মৌসুমের শুরু থেকেই সব মহলে একটিই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল প্রিমিয়ার লিগে এবারের আর্সেনালকে থামাবে কে? সেই বহুল আলোচিত প্রশ্নের মোড় ঘুরিয়ে দিয়ে আমেরিকান এক্সপ্রেস স্টেডিয়ামে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের অবিশ্বাস্যভাবে স্তব্ধ করে দিল ব্রাইটন অ্যান্ড হোভ অ্যালবিয়ন। এবারের আসরে চার ম্যাচে মাত্র একটি গোল হজম করা মিকেল আর্তেতার ইস্পাতদৃঢ় রক্ষণভাগকে ৩-০ গোলে চূর্ণবিচূর্ণ করার পেছনে ব্রাইটনের সুনির্দিষ্ট কৌশলগত পরিকল্পনা কাজ করেছে।
প্রথমত, ব্রাইটন ম্যান-টু-ম্যান হাই প্রেস প্রয়োগ করে আর্সেনালের ফার্স্ট ফেজ বিল্ড আপ পুরোপুরি পঙ্গু করে দেয়। আর্সেনাল সাধারণত গোলরক্ষক ও ডিফেন্ডারদের সংক্ষিপ্ত পাসের মাধ্যমে পেছন থেকে আক্রমণ গড়ে তোলে। ব্রাইটন মিডফিল্ডারদের পাসিং লেনগুলো নিখুঁতভাবে ব্লক করে দেওয়ায় আর্সেনাল ডিফেন্ডাররা বারবার বলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ভুল পাস দিতে বাধ্য হয়।
দ্বিতীয়ত, আর্সেনালের সংকুচিত ৪-২-৩-১ ডিফেন্সিভ ব্লকেড ভাঙতে ব্রাইটন বক্সের বাইরের খালি জায়গা এবং দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাককে কাজে লাগায়। ৩১ মিনিটে আর্সেনাল ডিফেন্স বক্সের ভেতর অতিরিক্ত চেপে গেলে বক্সের ঠিক সামনে ফাঁকা জায়গা পেয়ে যান পাস্কাল গ্রোস, এবং সেখান থেকে নেওয়া জোরালো রাইট ফুটেড শটে ব্রাইটনকে প্রথম গোল এনে দেন।

এরপর আর্সেনাল সমতায় ফিরতে ওপরে উঠলে প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে এক দ্রুতগতির কাউন্টার অ্যাটাক থেকে দিয়াগো গোমেজের পাস ধরে বক্সের বাইরে থেকে নিচু শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন চারাল্যাম্পোস কোস্টুলাস।
তৃতীয়ত, আর্সেনালের ঐতিহ্যবাহী শক্তির জায়গা অর্থাৎ সেট পিস ও এরিয়াল ব্যাটেলেও ম্যাচটিতে বাজিমাত করেছে ব্রাইটন। মাঠের ডানপ্রান্ত দিয়ে ক্রমাগত আক্রমণ চালিয়ে তারা আর্সেনালকে ডিফেন্সিভ কর্নার দিতে বাধ্য করে। ম্যাচের ৫৭ মিনিটে পাওয়া এক কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে অতি কাছ থেকে চমৎকার হেডে ৩-০ ব্যবধান নিশ্চিত করেন চেমা আন্দ্রেস।
সংক্ষেপে, হাই প্রেসিং দিয়ে ম্যান মার্কিং করা, বক্সের বাইরে জায়গা বের করে দূরপাল্লার নিখুঁত শট নেওয়া এবং দ্রুতগতির কাউন্টার অ্যাটাক। এই তিন অস্ত্রের সমন্বয়েই মিকেল আর্তেতার সুরক্ষিত ডিফেন্সিভ ব্লকেডকে পুরোপুরি ভেঙে গুড়িয়ে দিয়েছে ব্রাইটন।












