ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ‘বিগ সিক্স’ দলগুলো যখন কোটি পাউন্ডের স্কোয়াড নিয়ে শিরোপার লড়াইয়ে নামে, তখন তাদের অলক্ষ্যেই টেবিলের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয় অন্য তিনটি দল। ব্রেন্টফোর্ড, ব্রাইটন, এবং বোর্নমাউথ। ইংলিশ ফুটবল আঙিনায় সংক্ষেপে যাদের এখন বলা হচ্ছে ‘থ্রি বি’।
ওরা নিজেরা হয়তো প্রিমিয়ার লিগের ট্রফি উঁচিয়ে ধরবে না, কিন্তু কারা ট্রফি উঁচাবে সেই চাবিকাঠি এখন ওদেরই হাতে। প্রিমিয়ার লিগের মানচিত্রে এই তিন দল মিলিয়ে তৈরি করেছে এক অদৃশ্য ‘বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল’, যেখানে এসে সলিলসমাধি ঘটছে জায়ান্টদের পয়েন্ট ও শিরোপার স্বপ্ন।
বার্মুডা ট্রায়াঙ্গেল যেমন জাহাজ আর উড়োজাহাজকে মুহূর্তে রহস্যময়ভাবে গায়েব করে দেয়, ঠিক তেমনি ‘থ্রি বি’ এর হোম গ্রাউন্ডগুলো প্রিমিয়ার লিগের বড় দলগুলোর শিরোপার স্বপ্ন গায়েব করে দিচ্ছে।

ইতোমধ্যেই, চেলসি কিংবা আর্সেনালের মতো হেভিওয়েট দলগুলো এই ত্রিকোণ ফাঁদে পড়ে পয়েন্ট খুইয়ে মাঠ ছেড়েছে। প্রিমিয়ার লিগের রাজত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ে এই ছোট মাঠগুলোর মানসিক ও কৌশলগত চাপ সামলানোই এখন সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই তিন দলের এই অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠার পেছনে রয়েছে অতি সূক্ষ্ম ডাটা ড্রিভেন রিক্রুটমেন্ট। ব্রাইটন কিংবা ব্রেন্টফোর্ডের মতো দলগুলো কম খরচে খেলোয়াড় কিনে আনে এবং আধুনিক ফুটবলের সবচেয়ে উন্নত ডাটা ব্যবহার করে প্রতিপক্ষের দুর্বলতা খুঁজে বের করে। তারা তারকা ফুটবলারদের ওপর নির্ভর না করে এমন এক ট্যাকটিকাল সিস্টেম তৈরি করেছে, যা নামীদামী কোচদের হিসেব-নিকাশ গোলমেলে করে দেয়।
পাশাপাশি বড় দলের নাম দেখে ভয় পাওয়ার মানসিকতা ওদের একদমই নেই। বোর্নমাউথ কিংবা ব্রাইটন কখনোই নিজেদের ডি বক্সে ‘বাস পার্ক’ করে আত্মরক্ষা করে না। বরং তারা প্রিমিয়ার লিগের সেরা দলগুলোর বিরুদ্ধেও আগ্রাসী হাই প্রেসিং ফুটবল খেলে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে বাধ্য করে ভুল করতে। এর সাথে যুক্ত হয় তাদের নিজেদের ঘরের মাঠের ভয়াবহ পরিবেশ, যেখানে খেলতে যাওয়া যেকোনো শিরোপাপ্রত্যাশী দলের জন্যই এক আতঙ্কের নাম।

প্রিমিয়ার লিগ জিততে হলে কেবল বাকি বড় দলগুলোকে হারালেই চলে না, পুরো মৌসুমে ৩৮টি ম্যাচের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হয়। আর ঠিক এখানেই আঘাত হানে ‘থ্রি বি’।
মৌসুমে শেষে যখন কয়েক পয়েন্টের ব্যবধানে লিগ হাতছাড়া হয়, তখন পেছনের ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায় ব্রেন্টফোর্ডের মাঠে পয়েন্ট ড্র করা কিংবা ব্রাইটনের কাছে হারের সেই ক্ষতের কথা। তাদের নিজেদের ট্রফি ক্যাবিনেটে হয়তো প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা শোভা পাচ্ছে না। তবে ইংলিশ ফুটবলের রাজমুকুট কার মাথায় উঠবে – তা দিনশেষে এই বার্মুডা ট্রায়াঙ্গেলই ঠিক করে দিচ্ছে।











