প্রেসিং বনাম পজেশনের কৌশলগত লড়াই

লুইস এনরিকের পজেশন ভিত্তিক বিল্ড আপ আর ব্রেস্টের শ্বাসরুদ্ধকর হাই প্রেসিং। লিগ ওয়ানের এই ম্যাচটি ছিল স্পষ্ট দুটি ভিন্ন ফুটবল ভাবনার মুখোমুখি সংঘাত।

লুইস এনরিকের পজেশন ভিত্তিক বিল্ড আপ আর ব্রেস্টের শ্বাসরুদ্ধকর হাই প্রেসিং। লিগ ওয়ানের এই ম্যাচটি ছিল স্পষ্ট দুটি ভিন্ন ফুটবল ভাবনার মুখোমুখি সংঘাত। ১-০ ব্যবধানের জয়টি টেবিলের সমীকরণে পিএসজিকে তিন পয়েন্ট দিলেও ট্যাকটিক্যাল বোর্ডে এটি ছিল ৯০ মিনিটের এক সূক্ষ্ম স্নায়ুযুদ্ধ।

ম্যাচের একেবারে পঞ্চম মিনিটে ফেরান তোরেসের আর্লি গোলটি কৌশলগত দিক থেকে এনরিকেকে বাড়তি সুবিধা এনে দেয়। পিএসজি ৩-২-৪-১ বিল্ড আপ শেপে খেলে, যেখানে সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার ও ইনভার্টেড ফুলব্যাকরা মাঝমাঠে নিউমেরিক্যাল সুপিরিওরিটি তৈরির চেষ্টা করেন। গোল পাওয়ার পর তারা বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে প্রতিপক্ষকে সামনে টেনে আনার ফাঁদ পাতলেও অতিরিক্ত ঝুঁকি নেওয়া থেকে বিরত থাকে।

ব্রেস্ট তাদের মাঠে পিএসজির এই শর্ট পাসিং বিল্ড আপ ভেস্তে দিতে নিবিড় ম্যান টু ম্যান হাই প্রেস বেছে নেয়। পিএসজির ডিফেন্ডারদের ওপর প্রথম থেকেই চাপ তৈরি করে তারা সেন্ট্রাল পাসিং লেনগুলো পুরোপুরি ব্লক করে দেয়।

আক্রমণের ক্ষেত্রে ব্রেস্টের মূল চাল ছিল উইং ওভারলোড। দুই প্রান্ত দিয়ে দ্রুত উইঙ্গার ও ফুলব্যাকদের উঠিয়ে পিএসজির পেনাল্টি বক্সে একের পর এক বিপজ্জনক ক্রস ও কাট ব্যাক পাঠানো।

মাঝমাঠের ট্রানজিশনেও ব্রেস্ট আক্রমণাত্মক অবস্থান ধরে রাখে। তারা পিএসজিকে ফাইনাল থার্ডের হাফ স্পেসগুলোতে জায়গা নেওয়ার সুযোগ দেয়নি। বল কাড়ামাত্রই দ্রুত ডাইরেক্ট ফুটবলে কাউন্টার অ্যাটাকে উঠে ব্রেস্ট বারবার পিএসজির হাই ডিফেন্সিভ লাইনকে পরীক্ষায় ফেলে।

​এই পুরো ট্যাকটিক্যাল ফাঁদগুলো ব্যর্থ করে পিএসজির রক্ষাকবচ হয়ে ওঠেন গোলরক্ষক মাতভেই সাফোনভ। ব্রেস্ট বারবার ডিফেন্সিভ লাইন ভেদ করে ছয়টি অন টার্গেট শট নিলেও সাফোনভের নির্ভুল পজিশনিং ও সাডেন রিফ্লেক্স পিএসজির ব্যাক লাইনের ট্যাকটিক্যাল ভুলগুলো ঢেকে দেয়।

​এনরিকের পিএসজি এই ম্যাচে পরম বাস্তববাদী ফুটবলের প্রমাণ দিয়েছে। আক্রমণাত্মক ধার কিছুটা কমিয়ে ম্যাচ কন্ট্রোল ও ক্লিন শিট নিশ্চিত করাই ছিল তাদের আসল জয়। অন্যদিকে ব্রেস্ট দারুণ প্রেসিং প্ল্যান নিয়ে মাঠে নেমেও ফাইনাল থার্ডের দুর্বল ফিনিশিংয়ের কারণেই কৌশলে হেরে যায়।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

Share via
Copy link