কন্ডিশন বুঝে বোলিং করা আর প্রতিপক্ষের রানের গতিতে লাগাম টেনে ধরা, স্পিনারদের সাফল্যের অন্যতম প্রধান শর্ত। নেপাল প্রিমিয়ার লিগে জনকপুর বোল্টসের বিপক্ষে পোখারা অ্যাভেঞ্জার্সের হয়ে সেই কাজটিই বেশ দক্ষতার সঙ্গে করেছেন শেখ মেহেদী হাসান। এমন ট্রিকি উইকেটে নিজের প্রথম ওভারেই তুলে নেন মেইডেন। শুরুতেই এমন নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে সবার আগে প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেন এই বাংলাদেশি অলরাউন্ডার।
চার ওভারে ২৪ রান খরচায় একটি উইকেট শিকার করেছেন মেহেদী। তাঁর ইকোনমি রেট ৬, যা পোখারার বোলারদের মধ্যে যৌথভাবে দ্বিতীয় সেরা। তবে বল হাতে ছন্দে থাকলেও ব্যাট হাতে সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারেননি তিনি।
ওপেনিংয়ে নেমে চার বলে আট রান করে ফিরেছেন সাজঘরে। শুরুতেই একটি বাউন্ডারি হাঁকিয়ে বড় ইনিংসের সম্ভাবনা জাগিয়েছিলেন, কিন্তু সেই ঝলক স্থায়ী হয়নি।

প্রথমবার এনপিএলে মাঠে নামেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। তবে অভিষেক ম্যাচের শুরুটা তাঁর জন্য ছিল বেশ বিব্রতকর। নেপাল প্রিমিয়ার লিগে নিজের প্রথম বলেই ত্রিতরাজ দাসের ব্যাট থেকে হজম করতে হয় বিশাল এক ছক্কা। প্রথম চার বলেই খরচ করেন ১৫ রান। সব মিলিয়ে শুরুটা ছিল বেশ অস্বস্তির।
তবে পঞ্চম বলেই যেন নিজের সামর্থ্যের ঝলক দেখান এই পেস বোলিং অলরাউন্ডার। অ্যানিল সাহকে একেবারে নিখুঁত ইয়র্কারে বোল্ড করে তুলে নেন দুর্দান্ত এক উইকেট। কিন্তু সেই শিকারেও খুব একটা তৃপ্তি ধরা পড়েনি তাঁর উদযাপনে। চোখেমুখে ছিল বিরক্তির ছাপ।
প্রথম বলের ছক্কা আর পরের বলগুলোতে রান বিলানোর আক্ষেপই হয়তো ছাপ ফেলেছিল উদযাপনে। শেষ পর্যন্ত উইকেট পেলেও অভিষেকের প্রথম স্পেলে স্বস্তির চেয়ে অস্বস্তিই ছিল বেশি।

আর সাইফ হাসানের অভিজ্ঞতাটা ছিল খানিকটা অম্লমধুর। ওয়ান ডাউনে ব্যাট করতে নেমে সাকিব আল হাসানের বলে ক্লিন বোল্ড হয়ে ফিরেছিলেন তিনি। তবে বল হাতে সেই হিসাব যেন সুদে-আসলে চুকিয়ে দিয়েছেন সাইফ। শিকার করেছেন দুটি উইকেট, যার একটি আবার সাকিবের!
অর্থাৎ ব্যাট হাতে সাকিবের বলে পরাস্ত হওয়ার পর বল হাতে সেই সাকিবকেই সাজঘরের পথ দেখিয়েছেন তিনি। একই ম্যাচে দুই সতীর্থের এমন পাল্টাপাল্টি লড়াই নিঃসন্দেহে বাড়তি রোমাঞ্চ জুগিয়েছে দর্শকদেরও।











