বায়ার্নের ডেরা, ওলিসের রাজ্য

অ্যালিয়াঞ্জ অ্যারেনায় বায়ার্ন মিউনিখ মানেই আক্রমণের চেনা তাণ্ডব, আর সেই তাণ্ডবের কেন্দ্রবিন্দুতে এখন এক একক রাজপুত্র - মাইকেল ওলিসে।

অ্যালিয়াঞ্জ অ্যারেনায় বায়ার্ন মিউনিখ মানেই আক্রমণের চেনা তাণ্ডব, আর সেই তাণ্ডবের কেন্দ্রবিন্দুতে এখন এক একক রাজপুত্র – মাইকেল ওলিসে। হ্যারি কেন, লুইস দিয়াজ কিংবা জামাল মুসিয়ালার মতো মহাতারকাদের ভিড়েও পুরো দলের আক্রমণভাগের আলোকচ্ছটা এখন নিজের দিকেই ধরে রেখেছেন এই ফরাসি উইঙ্গার। ইউনিয়ন বার্লিনকে ৭-০ ব্যবধানে চূর্ণ করার অবিস্মরণীয় রাতে হ্যাটট্রিক করে তিনি কেবল গোলের বৃষ্টিই নামাননি, বরং দেখিয়েছেন আধুনিক উইঙ্গারদের পূর্ণাঙ্গ কৌশলগত প্রভাব।

ম্যাচের শুরু থেকেই ডান উইং এবং হাফ স্পেসজুড়ে ওলিসের পজিশনিং বার্লিনের রক্ষণভাগের জন্য ত্রাস হয়ে দাঁড়ায়। তিনি প্রথাগত উইঙ্গারদের মতো কেবল টাচলাইনে সীমাবদ্ধ না থেকে ভেতরের দিকে চলে আসায় বার্লিনের লেফট ব্যাক ও সেন্ট্রাল ডিফেন্ডারদের পজিশন ছেড়ে ওপরে উঠে আসতে বাধ্য করেন।

প্রথমার্ধের ৪৩তম মিনিটে এই কৌশলগত সুবিধার শতভাগ ব্যবহার দেখা যায়। সেট পিস পরিস্থিতি থেকে জামাল মুসিয়ালার বাড়ানো বল পেয়ে বক্সের বাহির থেকে হাফ স্পেসে ফাঁকা জায়গা তৈরি করে বাঁ পায়ের দূরপাল্লার কার্ভিং শটে বল টপ রাইট কর্নারে পাঠিয়ে বায়ার্নকে ৩-০ গোলের ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি।

দ্বিতীয় অর্ধে ট্রানজিশনাল ফুটবলে আরও মারাত্মক রূপ নেন ওলিসে। ৭৩তম মিনিটে বার্লিনের হাই লাইন ডিফেন্সের পেছনের স্পেসকে কাজে লাগিয়ে টম বিশফের কাউন্টার অ্যাটাকিং থ্রু পাসের দারুণ টাইমিঙে রান নেন তিনি। এরপর সেন্ট্রাল পজিশন থেকে ডান পায়ের শটে গোলের হাই সেন্টারে লক্ষ্যভেদ করে দলের ষষ্ঠ গোলটি করেন।

এর ঠিক তিন মিনিট পর, অর্থাৎ ৭৬তম মিনিটে প্রতিপক্ষের ক্লিয়ারেন্স থেকে রিবাউন্ড বলে হাই প্রেসিং বজায় রেখে বিশফের পাস থেকে বক্সের বাহির থেকে বাঁ পায়ের নিখুঁত ডাইরেক্ট শটে বটম রাইট কর্নার ঘেঁষে জাল কাঁপিয়ে নিজের হ্যাটট্রিকটি পূরণ করেন।

বায়ার্ন মিউনিখের ৭-০ ব্যবধানের ইতিহাস গড়া জয়ের রাতে ওলিসের এই পারফরম্যান্স কেবল তিনটি গোলের পরিসংখ্যানে সীমাবদ্ধ নয়। ইনসাইড কাটিং, নিখুঁত স্পেস রিকগনিশন এবং উভয় পায়ে বক্সের ভেতর ও বাহির থেকে ক্লিনিক্যাল ফিনিশিং।সব মিলিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন যে আধুনিক আক্রমণাত্মক ফুটবলে কীভাবে পজিশনাল সুবিধা নিয়ে প্রতিপক্ষের যেকোনো রক্ষণভাগ ভঙ্গুর করে দেওয়া যায়।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

Share via
Copy link