লা লিগায় নিজেদের অপ্রতিরোধ্য যাত্রা বজায় রাখল বার্সেলোনা। স্পোটিফাই ক্যাম্প ন্যুতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে রেসিং ক্লাবকে ৭-২ গোলের বিশাল ব্যবধানে বিধ্বস্ত করেছে কাতালান জায়ান্টরা। হ্যান্সি ফ্লিকের অধীনস্থ বার্সেলোনার এই বিধ্বংসী আক্রমণের মূল চাবিকাঠি ছিল তাদের নিখুঁত ট্যাকটিক্যাল স্ট্রাকচার এবং প্রতিপক্ষের ওপর নিরবচ্ছিন্ন মানসিক চাপ।
হ্যান্সি ফ্লিক ৪-৩-৩ ফর্মেশনে আক্রমণাত্মক একাদশ নামান। অন্যদিকে প্রতিপক্ষ রেসিং স্যান্টানডার ৪-১-৩-২ ফর্মেশনে রক্ষণভাগ সামলে কাউন্টার অ্যাটাকের কৌশল বেছে নিলেও বার্সেলোনার উচ্চগতির কাউন্টার প্রেসিংয়ের সামনে তাদের পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।
ম্যাচের শুরু থেকেই বার্সেলোনা সাফোকেটিং হাই প্রেস কৌশল প্রয়োগ করে। হ্যান্সি ফ্লিকের মূল দর্শন ছিল বল হারানোর মাত্রই দ্রুত ব্যাক প্রেস করে তা পুনরুদ্ধার করা। রেসিং স্যান্টানডার যখনই নিজেদের ডি বক্স থেকে খেলা গড়ার চেষ্টা করছিল, পেদ্রি ও রড্রির পজিশনিং তাদের পাসিং লেনগুলো সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয় এবং প্রথম দুটি গোলের জন্ম এই প্রেসিং থেকেই হয়।

পাশাপাশি হাফ স্পেস ওভারলোডের দারুণ ব্যবহার দেখা যায়। জোয়াও ক্যান্সেলো ডানদিক থেকে ইনভার্টেড ফুলব্যাক হিসেবে ভেতরে ঢুকে আধা মিডফিল্ডারের ভূমিকা পালন করেন। এর ফলে লামিনে ইয়ামাল ওয়াইড পজিশনে ড্রিবলিংয়ের পর্যাপ্ত জায়গা পেয়ে যান। ম্যাচের সপ্তম মিনিটে ক্যান্সেলোর করা প্রথম গোলটি ছিল এই ইনভার্টেড মুভমেন্টেরই সরাসরি ফল।
আক্রমণভাগে ভার্টিক্যাল উইং ট্রানজিশন ও রাফিনহার পজিশনিং ছিল প্রতিপক্ষের জন্য আতঙ্ক। রেসিংয়ের ডিফেন্স লাইন যখন ইয়ামালকে কভার করতে ব্যস্ত ছিল, রাফিনহা সেন্ট্রাল করিডোর দিয়ে বক্সে ঢুকে ফাইনাল থার্ড কাঁপিয়ে তোলেন। জোড়া পেনাল্টি ও একটি ওপেন প্লে গোল সহ তাঁর হ্যাটট্রিক বার্সার দ্রুতগতির ট্রানজিশন ফুটবলকে প্রতিফলিত করে।
তবে বার্সেলোনা সাতটি গোল করলেও তাদের ডিফেন্সিভ হাই লাইন সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত ছিল না। রেসিং স্যান্টানডারের প্রথম গোলটি আসে ডিফেন্সের পেছনের ফাঁকা জায়গা ব্যবহার করে দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক থেকে। দ্বিতীয় অর্ধে জাসির জাবিরির গোলটিও দেখায় যে অতিরিক্ত আক্রমণাত্মক হওয়ার কারণে ট্রানজিশনের সময় বার্সার সেন্টার ব্যাকরা একা হয়ে পড়েন।

৯০ মিনিটের এই ফুটবলে বার্সেলোনা প্রমাণ করল যে তাদের আক্রমণভাগ এই মুহূর্তে ইউরোপের অন্যতম সেরা। রেসিং স্যান্টানডারের রক্ষণভাগকে স্রেফ দুমড়ে-মুচড়ে দিয়ে হ্যান্সি ফ্লিকের শিষ্যরা শিরোপা দখলের লড়াইয়ে নিজেদের শক্ত অবস্থানের আবারও স্পষ্ট বার্তা দিয়ে রাখল।











