ওল্ড ট্রাফোর্ডের ঘাস ছুঁয়ে যাওয়া ফ্লাডলাইটের আলোয় তখন ঘনীভূত হতাশা। উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের প্রথমার্ধ শেষেই ২-০ গোলে পিছিয়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। ইতালিয়ান ক্লাব এ.এস. রোমার ট্যাকটিকাল শৃঙ্খলার সামনে রেড ডেভিলদের রক্ষণ যেন এক টুকরো কাগজের কেল্লা। কিন্তু ফুটবল নামক মহাকাব্যে চিত্রনাট্য বদলাতে কতক্ষণই বা লাগে! দ্বিতীয়ার্ধের কৌশলগত রদবদল আর অবিশ্বাস্য মানসিক দৃঢ়তায় ঘুরে দাঁড়িয়ে রোমাকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড।
ম্যাচের শুরু থেকেই মাইকেল ক্যারিকের শিষ্যদের ওপর চড়াও হয় রোমা। ট্যাকটিকাল প্রেস আর পজিশনাল ফুটবলে প্রথমার্ধে ইউনাইটেডের মিডফিল্ড ও রক্ষণকে পুরোপুরি বোকা বানিয়ে দেয় সফরকারীরা। শুরুতেই রডরিগো মোরার নিখুঁত পাস থেকে ডি-বক্সের ভেতর বাম পায়ের শটে গোল করে রোমাকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন মাতিয়াস সোউলে।
সেই রেশ কাটতে না কাটতেই ১৭ মিনিটে ডি-বক্সে ফাউলের কারণে পাওয়া পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ডনিয়েল মালেন। প্রথমার্ধের স্কোরবোর্ডে ২-০ গোলের বড় ব্যবধান নিয়ে ড্রেসিংরুমে ফেরে ইউনাইটেড।

তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন কোচ মাইকেল ক্যারিক। ট্যাকটিকাল ফ্লেক্সিবিলিটি বাড়াতে বদলি হিসেবে নামানো হয় ইউরি টিলেমানসকে, যা দলের গতি ও মিডফিল্ডের নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনে। ম্যাচের ৫৫ মিনিটে বক্সের ভেতরে ম্যাথুস কুনহাকে ফাউল করা হলে পেনাল্টি পায় ইউনাইটেড। ৫৮ মিনিটে সেই পেনাল্টি থেকে নিখুঁত শটে গোল করে ব্যবধান কমান অধিনায়ক ব্রুনো ফার্নান্দেজ।
গোল শোধের আত্মবিশ্বাসে বলের দখল ও আক্রমণে ধার বাড়াতে থাকে রেড ডেভিলরা। রোমার ডিফেন্স তখন ক্লান্ত ও এলোমেলো। ৮৩ মিনিটে দুর্দান্ত এক আক্রমণে বক্সের খুব কাছ থেকে বল জালে জড়িয়ে ওল্ড ট্রাফোর্ডকে উল্লাসে ভাসান ম্যাথুস কুনহা। তবে নাটকীয়তার তখনও বাকি ছিল।
নির্ধারিত সময়ের ঠিক চার মিনিট আগে, অর্থাৎ ৮৬ মিনিটে শি ই লেসির দারুণ এক অ্যাসিস্ট থেকে বল পেয়ে বক্সের ডান দিক থেকে নিখুঁত শটে গোল করে ৩-২ ব্যবধানের অবিস্মরণীয় জয় নিশ্চিত করেন সেই কুনহাই। শেষ দিকে লাল কার্ড দেখতে হলেও, এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের পায়ের জাদুটাই ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে এনে দেয় মহাকাব্যিক এক জয়।

একের পর এক পরাজয় বরণের পর ইউরোপের মঞ্চে দুই গোল হজম করেও এমন কামব্যাক কেবল ম্যাচই জেতায় না, বরং দলের মনোবলকেও আকাশচুম্বী করে দেয়। হারের মুখ থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ইউনাইটেডের এই জয় দীর্ঘদিন স্মরণে রাখবেন সমর্থকরা।











