সাকিব-তামিমকে এক সুতোয় বেঁধে রাখল ১৫ সেপ্টেম্বর!

আজ সেই দুজনের পথ সম্পূর্ণ আলাদা। সাকিব দেশের বাইরে ঘুরে বেড়ান বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে। তামিম এখন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রেসিডেন্টের চেয়ারে। যে দুজন একসময় হাত ধরাধরি করে বাংলাদেশ ক্রিকেটকে এগিয়ে নিয়েছিলেন, আজ তাদের মধ্যে যতটা দূরত্ব, ততটাই দূরত্ব তাদের বর্তমান পরিচয়েও। তবু ১৫ সেপ্টেম্বর তারিখটা রয়ে গেছে দুজনকেই এক সুতোয় বেঁধে, যেভাবে হয়তো তারা নিজেরাও কখনো ভাবেননি।

একটা সময় ছিলো যখন মাঠে পাশাপাশি ছিলেন, মাঠের বাইরেও ছিলেন বন্ধু, থাকতেন পাশাপাশি ফ্ল্যাটে। তামিম ইকবাল আর সাকিব আল হাসান একসাথে বড় হয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের হাত ধরে। একজন দেশের সেরা ব্যাটসম্যান, আরেকজন দেশের সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডার। দুজনই হয়ে উঠেছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের পোস্টার বয়।

কিন্তু সময় বদলায়, মানুষও বদলায়। যে বন্ধুত্ব একসময় অটুট মনে হতো, তাতে ধীরে ধীরে চিড় ধরে। নানা ইস্যুতে দূরত্ব বাড়তে থাকে দুজনের মধ্যে। প্রয়োজন ছাড়া কথা হতো না, একসাথে থাকা তো দূরের কথা। বছরের পর বছর এই দূরত্ব নিয়ে আলোচনা হয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেটে, চায়ের কাপে, মাঠের গ্যালারিতে, সংবাদমাধ্যমের পাতায়। ক্রীড়ামোদিদের মতে এর প্রভাব মাঠে কিংবা ড্রেসিং রুমেও এসেছিল। !

তবু ভাগ্যের নিয়ম বড়ই অদ্ভুত। যে দুজন একসময় হাতে হাত রেখে চলতেন  অদ্ভুত কাকতালীয়তায় তাদের এশিয়া কাপ ক্যারিয়ারও থেমে গেছে একই তারিখে শুধু পাঁচ বছরের ব্যবধানে।

২০১৮ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর দুবাইয়ে শ্রীলঙ্কার সাথে ইনিংস এর ২য় ওভারেই পুল করতে গিয়ে হাতে কবজি ও আঙুলে আঘাত পান তামিম।রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে নেমে যেতে হয় তাঁকে।  চিকিৎসকরা জানিয়ে দেন, এই এশিয়া কাপ শেষ তার জন্য। কিন্তু নবম উইকেট পড়তেই ব্যাট হাতে নেমে পড়েন তিনি, এক হাতে, ব্যথা নিয়েই মোকাবেলা করেন বলের,তার সেই সাহসী ইনিংস আর মুহুর্ত বাংলাদেশ ক্রিকেট এবং ক্রীড়াপ্রেমিদের মনে আজীবনের এক স্মৃতি ।

সেই ম্যাচে মুশফিকুর রহিমের সাথে শেষ উইকেটে যোগ করেন ৩২ রান, বাংলাদেশ থামে ২৬১ রানে, আর শ্রীলঙ্কাকে গুটিয়ে দেয় ১২৪ রানে। বিশাল ব্যবধানে বাংলাদেশ জিতে ১৩৭ রানে। এরপর পুরো টুর্নামেন্ট থেকেই ছিটকে যান তামিম, এটাই ছিল তার শেষ এশিয়া কাপ ম্যাচ।

ঠিক পাঁচ বছর পর, ২০২৩ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর কলম্বোয় ভারতের বিপক্ষে সুপার ফোরের ম্যাচ। বাংলাদেশ তখন আগেই বিদায় নিশ্চিত করে ফেলেছে, সেই ম্যাচে  অধিনায়ক সাকিব দলের হাল ধরেন ৫৯ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর। হৃদয়ের সাথে গড়েন ১০১ রানের জুটি, নিজে করেন ৮৫ বলে ৮০ রান। বল হাতে উইকেট নেন সুরিয়াকুমার যাদবের। সেই ম্যাচে ভারতকে ৬ রানে হারিয়ে ম্যাচ সেরা হন সাকিব। এরপর আর কোনো এশিয়া কাপে তাকে দেখা যায়নি।

দুজনই নিজেদের এশিয়া কাপ অধ্যায় শেষ করেছেন এমন এক ইনিংস দিয়ে, যা মনে রাখার মতো, যা গল্প হয়ে থাকার মতো। যেন ভাগ্যই ঠিক করে রেখেছিল, শেষটা হবে জাঁকজমকপূর্ণ, একই তারিখে, দুজনের জন্যই।

আজ সেই দুজনের পথ সম্পূর্ণ আলাদা। সাকিব দেশের বাইরে ঘুরে বেড়ান বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে। তামিম এখন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রেসিডেন্টের চেয়ারে। যে দুজন একসময় হাত ধরাধরি করে বাংলাদেশ ক্রিকেটকে এগিয়ে নিয়েছিলেন, আজ তাদের মধ্যে যতটা দূরত্ব, ততটাই দূরত্ব তাদের বর্তমান পরিচয়েও। তবু ১৫ সেপ্টেম্বর তারিখটা রয়ে গেছে দুজনকেই এক সুতোয় বেঁধে, যেভাবে হয়তো তারা নিজেরাও কখনও ভাবেননি।

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link