কঠিন মুহূর্তে ব্যাট হাতে দলের হাল ধরা এবং বল হাতে প্রতিপক্ষকে ধসিয়ে দেওয়ায় ক্রিকেটপাড়ায় এই মুহুর্তে আলোচিত নাম পাকিস্তানি অলরাউন্ডার আরাফাত মিনহাস। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পা রেখেই নিজের জাত চিনিয়েছেন এই তরুণ।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে রাওয়ালপিন্ডির এক ম্যাচে বল হাতে ছয় উইকেট শিকারের পাশাপাশি দায়িত্বশীল ফিফটি হাঁকানোর পর স্বয়ং ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক পর্যন্ত অবাক হয়ে জানতে চেয়েছিলেন, এই তরুণের বয়স কি সত্যিই একুশের কম!
ওয়ানডে অভিষেকেই পাঁচ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড গড়া এই ক্রিকেটার কেবল খণ্ডকালীন পারফর্মার নন, বরং নিজেকে একজন পরিপূর্ণ ম্যাচ উইনার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে বদ্ধপরিকর। সম্প্রতি ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খাদের কিনারে দাঁড়িয়ে তার বীরত্বপূর্ণ ম্যাচজয়ী ইনিংসটি সেই আস্থারই জোরালো প্রমাণ দেয়।

তবে আরাফাতের এই সাফল্যের পেছনের গল্পটি বেশ অনুপ্রেরণাদায়ক। শৈশবে পাকিস্তানের অন্য দশটি কিশোরের মতো তাঁরও স্বপ্ন ছিল একজন গতিময় পেসার হওয়ার। কিন্তু তাঁর বাবা কাশিফ দূরদর্শিতা থেকে ছেলের হাতে লেদার বল তুলে দিয়ে বাঁহাতি স্পিন বেছে নেওয়ার নির্দেশ দেন।
মিনহাস বলেন, ‘আমার বয়স যখন আট বা নয় বছর, তখন বাবা আমার হাতে হার্ড বল তুলে দেন এবং সেই থেকে আমি বাঁহাতি স্পিন বোলিং করে যাচ্ছি। তবে টেপ-টেনিস ক্রিকেটে আমি ঠিকই ফাস্ট বোলিং করতাম।’
বাবা কাশিফ নিজেও একসময় মুলতানের হয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট খেলেছিলেন, কিন্তু পারিবারিক ও ব্যবসায়িক বাস্তবতার কারণে নিজের ক্রিকেট স্বপ্ন বিসর্জন দিতে হয়েছিল তাকে। পরবর্তীতে সেই অপূর্ণ স্বপ্ন তিনি বাস্তবায়িত করেন নিজের সন্তানদের মাধ্যমে।

করোনাকালের কঠোর লকডাউনেও যখন সব ধরনের ক্রিকেট বন্ধ ছিল, তখনো নিজের বাড়ির ছাদে প্র্যাকটিস পিচ, নেট এবং ফ্লাডলাইটের ব্যবস্থা করেছিলেন তিনি, যাতে ছেলেদের অনুশীলনে কোনো ব্যাঘাত না ঘটে। বাবার সেই অক্লান্ত পরিশ্রম আর সঠিক নির্দেশনাই আজ আরাফাতকে জাতীয় দলের মঞ্চে নিয়ে এসেছে।
মিনহাস পরিবারের ক্রিকেটপ্রীতি এখানেই শেষ নয়। আরাফাতের ছোট ভাই সামিরও ঘরোয়া ক্রিকেটে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে ইতোমধ্যে পাকিস্তানের টেস্ট স্কোয়াডের দুয়ারে পৌঁছে গেছেন।
অন্যদিকে, সর্বকনিষ্ঠ ভাই আবদুল্লাহও বাঁহাতি ব্যাটিং ও লেগ স্পিন নিয়ে এগিয়ে চলেছেন। বাবা কাশিফের আজীবন স্বপ্ন – তার তিন ছেলেই একদিন জাতীয় দলের একাদশে একসঙ্গে খেলবে এবং দেশের মাটিতে কোনো আন্তর্জাতিক ট্রফি জয় করবে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের আঙিনায় আরাফাত মিনহাসের এই দুরন্ত যাত্রা সেই সুদূরপ্রসারী স্বপ্নেরই প্রথম সফল পদক্ষেপ মাত্র।












