে পারেন, যিনি মিরপুরে মুমিনুলের বদলি হিসেবে নেমে ৩৪ বলে ২২ করেছেন, নাঈমের সঙ্গে গড়েছেন ৩১ রানের জুটি। আঙুলের চোট কাটিয়ে মুশফিক ফিরছেন বলে আশা করা হচ্ছে, সাত হাজার টেস্ট রানের মাইলফলক থেকে তিনি মাত্র ৪৩ রান দূরে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ আসছে আত্মবিশ্বাস নিয়ে। জন ক্যাম্পবেল প্রথম ইনিংসে দুটি জীবন পেয়ে করেছেন ৫৪, দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৫ বলে ৪৯, ব্র্যান্ডন কিং ১১৫ বলে অপরাজিত ৮১। এই দুই ওপেনারের আক্রমণাত্মক শুরু নতুন বলে বাংলাদেশের পেসারদের জন্য বড় পরীক্ষা।

২৬.৯২ শতাংশ নিয়ে আটে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের ফাইনালের আশা নেই, কিন্তু হারানোর কিছুও নেই, আর সেটাই তাদের বিপজ্জনক করে তুলছে। সিলেটের প্রথম সেশনটা সামলে নিতে পারলে ম্যাচ বাংলাদেশের দিকে ঝুঁকতে পারে। মিরপুরে ঠিক এই কাজটাই পারেননি ব্যাটাররা।

Share via
Copy link