রুদ্ধশ্বাস ল্য ক্লাসিকে স্বাগতিক মার্সেইকে ২-১ গোলে হারিয়ে পূর্ণ তিন পয়েন্ট ছিনিয়ে নিয়েছে প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)। ম্যাচের প্রথমার্ধে মার্সেইয়ের কোচ ব্রুনো গেনেসিওর পাতা প্রেসিং ফাঁদ দ্বিতীয় অর্ধে লুইস এনরিকের পজিশনাল এডজাস্টমেন্ট এবং বেঞ্চের নিখুঁত ব্যবহারে চুরমার হয়ে যায়।
স্বাগতিক মার্সেইয়ের দায়িত্বে আসা ব্রুনো গেনেসিও শুরু থেকেই মাঝমাঠের স্পেস বন্ধ করতে ৩-২-৫ বা ৪-২-৩-১ হাই ব্লক প্রেস ব্যবহার করেন। পিএসজির মূল বিল্ডআপ হাব ভিতিনহা এবং জাও নেভেসের ওপর পিয়েরে এমিল হজবিয়ার্গ এবং অ্যাঞ্জেল গোমেস সার্বক্ষণিক ম্যান-টু-ম্যান প্রেস বজায় রাখেন।
লুইস এনরিকে প্রথমার্ধে ব্যাকলাইনে তিনজনকে রেখে বিল্ডআপ করলেও গেনেসিওর কৌশলে সেট করা মার্সেইয়ের হাই লাইন প্রেসের কারণে বল প্রোগ্রেস করতে ব্যর্থ হয়। উসমান ডেম্বেলে এবং খভিচা কাভারাট স্খেলিয়াকে টাচলাইনে আইসোলেট করে ফেলে মার্সেইয়ের ফুলব্যাকরা, ফলে পিএসজি হাফ স্পেস বা ইনসাইড চ্যানেলে ওভারলোড তৈরি করার মতো কোনো গতিশীলতা দেখাতে পারেনি।

দ্বিতীয় অর্ধে এনরিকে তাঁর প্রথাগত পজিশনাল প্লেতে পরিবর্তন আনেন। ৫৮ মিনিটে ফেরান তোরেস মাঠে আসার পর পিএসজির ফ্রন্টলাইন অনেক বেশি রোটেশনাল হয়ে ওঠে। তোরেস ফলস নাইন হিসেবে নিচে নেমে এসে মার্সেইয়ের সেন্ট্রাল ডিফেন্ডারদের পজিশন থেকে টেনে বের করেন।
এর ফলে মার্সেই ডিফেন্স ও মিডফিল্ডের মাঝের ‘পকেট অব স্পেস’ উন্মুক্ত হয়ে পড়ে। প্রথম গোলটির ক্ষেত্রে দেখা যায়, তোরেসের নামার কারণে ডিফেন্সিভ লাইন সংকুচিত হলে দুয়ে সেই হাফ স্পেস ব্যবহার করার সুযোগ পান এবং সেখান থেকেই প্রথম ব্রেকথ্রু আসে।
গোল খাওয়ার পর মার্সেই ভার্টিক্যাল প্লেতে মনোযোগ দেয়। পিএসজির আক্রমণের সময় পেছনে পর্যাপ্ত ডিফেন্সিভ কাভার না থাকার সুযোগ নিয়ে মার্সেই খুব দ্রুত ট্রানজিশন ঘটায়।

আমিনে গুইরির বাড়ানো বল ধরে গোমেসের গোলটি মূলত পিএসজির ওভার কম্পেনসেটেড আক্রমণের মাশুল। তবে সমতায় ফেরার পর মার্সেই নিজেদের বক্সে জোনাল মার্কিং ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়, যার সুযোগ নিয়ে মারকুইনহোস দ্বিতীয় গোলটি করে বসলে আবারও এগিয়ে যায় পিএসজি।
৭৭ মিনিটে টিমোথি উইয়াহ দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে গেনেসিওর ডিফেন্সিভ স্ট্রাকচার পুরোপুরি ভেঙে পড়ে। দশ জনের দল নিয়ে প্রেস অক্ষুণ্ণ রাখা অসম্ভব হওয়ায় মার্সেইকে লো ব্লকে নেমে যেতে হয়। ফলে পিএসজি খুব সহজেই বল পজেশন ধরে রেখে মিডফিল্ডের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের দখলে নেয় এবং জয়ের বন্দর স্পর্শ করে।











