গত ম্যাচে যেখানে শেষ করেছিলেন, সেভিয়ার বিপক্ষেও ঠিক সেখান থেকেই যেন খেলা শুরু করলেন রাফিনহা। ম্যাচ জুড়ে বলের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ, দুর্দান্ত গতি আর বক্সের ভেতরে খুনে মেজাজ দেখিয়ে তুলে নিয়েছেন ব্যাক-টু-ব্যাক হ্যাটট্রিক।
মাঠে রাফিনহার এই হ্যাটট্রিক পূরণের প্রতিটি গোলই ছিল মূল স্ট্রাইকারসুলভ নিখুঁত ফিনিশিংয়ের দুর্দান্ত প্রদর্শনী। ২২ মিনিটে পিছিয়ে পড়া বার্সেলোনাকে প্রথম সমতায় ফেরান তিনি। বক্সের বাম দিকে আন্দ্রেয়াস ক্রিস্টেনসেনের বাড়ানো পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দারুণ এক টাচে ডিফেন্ডারকে পরাস্ত করেন এবং ডান পায়ের শটে সেভিয়ার জালে পাঠান।
বিরতির ঠিক পরপরই ৫২ মিনিটে দলকে লিড এনে দেন তিনি। ডান প্রান্ত থেকে লামিনে ইয়ামালের উঁচিয়ে মারা ক্রসে সেভিয়ার দুই ডিফেন্ডারের মাঝখানে উঁচুতে লাফিয়ে পড়ে হেডে বল জালে জড়ান রাফিনহা।

এরপর ৬৮ মিনিটে ইয়ামালের চতুর থ্রু পাস ধরে সেভিয়ার ডিফেন্সলাইন চিরে বক্সে ঢুকেন। বাঁ পায়ের ঠান্ডা মাথার গ্রাউন্ড শটে নিজের ব্যাক-টু-ব্যাক হ্যাটট্রিক ও দলের জয় সুনিশ্চিত করেন তিনি।
নাম্বার নাইন বা প্রথাগত স্ট্রাইকারের মতো ডিফেন্ডারদের পিঠে চেপে থাকা এবং বক্সের ভেতর সঠিক পজিশনিং নেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি অনন্য মেধার পরিচয় দিচ্ছেন। লামিনে ইয়ামাল ও মিডফিল্ডারদের বাড়ানো থ্রু পাস এবং ক্রসগুলোকে কাজে লাগাতে রাফিনহার বক্সে টাইমলি রান ও এক-দুই টাচের ফিনিশিং সেভিয়ার সেন্ট্রাল ডিফেন্সকে পুরোপুরি ধসিয়ে দিয়েছে।
চলতি মৌসুমে প্রথাগত স্ট্রাইকার হিসেবে রাফিনহার এই উড়ন্ত ফর্ম যেন ইউরোপীয় ফুটবলের সবচেয়ে বড় বিস্ময়। সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে চলতি মৌসুমে মাত্র আট ম্যাচে মাঠে নেমেই তাঁর গোল সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২টিতে, সাথে রয়েছে তিনটি অ্যাসিস্ট।

এর মধ্যে শুধু লা লিগাতেই সাত ম্যাচে নয়টি গোল করেছেন তিনি এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এক ম্যাচে ঝুলিতে পুরেছেন দুইটি গোল। টানা দুই ম্যাচে হ্যাটট্রিক করে নিজের ক্যারিয়ারের সেরা ফর্ম উপভোগ করা এই ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকারের ওপর ভর করেই পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান শক্তভাবে ধরে রেখেছে হ্যান্সি ফ্লিকের দল।











