সিনেমার পর্দায় তিনি বলিউডের বাদশাহ। রোমান্স থেকে অ্যাকশন, সবখানেই তাঁর রাজকীয় উপস্থিতি। তবে রুপালি পর্দার বাইরেও শাহরুখ খানের আরেকটি সাম্রাজ্য আছে। যে সাম্রাজ্যের সীমানা শুধু ভারতেই সীমাবদ্ধ নয়, ছড়িয়ে পড়েছে ক্যারিবিয়ান থেকে মধ্যপ্রাচ্য, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রেও। ব্যাট-বলের দুনিয়ায় কলকাতা নাইট রাইডার্সের রাজত্ব যে গড়ে তুলেছেন তিনি।
ক্রিকেট পাড়ায় শাহরুখের জার্নির শুরু ২০০৮ সাল থেকে। সেবার ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের প্রথম আসর থেকেই কেকেআরের সঙ্গে যুক্ত হন শাহরুখ। অভিনেত্রী জুহি চাওলা ও তাঁর স্বামী জয় মেহতাকে সঙ্গে নিয়ে গড়ে তোলেন এই ফ্র্যাঞ্চাইজি।
তবে এই গল্পের শুরুটা অবশ্য খুব একটা সুখকর ছিল না। মাঠের পারফরম্যান্সে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি কলকাতা। নানা সমালোচনা, ব্যর্থতা আর হতাশা ঘিরে ধরে। তবে শাহরুখ জানতেন আজ নয়তো কাল হবেই। স্বপ্ন দেখাটা বন্ধ করলে মানুষ বাঁচে কি! লেগে পড়ে থাকলে তো সফলতাটা আসবেই, আসতে বাধ্য।

২০১২ সালে গৌতম গম্ভীরের নেতৃত্বে প্রথমবার আইপিএল শিরোপা জেতে কলকাতা নাইট রাইডার্স। দুই বছর পর আবারও মুকুট ওঠে তাদের মাথায়। সমালোচনার তীব্র আলো ঢেকে দেয় ব্ল্যাকআউট পর্দা।
তবে জোয়ার ভাটার জীবনে সবকিছুই আছে। সাফল্য যেমন তেমনই ব্যর্থতা চলে সমান তালে। ২০১৪ সালের পর থেকে অপেক্ষা দীর্ঘ হয়। কখনো ফাইনালে গিয়ে স্বপ্নভঙ্গ, কখনো প্লে-অফের আগেই বিদায়। তবু থেমে থাকেনি নাইট রাইডার্সের পথচলা। অবশেষে ২০২৪ সালে শ্রেয়াস আইয়ারের নেতৃত্বে তৃতীয়বারের মতো আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হয় কলকাতা। একটা সময় যে দলকে নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল, সেই দলই হয়ে ওঠে আইপিএলের সফল ফ্র্যাঞ্চাইজি।
তবে শাহরুখের ক্রিকেটীয় সাম্রাজ্যের বিস্তার শুরু হয় আরও আগেই। ২০১৫ সালে ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগের দল ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো রেড স্টিলের মালিকানায় যুক্ত হয় নাইট রাইডার্স গ্রুপ। পরের বছর দলটির নাম বদলে রাখা হয় ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্স। এরপর যেন বদলে যায় গল্পের পরিসর। ২০১৫, ২০১৭, ২০১৮, ২০২০ ও ২০২৫ সালে শিরোপা জিতে ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটেও নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে তারা। কলকাতার পর ক্যারিবিয়ানেও সফলতার স্বাদ পেতে শুরু করে শাহরুখের ক্রিকেট পরিবার।

এরপর ২০২২ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের নতুন টি-টোয়েন্টি লিগে আবুধাবি নাইট রাইডার্স গড়ে তোলার ঘোষণা দেয় গ্রুপটি। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ ক্রিকেটেও বিনিয়োগ করে তারা। সেখানে আত্মপ্রকাশ ঘটে লস অ্যাঞ্জেলেস নাইট রাইডার্সের। অর্থাৎ, ভারতের আইপিএল, ক্যারিবিয়ানের সিপিএল, আরব আমিরাতের আইএলটি২০ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ ক্রিকেট, বিশ্বের একাধিক টি-টোয়েন্টি লিগে ছড়িয়ে পড়ে একই নাম। যার বৈশ্বিক ফ্র্যাঞ্চাইজি নেটওয়ার্ক মূল্য বর্তমানে প্রায় ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
শাহরুখ খান সিনেমার পর্দায় অসংখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন। পেয়েছেন কোটি মানুষের ভালোবাসা। তবে নিজের ভেতরের ভালোবাসাটা ছড়িয়ে দিয়েছেন ক্রিকেটেও, যার বিস্তার এক মহাদেশ থেকে অন্য মহাদেশ। শাহরুখ কিং অব রোমাঞ্চ, কিং অব হার্টস, আর ক্রিকেট দুনিয়ার কাছে তিনি কিং অব ফ্র্যাঞ্চাইজি।










