ঢাকা টেস্ট চার দিনেই শেষ হয়ে গেল আর বাংলাদেশ নেমে গেল র্যাংকিং এর চার থেকে পাঁচে। ম্যাচের আগে পয়েন্ট ছিল ৫৫.৫৬ আর বর্তমানে ৪৭.৬২। পাকিস্তানকে হারিয়ে, অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে জিতে যে দল ফাইনালের স্বপ্ন দেখছিল, তাদের সামনে এখন প্রশ্ন একটাই দরজাটা কি বন্ধ হয়ে গেল, নাকি শুধু কঠিন হলো?
উত্তরটা হলো, বন্ধ হয়নি, তবে এতটাই কঠিন যে ভুলের জায়গা আর প্রায় নেই। টেবিলের শীর্ষে এখন নিউজিল্যান্ড ৭২.২২ পয়েন্ট নিয়ে, তারপর দক্ষিণ আফ্রিকা ৭১.৪৩ পয়েন্ট, তিনে অস্ট্রেলিয়া ৬৯.২৩ পয়েন্ট , ভারত চারে উঠে এসেছে ৫১.৫২ পয়েন্ট নিয়ে, বাংলাদেশ তাদের ঠিক পেছনে। তিন নম্বর দলের সঙ্গে ব্যবধান প্রায় ২২ পয়েন্টের, তবে বাংলাদেশের হাতে এখনো পাঁচটি টেস্ট আছে, মানে লড়াই করার মতো ৬০ পয়েন্ট বাকি।
হিসাবটা সোজা। পাঁচটিই জিতলে পয়েন্ট শতাংশ দাঁড়াবে ৮৩.৩৩। চারটি জিতে একটি ড্র করলে ৭৬.৬৭, আর চারটি জিতে একটি হারলে ৭৩.৩৩। তিনটি জয় আর দুটি ড্রতে হবে ঠিক ৭০। গত চক্রে ফাইনালিস্টরা শেষ করেছিল ৬৭ থেকে ৬৯ শতাংশের আশপাশে। সেই মাপে ধরলে বাংলাদেশের সামনে বাস্তব লক্ষ্য হলো পাঁচ ম্যাচে অন্তত চার জয়, নয়তো তিন জয় আর বাকি দুটো ড্র। এর নিচে নামলে সমীকরণ পুরোপুরি অন্যদের ওপর নির্ভর করবে।

প্রথম ধাপ সিলেট, ৫ নভেম্বর থেকে। এই টেস্ট জেতা ছাড়া উপায় নেই। হারলে বাকি চারটি জিতলেও ৭৩.৩৩ পর্যন্ত যাওয়া যায়, কিন্তু চারটিই জেতা কতটা কঠিন, সেটা অনুমেয়। ড্র হলেও লাভ নেই, কারণ তাতে সিরিজ হারটা পাকা হয়ে যাবে আর পয়েন্টও আটকে থাকবে। মিরপুরে অধিনায়ক শান্ত হারের কারণ হিসেবে স্পিনারদের ধারাবাহিকতার অভাবের কথা বলেছেন। সিলেটে বোলিং ইউনিটকে ঠিক এই জায়গাটাই শুধরে নিতে হবে।
এরপর নভেম্বরের মাঝামাঝি দক্ষিণ আফ্রিকা সফর, জোহানেসবার্গ আর সেঞ্চুরিয়নে দুটি টেস্ট। কন্ডিশন আর প্রতিপক্ষ দুই দিক থেকেই এটা সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। সেখান থেকে একটা জয় আর একটা ড্র আনতে পারলেই সেটা বড় অর্জন হবে। মজার ব্যাপার হলো, দক্ষিণ আফ্রিকা এখন টেবিলের দুই নম্বরে, মানে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বী। বাংলাদেশ তাদের কাছ থেকে পয়েন্ট কেড়ে নিতে পারলে নিজের পথও খোলে, তাদের পথও কঠিন হয়। তবে ওদের নিজেদের মাঠে সেটা করা যে সহজ নয়, বলার অপেক্ষা রাখে না।
শেষ সিরিজ ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে, দুই টেস্টের। সব ঠিকঠাক চললে হয়তো এই সিরিজেই ফাইনালের ভাগ্য ঠিক হবে। স্পিনবান্ধব উইকেটে দুটো ম্যাচই জেতার লক্ষ্য নিয়ে নামতে হবে, কারণ ততদিনে হিসাবে আর কোনো আপস চলবে না।

নিজেদের ম্যাচ জিতলেই সব হবে, এমনটাও নয়। অস্ট্রেলিয়া এখনো নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে চারটি আর ভারতের বিপক্ষে পাঁচটি টেস্ট খেলবে। ভারত আবার নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে দুটি টেস্টে। শীর্ষ দলগুলো নিজেরাই একে অপরের পয়েন্ট কাটবে, তাই কেউ না কেউ নিচে নামবেই। বাংলাদেশকে শুধু সেই সুযোগের জন্য তৈরি থাকতে হবে।
বাংলাদেশ এই চক্রে দেখিয়েছে, বড় দলকে তাদের ঘরে গিয়ে হারানো সম্ভব। সেই বিশ্বাসটা এখনো আছে কিন্তু বিশ্বাস দিয়ে পয়েন্ট আসে না, আসে টানা জয়ে। প্রথমবার ফাইনালের টিকিট পেতে হলে সামনের পাঁচটি টেস্টে এখন থেকে আর একবারও পা ফসকানো চলবে না।











