ইংল্যান্ড মাতিয়ে এবার বাংলাদেশ দলের পেস ট্রাম্পকার্ড হাসান!

একটা সময় বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা বিদেশি পেসারদের সামনে পড়লেই খাবি খেতেন। কারণটা সহজ, নেটে তাদের বল করার মতো বোলারই ছিল না যাদের গতি বা সুইং বিদেশি পেসারদের কাছাকাছি যায়। ফলে সিরিজ শুরুর আগেই ব্যাটসম্যানরা এক ধরনের ঘাটতি নিয়ে নামতেন, মাঠে গিয়ে সেই ঘাটতির মাশুল দিতে হতো।

একটা সময় বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা বিদেশি পেসারদের সামনে পড়লেই খাবি খেতেন। কারণটা সহজ, নেটে তাদের বল করার মতো বোলারই ছিল না যাদের গতি বা সুইং বিদেশি পেসারদের কাছাকাছি যায়। ফলে সিরিজ শুরুর আগেই ব্যাটসম্যানরা এক ধরনের ঘাটতি নিয়ে নামতেন, মাঠে গিয়ে সেই ঘাটতির মাশুল দিতে হতো।

সময় বদলেছে। এখন সেই জায়গাটা দখল করে নিচ্ছেন দেশের বোলাররাই। হাসান মাহমুদ তাদের মধ্যে অন্যতম একজন, চলতি মৌসুমে কেন্টের পোস্টার বয় বলা যায় যাকে। এশিয়ান গেমসের ডাকে ইংল্যান্ড থেকে সদ্য দেশে ফিরেছেন তিনি।

দেশে ফিরেই মিরপুরের নেটে নিজের সেই ধার দেখিয়েছেন হাসান। ইংল্যান্ডে যে বোলিংয়ে কাউন্টির ব্যাটসম্যানদের ভুগিয়েছেন, নেটেও সেই একই বোলিং দিয়ে বিপাকে ফেলেছেন ইয়াসির আলী, সাইফ হাসানদের। এমন পরীক্ষার উপকারটা আসলে সবচেয়ে বেশি হচ্ছে সতীর্থ ব্যাটসম্যানদেরই, বিদেশি পেসারদের সামনে পড়ার আগে নিজেদের ঘাটতি বুঝে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন তারা।

কাউন্টি ক্রিকেটে এবারের মৌসুমটা হাসানের জন্য দারুণ কেটেছে। ডার্বিশায়ারের বিপক্ষে প্রথম দিনেই প্রথম দুই বলে দুই উইকেট নিয়ে চমক দেন, পরে আরও দুটি যোগ করে প্রথম ইনিংসে নেন চার উইকেট। দুই ইনিংস মিলিয়ে সেই ম্যাচেই শিকার সাত উইকেট। সারে আর হ্যাম্পশায়ারের বিপক্ষেও খালি হাতে ফেরেননি, দুই ম্যাচেই নিয়েছেন একটি করে উইকেট।

মিডলসেক্সের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওভারেই বল পেয়ে জশুয়া ডি কাইর্সকে ফেরান, পরে ইয়র্কারে ফেলেন বেন জেডসকে। দেশে ফেরার আগ পর্যন্ত কেন্টের হয়ে মোট শিকার ২৬ উইকেট, দলের তিনটি জয়ে সরাসরি অবদান তার। কেন্ট অবশ্য বেশিরভাগ ম্যাচেই জয়ের দেখা পায়নি, কিন্তু দলীয় ব্যর্থতার মধ্যেও হাসান একাই আলো ছড়িয়েছেন।

কাউন্টি ক্রিকেটের পাঠ চুকিয়ে ফেরার আগেই টেস্ট ক্রিকেটে নিজের সামর্থ্যের বড় প্রমাণ রেখে এসেছেন হাসান। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ডারউইন টেস্টের প্রথম ইনিংসে একাই তুলে নেন ৬ উইকেট, অস্ট্রেলিয়াকে গুটিয়ে দেন ১৯৮ রানে। বাংলাদেশের ইনিংস যখন বিপর্যয়ের মুখে, তখন ব্যাট হাতে মিরাজের সঙ্গে জুটি বেঁধে ৯২ বল খেলে দলের লিড পোক্ত করার কাজটা করেন। আউট হওয়ার পর বল হাতে ফিরেই আবার আঘাত হানেন, অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে প্রথম স্পেলেই ফেরান জেক ওয়েদারাল্ড আর ট্রাভিস হেডকে।

২০১৭ সালে চট্টগ্রাম বিভাগের হয়ে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে পথচলা শুরু হয়েছিল হাসান মাহমুদের। ২০২১ সালে জাতীয় দলেও জায়গা হয়, কিন্তু সেই সময়টায় নিজের ছায়া হয়েই থেকে গিয়েছিলেন তিনি, ইনজুরিও পিছু ছাড়েনি মাঝে। তবে ২০২৬ এ এসে যেন অন্য এক হাসান মাহমুদকে দেখা যাচ্ছে, যিনি বলকে কথা বলাতে জানেন। তার হাত থেকে বেরোনো প্রতিটা ডেলিভারিই যেন একেকটা উইকেটের গল্প লেখে।

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link