স্পিনিং ট্র্যাক, বাংলাদেশের জন্য অভিশাপ!

অজিদের হারানোর সেই ঐতিহাসিক স্মৃতি আমরা বছরের পর বছর উদযাপন করি। তবে বাস্তবতা হচ্ছে, এই জয়টাই বাংলাদেশকে টেস্ট ক্রিকেটে ১০ বছর পিছিয়ে দিয়েছে।

বাংলাদেশ স্পিনিং কন্ডিশনে ভালো দল। এই বিশ্বাসটা যারা পুষে রেখেছেন, তারা বোকার স্বর্গে বাস করেন। অন্তত পরিসংখ্যান সেটাই বলে। বাংলাদেশ ২০ বছরে মিরপুরে বড় দলের বিপক্ষে স্পিনিং ট্র্যাক বানিয়ে জিতেছে দুটি টেস্ট। প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়া। অজিদের হারানোর সেই ঐতিহাসিক স্মৃতি আমরা বছরের পর বছর উদযাপন করি। তবে বাস্তবতা হচ্ছে, এই জয়টাই বাংলাদেশকে টেস্ট ক্রিকেটে ১০ বছর পিছিয়ে দিয়েছে।

প্রতিটা সিরিজের কাজ একটাই। প্রতিপক্ষ যেই হোক, মিরপুরে স্পিনিং ট্র্যাকই লাগবে। অথচ বাস্তবতা হলো, নিজেরাই স্পিনের বিপক্ষে দুর্বল। তার জ্বলন্ত উদাহরণ তো ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ভরাডুবি।

সাফল্য বলতে কিছুই নেই। ২০১৬ সালে ইংল্যান্ড ডেকে এনে স্পিনিং উইকেট বানিয়ে হারানো আর ২০১৭-তে অস্ট্রেলিয়া। এর বাইরে বাংলাদেশের সবচেয়ে পছন্দের কন্ডিশন কোনো সফলতা এনে দিতে পারেনি। কারণটা কী? সেটাই এবার বিশ্লেষণ করি।

উপমহাদেশের বাইরের দলগুলো স্পিনে বেশ দুর্বল। অস্ট্রেলিয়া এবং ইংল্যান্ড যখন এসেছে, তাদের কাছে মিরপুর এক গোলকধাঁধা মনে হয়েছে। এর ওপর তখন বাংলাদেশের দলের দুজন ব্যাটার ছিলেন, যারা স্পিনের বিপক্ষে দুর্দান্ত। একজন সাকিব আল হাসান, অন্যজন মুশফিকুর রহিম। সেই সঙ্গে সাকিবের বোলিং তো ছিলই।

তবে এখনকার বাস্তবতায় আসলে বিষয়টা দাঁড়ায়, একজন মুশফিক বাদে সব ব্যাটারেরই স্পিনের বিপক্ষে দুর্বলতা স্পষ্ট। তার প্রমাণও এই ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ। তবে বাংলাদেশ এই ব্যাপারটাকে মাথায় নেয় না। বোলারদের দিয়েই ম্যাচ জিতে নিতে চায়। তাইজুল ইসলাম, মেহেদী হাসান মিরাজ মিরপুরের অঘোষিত রাজা। তাদের নিয়েই মূলত বাংলাদেশ পরিকল্পনা সাজিয়ে হারাতে চায় প্রতিপক্ষকে। তবে এটা ভুলে যায়, অপোনেন্টের স্পিন শক্তিও কম নয়, বিশেষ করে উপমহাদেশে যারা খেলে। তাই তো আফগানিস্তান, ভারত, শ্রীলঙ্কার কাছে বারবার নাস্তানাবুদ হতে হয়েছে।

বরং সত্য এটাই, বাংলাদেশ স্পোর্টিং কিংবা ব্যালান্সড উইকেট বানিয়েই বেশি সাফল্য পেয়েছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে এ বছরই সিরিজ জিতেছেন নাজমুল হোসেন শান্তরা। আর যার মূল কারিগর পেসাররাই।

তবে ওই যে, একটা মোহ কাজ করে। অস্ট্রেলিয়ার মতো দলকে হারিয়েছে ঘরের মাঠে। বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে ঐতিহাসিক জয় তো ওটাই। আর সেটাও যেহেতু স্পিনিং ট্র্যাক ছিল, তাই আমরা এই কন্ডিশনে সেরা দল। বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের উন্নতির অন্তরায় তো এটাই।

লেখক পরিচিতি

স্টাফ রিপোর্টার

Share via
Copy link