প্রথম ওভারে মাত্র ২ রান খরচায় ১ উইকেট। দ্বিতীয় ওভারে খরচ করলেন স্রেফ ১ রান, তুলে নিলেন আরও একটি উইকেট। আর তৃতীয় ওভারে? যেন আগের ওভারেরই পুনরাবৃত্তি! একই নিয়ন্ত্রণ, একই ক্ষুরধার বোলিং, একই আধিপত্য! নেপাল প্রিমিয়ার লিগের মঞ্চে এই সাকিব আল হাসান যে অবিশ্বাস্য, অতুলনীয়, অপ্রতিরোধ্য!
সাকিবের এমন পারফরম্যান্সের বর্ণনায় কোন বিশেষণ আসলে শোভা পায় না। তিনি যে কোনো বিশেষণের গণ্ডিতে আটকে থাকেন না। পাওয়ারপ্লেতে জনকপুর বোল্টসের বিপক্ষে তখন বেশ অস্বস্তিতে পোখারা অ্যাভেঞ্জার্স। মাত্র ৫ ওভারেই বিনা উইকেটে ৪৫ রান তুলে ফেলেছে প্রতিপক্ষ।
অধিনায়কের কপালে চিন্তার ভাঁজ। বোলিংয়ে এসে শেখ মেহেদী হাসান মেইডেন ওভার আদায় করে নিলেও অধরা থেকে যায় উইকেট। অন্য প্রান্তে মঈন আলী, যিনি কতটা ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারেন, তা জানে গোটা ক্রিকেট দুনিয়াই!

এমন পরিস্থিতিতেই বল হাতে এগিয়ে এলেন সাকিব আল হাসান।।প্রথম ওভারেই বুঝিয়ে দিলেন, কেন তিনি সাকিব। ছয় বলের নিখুঁত নিয়ন্ত্রণে খরচ করলেন মাত্র ২ রান, সঙ্গে তুলে নিলেন মঈন আলীর মহামূল্যবান উইকেট। তাও আবার সরাসরি বোল্ড করে!
পরের ওভারে দিলেন মাত্র ১ রান, শিকার করলেন আরও একটি উইকেট। এবার স্বদেশী ব্যাটার সাইফ হাসান। তৃতীয় ওভারেও অব্যাহত সেই দাপট। ঠিকঠাক ব্যাটে কানেক্ট করতে না পেরে আকাশে উড়ালেন বল হারমিত সিং এবং আউট!
প্রতিপক্ষ জোনাকপুর বোল্টসের ব্যাটারদের যেন কোনো উত্তরই জানা নেই সাকিব নামক প্রশ্নের সামনে। প্রথম তিন ওভারে চার রান খরচায় তুলে নিলেন তিন উইকেট। যদিও শেষ ওভারে এক ছক্কা হজম করে দিয়েছেন ১১ রান। শেষ পর্যন্ত বোলিং ফিগার দাঁড়ায় চার ওভারে ১৫ রান দিয়ে তিন উইকেট।

তবে এসবের ঊর্ধ্বে গিয়ে সাকিব বোঝালেন পুরনো তেজটা এখনও ফুরিয়ে যায় নি।











