আধুনিক ক্রিকেটের অবিসংবাদিত সেরা

শততম সেঞ্চুরি তিনি পাবেন কি পাবেন না, সেটা বলা যায় না। তবে এটুকু বলা যায়, আধুনিক ওয়ানডে ক্রিকেটে বিরাট কোহলির মত আর কেউ আসেননি। ভবিষ্যতেও আসবেন কি না সন্দেহ।

২০০৮ সালের ১৮ আগস্ট, ডাম্বুলার রণগিরি স্টেডিয়ামে ভারতের হয়ে ব্যাট হাতে নামলেন এক সাদামাটা তরুণ। ২২ বল খেলে করলেন মাত্র ১২ রান, তারপর মাথা নিচু করে ফিরে গেলেন প্যাভিলিয়নে। সেদিন কেউ ভাবেনি, এই ছেলেটিই একদিন আধুনিক ক্রিকেট ইতিহাসের জীবন্ত কিংবদন্তি হয়ে উঠবেন। নামটা বিরাট কোহলি।

২০০৯ সালের ২৪ ডিসেম্বর। প্রতিপক্ষ সেই শ্রীলঙ্কা। কিন্তু এবার আর লঙ্কান বোলারদের কোনো অস্ত্রই কাজে এল না। ১১টি চার ও ১টি ছক্কায় সাজানো ইনিংসে জীবনের প্রথম ওয়ানডে শতকের দেখা পেলেন তিনি। ভারত ৭ উইকেট হাতে রেখে ম্যাচ জিতল।

সেদিনই ক্রিকেট বিশ্ব বুঝে গেল, এই তরুণ এসেছে টিকে থাকতে, নায়ক হতে, রাজা হতে। এরপর জায়গা হলো ২০১১ সালের বিশ্বকাপজয়ী দলে। সুযোগ পেয়েই ৯ ম্যাচে ৩৫.২৫ গড়ে করলেন ২৮২ রান। একই বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে হলো টেস্ট অভিষেক। এরপর তিন সংস্করণেই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করলেন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান।

সময় যত গড়িয়েছে, বিরাটের নামের পাশে রেকর্ডের তালিকাও ততই লম্বা হয়েছে। লক্ষ্য যতই কঠিন হোক, বিরাট ততটাই শান্ত। প্রতিপক্ষ বোলাররা একসময় বুঝে গেলেন, এই মানুষটা উইকেটে থাকলে রানের পাহাড়ও আর নিরাপদ নয়। ওয়ানডে ক্রিকেটে তাঁর ব্যাটিংয়ের সৌন্দর্য ফুটে উঠত সবচেয়ে বেশি। এই ফরম্যাটে একের পর এক মাইলফলক ছুঁয়ে চললেন তিনি।

২০১৩ সালে পেরোলেন চার ও পাঁচ হাজার রান, ২০১৪ সালে ছয় হাজার। ২০১৬ থেকে ২০১৮, এই সময়টাতেই তাঁর ব্যাটিং শিল্প যেন চূড়ায় পৌঁছাল। এই মৌসুমে বিরাটের ব্যাট থামতেই চাইছিল না। ২০১৮ সালে মাত্র ২০৫ ইনিংসে ১০ হাজার ওয়ানডে রান পূর্ণ করে শচীন টেন্ডুলকারের রেকর্ড ভেঙে দ্রুততম ১০ হাজার রানের রেকর্ড গড়লেন বিরাট।

তবে এই রেকর্ড-যাত্রার অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায় লেখা হলো ২০২৩ সালের এশিয়া কাপের সুপার ফোরে। ১১ সেপ্টেম্বর, কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়াম, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের বিপক্ষে ৯৪ বলে অপরাজিত ১২২ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেললেন কোহলি। ইনিংসটি সাজানো ছিল ৯টি চার ও ৩টি ছক্কায়। এই ইনিংসের মাধ্যমেই ওয়ানডে ক্রিকেটে ১৩ হাজার রানের মাইলফলক ছুঁলেন তিনি।

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়, মাত্র ২৬৭ ইনিংসে এই অর্জন পূর্ণ করে গড়লেন দ্রুততম ১৩ হাজারি ব্যাটারের রেকর্ড। আগের রেকর্ডটি ছিল শচীন টেন্ডুলকারের, যিনি এই মাইলফলকে পৌঁছেছিলেন ৩২১ ইনিংসে। অর্থাৎ ৫৪ ইনিংস আগেই কোহলি ছুঁয়ে ফেললেন সেই দূরত্ব।

তিন নম্বর পজিশনে তিনি ইতিহাসের সেরা ওয়ানডে ব্যাটার। এই পজিশনে রানের পাহাড় গড়েছেন বিরাট কোহলি। তাঁর সংগ্রহ ১৩ হাজার ৬২ রান। গড় ৬১.৬১। সেঞ্চুরি ৪৮টি, ফিফটি ৭০টি। রিকি পন্টিং কিংবা কুমার সাঙ্গাকারার মতো কিংবদন্তিদের পেছনে ফেলে এই জায়গাটাকে যেন নিজের করে নিয়েছেন বিরাট।

শততম সেঞ্চুরি তিনি পাবেন কি পাবেন না, সেটা বলা যায় না। তবে এটুকু বলা যায়, আধুনিক ওয়ানডে ক্রিকেটে বিরাট কোহলির মত আর কেউ আসেননি। ভবিষ্যতেও আসবেন কি না সন্দেহ।

Share via
Copy link