বাঁ পায়ের ছোঁয়ায় যিনি এক যুগেরও বেশি সময় ধরে একটি আস্ত জাতিকে স্বপ্ন দেখিয়েছেন, সেই গোল্ডেন বয় হামেস রদ্রিগেজ আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন। কলম্বিয়ার সেই আইকনিক দশ নম্বর হলুদ জার্সি তুলে রেখে জাতীয় দলের হয়ে নিজের শেষ অধ্যায়ে তুলির চূড়ান্ত টান দিলেন তিনি।
জাতীয় দলের হয়ে দীর্ঘ পথচলায় তিনি খেলেছেন ১৩১টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ। জার্সি গায়ে তাঁর গোলসংখ্যা ৩১টি, যা তাঁকে দেশের সর্বকালের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসিয়েছে।
শুধু তা-ই নয়, সতীর্থদের দিয়ে গোল করানোর দিক থেকে তিনি কলম্বিয়ার সর্বকালের সেরা। তাঁর ঝুলিতে রয়েছে দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টের রেকর্ড। আন্তর্জাতিক মঞ্চে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বেও কলম্বিয়ার হয়ে সবচেয়ে বেশি গোল করার নজিরটি তাঁরই দখলে।

২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপে হামেস যখন আত্মপ্রকাশ করেন, তখন তাঁর বয়স মাত্র ২২। সেই টুর্নামেন্টে ছয়টি গোল করে বিশ্বকে স্তম্ভিত করে জেতেন টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার ‘গোল্ডেন বুট’। বিশেষ করে উরুগুয়ের বিরুদ্ধে পেনাল্টি বক্সের বাইরে বুক দিয়ে বল নিয়ন্ত্রণ করে নেওয়া সেই অবিশ্বাস্য ভলি শটের গোলটি পেয়েছিল বছরের সেরা গোলের স্বীকৃতি।
সেই এক টুর্নামেন্ট দিয়েই নিজেকে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম কাঙ্ক্ষিত নাম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন তিনি। যা তাঁকে নিয়ে গিয়েছিল ইউরোপীয় জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদ এবং পরবর্তীতে বায়ার্ন মিউনিখের ডেরায়।
বয়সের কারণে ক্লাবে তাঁর প্রভাব কিছুটা কমলেও জাতীয় দলে তিনি ছিলেন সবসময়ই অপ্রতিরোধ্য। যার প্রমাণ মেলে সবশেষ ২০২৪ কোপা আমেরিকায়। পুরো টুর্নামেন্টে একক আধিপত্য দেখিয়ে ছয়টি অ্যাসিস্ট এবং দুর্দান্ত প্লে মেকিং দিয়ে দলকে ফাইনালে তোলেন। টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হয়ে জিতে নেন ‘গোল্ডেন বল’।

আন্তর্জাতিক বুট তুলে রাখলেও ক্লাব ফুটবলে তাঁর লড়াই এখনই থামছে না। পেশাদার জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তিনি ফিরে গেছেন নিজের দেশ কলম্বিয়াতেই। এখন থেকে তিনি কেবল ঘরোয়া ক্লাব অ্যাতলেটিকো নাসিওনালের হয়ে খেলে যাবেন।
হলুদ জার্সিতে তাঁর বাঁ পায়ের প্রতিটি নিখুঁত বাঁক কিংবা বাতাস চিরে পাঠানো পাসের ভেতরে কোনো কৌশল ছিল না, ছিল এক একটা আস্ত ভৌগোলিক স্মৃতিকথা। আন্তর্জাতিক ফুটবলের আধুনিক গাণিতিক গোলকধাঁধায় তিনি থেকে যাবেন এক অবাধ্য টাইম ট্রাভেলার হিসেবে। যিনি আধুনিক মাঠেও পুরানো দিনের জাদু ছড়িয়ে বিদায় নিলেন এক অবিস্মরণীয় নক্ষত্র হয়ে।











