টুর্নামেন্টের নাম ‘রাইজিং স্টার্স এশিয়া কাপ’। অর্থাৎ উদীয়মান তারকাদের বিকশিত হওয়ার মঞ্চ। সেখানে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) যেন সাব্বির রহমান কিংবা ইয়াসির আলীদের নিয়ে কোনো প্রবীণ নিবাসের বার্ষিক বনভোজনে যাচ্ছে।
আজ থেকে ঠিক এক দশক আগে, ২০১৬ সালের টি-টোয়েন্টি এশিয়া কাপে পুরো টুর্নামেন্টে ব্যাট হাতে আলো ছড়িয়ে ‘প্লেয়ার অব দ্য টুর্নামেন্ট’ হয়েছিলেন সাব্বির রহমান। এরপর গঙ্গা দিয়ে কত জল গড়িয়ে গেল।
অথচ ২০২৬ সালে এসে সেই ৩৪ পার করা সাব্বিরকেই বিসিবি আবিষ্কার করল নাকি এক উদীয়মান তারকা হিসেবে! যে তারকা দশ বছর আগে উদয় হয়ে অস্ত যাওয়ার পথে, সে এখন কাতার সফরে গিয়ে নতুন করে কীভাবে ‘রাইজ’ করবে, তা বোধহয় বিসিবি বাদে আর কারও জানা নেই।

বিস্ময়ের শেষ এখানেই নয়। স্কোয়াডের দিকে তাকালে দেখা মিলবে ইয়াসির আলি চৌধুরী, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন কিংবা নাইম শেখদের। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অলিগলি যাদের বহুল চেনা, জাতীয় দলের ড্রেসিংরুমে যাদের বছরের পর বছর কেটে গেছে, তারাও নাকি এখন এ এশিয়ার উদীয়মানদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করবেন!
ইয়াসির আলী কিংবা সাইফউদ্দিনদের ক্যারিয়ার পারফর্ম্যান্সের যে গ্রাফ, তাতে নতুন কোনো ‘রাইজিং’ রোমাঞ্চ খোঁজা এই যুগেও ডায়নাসোরের ডিম থেকে নতুন করে বাচ্চা ফোটানোর মতো। যে নাইম শেখ জাতীয় দলের ওপেনিংয়ে বারবার সুযোগ পেয়েও থিতু হতে পারেননি, তিনিও এই বয়সে এসে তরুণদের মেধার ভিড়ে নিজেকে উদীয়মান প্রমাণ করতে যাচ্ছেন!
এই অভিজ্ঞ পুনর্বাসন প্যাকেজে সবচেয়ে রহস্যময় সংযোজন অবশ্য ইরফান শুক্কুর। ৩৩ পার করা এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান জাতীয় দলের তো দূর – ঘরোয়া ক্রিকেটেও তার ধারাবাহিকতা বলতে তেমন কিছু নেই, তাকে কোন যুক্তিতে ‘রাইজিং’ তকমা দিয়ে পাঠানো হচ্ছে, তা এক মহাবিস্ময়।

অথচ এমন তো নয় যে বাংলাদেশে তরুণ প্রতিভার দুর্ভিক্ষ চলছে। অনূর্ধ্ব-১৯ কিংবা ঘরোয়া বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্টগুলোতে একের পর এক নজর কেড়ে দেশের ক্রিকেটের আগামী দিনের আশার প্রদীপ হয়ে জ্বলছেন জাওয়াদ আবরার। দুর্দান্ত সব শটে নিজের জাত চেনাচ্ছেন আরিফুল ইসলাম কিংবা আশিকুর রহমান শিবলির মতো তরুণ তুর্কিরা।
আন্তর্জাতিক বা মহাদেশীয় চাপের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার অভিজ্ঞতা তো এই তরুণদেরই দরকার ছিল। যাদের ব্যাটে ভবিষ্যতের আশা, যারা আগামীর বাংলাদেশকে টেনে নিয়ে যেতে পারতেন, তাদের ঘরোয়া সার্কিটে বসিয়ে রেখে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা পাকানো হচ্ছে কাদের? ৩৩-৩৪ বছরের পারফর্ম্যান্সহীন খেলোয়াড়দের।
১৯ সদস্যের দলে ১২ জনই আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন! প্রতিপক্ষ দলগুলো যখন অনূর্ধ্ব-১৯ কিংবা বয়সভিত্তিক একাডেমি থেকে উঠে আসা কাঁচা হীরে ঘষেমেজে চকচকে করার পরিকল্পনা করছে, সেখানে বিসিবি পাঠাচ্ছে অভিজ্ঞতার ভারে নুয়ে পড়া এক বহর।

উদীয়মানদের তুলে আনার টুর্নামেন্টকে যদি পুনর্বাসন কেন্দ্র বানানোর এই ধারা অব্যাহত থাকে, তবে ভবিষ্যতে বয়সভিত্তিক ক্রিকেট কিংবা এইচপি দলের সংজ্ঞাটাই পাল্টে যেতে বাধ্য। বিসিবির কাছে হয়তো ‘রাইজিং’ মানে পারফর্ম্যান্সের গ্রাফ নয়, কেবল জাতীয় দলের খাতায় নামটা আরেকবার ওঠানোর আকুল আবেদন!











