আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এবার এক রূপকথা বুনল জিম্বাবুয়ে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে বয়সে চল্লিশের কোঠা পার করা চারজন অভিজ্ঞ সেনানীকে একসাথে নামিয়ে এক অনন্য রেকর্ড গড়েছে দলটি। আন্তর্জাতিক ওডিআই ক্রিকেটের সুদীর্ঘ পথচলায় আইসিসির কোনো পূর্ণাঙ্গ সদস্য দেশের জন্য এমন ঘটনা এবারই প্রথম।
দলের সবচেয়ে প্রবীণ কাণ্ডারি হিসেবে এই রেকর্ড গড়া ম্যাচে দলের মিডল অর্ডার সামলেছেন ক্রেইগ এরভাইন। ৪১ বছর ৩২ দিন বয়সে মাঠে নামা এই বাঁহাতি ব্যাটার বহুবার জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের সংকটে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন। বছরের পর বছর ধরে দলের ব্যাটিং অর্ডারে ভরসার প্রতীকে পরিণত হওয়া এরভাইন এই ম্যাচেও নিজের শান্ত মেজাজ ও পরিণত বুদ্ধিমত্তার ছাপ রেখেছেন।
উইকেটের সামনে ও পেছনে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের অন্যতম রঙিন চরিত্র ব্রেন্ডন টেলর। এই ম্যাচের দিনে তাঁর বয়স ছিল ৪০ বছর ২৬৬ দিন। শত বাধার মুখেও উইকেটে থিতু হয়ে ম্যাচ বের করে আনার যে মুন্সিয়ানা তিনি বছরের পর বছর ধরে দেখিয়ে আসছেন, এই ইতিহাস গড়া ম্যাচে তাঁর উপস্থিতি সেই অভিজ্ঞতার ঝুলিকেই আরও সমৃদ্ধ করেছে।

আধুনিক জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের প্রাণভোমরা সিকান্দার রাজা ৪০ বছর ১৪৯ দিন বয়সেও জিম্বাবুয়ের একাদশের সবচেয়ে পরিচিত মুখ। ব্যাট হাতে ঝোড়ো ইনিংস কিংবা বল হাতে প্রতিপক্ষের দুর্গ ভেঙে দেওয়া! সবখানেই তাঁর সমান পদচারণা। বয়সের কাঁটাকে পেছনে ফেলে এখনও তিনি একাই ম্যাচের রঙ বদলে দিতে পারেন।
চল্লিশ দশক পার করা চার সেনানীর শেষজন ছিলেন লেগ স্পিনার গ্রায়েম ক্রেমার। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটিতে যখন তিনি মাঠে নামেন, তখন তাঁর বয়স ঠিক ৪০ বছর ১ দিন। নিজের হাতের বৈচিত্র্যময় স্পিন আর দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের দূরদর্শিতা দিয়ে তিনি এখনও দলের বোলিং বিভাগের অন্যতম ভরসার নাম।
আজকের গতিময় ক্রিকেটে যেখানে তারুণ্যের উদ্দীপনা ও চপলতাকেই সবকিছুর ঊর্ধ্বে রাখা হয়, সেখানে অভিজ্ঞতার শক্তিকে পাথেয় করেই জিম্বাবুয়ের এই পদক্ষেপ। শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ব্যাট হাতে রাজা ও এরভাইনের জোড়া হাফ সেঞ্চুরিই প্রমাণ করে, তারা কেবল নামের ভিত্তিতেই দলে না। বরং মাঠের পারফরম্যান্সে বয়স কেবলই একটি সংখ্যা এবং অভিজ্ঞতার গুরুত্ব এখনও অনবদ্য।












