নিগার সুলতানা বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটের জ্যোতি, সন্দেহে নেই। তবে, বাংলাদেশের অধিনায়কের জায়গাটা এখন নড়বড়ে। নিগারের নেতৃত্বে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেটের যে ‘লেভেল আপ’ হওয়ার দরকার ছিল, সেটা আজ পর্যন্ত অনুপস্থিত।
তাহলে কি জ্যোতিকে বিদায় বলাটাই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) জন্য সহজ সিদ্ধান্ত? সাম্প্রতিক ফলাফল সেই প্রশ্নটা আরও জোরালো করেছে। এশিয়া কাপে বাংলাদেশের পথ থেমেছে সেমিফাইনালেই। ভারতের বিপক্ষে ৪০ রানের হারে আবারও সামনে এসেছে নিগার-সহ গোটা ব্যাটিংয়ের দুর্বলতা। বড় দলের বিপক্ষে চাপ নেওয়ার সক্ষমতার অভাব, গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ঘাটতি – সব সংকটই প্রকট হচ্ছে।
জ্যোতির ব্যাটিং নিয়েও আলোচনা কম নয়। চলতি বছরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪৭ বলে ২৭ রান করেছিলেন তিনি। স্ট্রাইক রেট ৫৭.৪৫। বড় দলের বিপক্ষে এমন ইনিংস শুধু ব্যক্তিগত ব্যর্থতা নয়, দলের ব্যাটিং পরিকল্পনাকেও চাপে ফেলে।

অবশ্য জ্যোতির সাম্প্রতিক সব ইনিংস একই রকম ছিল না। বিশ্বকাপে ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকা – দু’দলের বিপক্ষেই ৩২ রানের ইনিংস খেলেন, পাকিস্তানের বিপক্ষে করেন ৩৬ রান। অর্থাৎ সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। তবে সমস্যা হচ্ছে, গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে সেই সামর্থ্য কাজে লাগাতে পারছে না বাংলাদেশ। নেতৃত্বটা কি কালক্রমে বোঝা হয়ে দাঁড়াচ্ছে?
অধিনায়কের দায়িত্বের ক্ষেত্রেও সেই একই প্রশ্ন। বাংলাদেশ তুলনামূলক দুর্বল দলের বিপক্ষে ভালো করতে পারে, কিন্তু ভারত, অস্ট্রেলিয়া কিংবা অন্য শক্তিশালী দলের সামনে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। শুধু জ্যোতিকে দায়ী করা অবশ্যই ঠিক হবে না, তবে অধিনায়ক হিসেবে বড় দায়টা তাঁরই। আর, একই জায়গায় দাঁড়িয়ে একই ফলাফল পেতে থাকলে পরিবর্তনের কথা ভাবতেই হয়।
দলের ব্যাটিং গভীরতা, পাওয়ার হিটিং, ফিল্ডিং এবং সামগ্রিক দলীয় কাঠামোর দুর্বলতাও আছে। তবে, ক্রাঞ্চ মোমেন্টে মাঠে দলের থেকে সেরা পারফরম্যান্স আদায় করতে না পারার দায়টা কিছুটা হলেও তাঁকে নিতেই হয়। ভারত সেমিফাইনালে বাংলাদেশকে হারিয়েছে মূলত সেই চাপের জায়গাগুলো কাজে লাগিয়েই। তবুও, নেতৃত্বের প্রশ্নটি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বিসিবি নিজেও এখনই জ্যোতির নেতৃত্ব নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিচ্ছে না। এশিয়ান গেমস পর্যন্ত তিনি বহাল থাকছেন। এরপর সামনে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড সফরসহ আরও কঠিন সিরিজ রয়েছে।
সেটাই হয়তো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সবচেয়ে ভালো সময়। জ্যোতিকে সরিয়ে দেওয়া মানেই তাকে দল থেকে বাদ দেওয়া নয়। বরং উইকেটরক্ষক-ব্যাটার হিসেবে তার অভিজ্ঞতা দলকে কাজে লাগাতে পারে বাংলাদেশ। জ্যোতিকে চাপমুক্ত রাখতে পারলেই এই মুহূর্তে বেশি লাভ বাংলাদেশের।
জ্যোতি বাংলাদেশের ক্রিকেটে তার দায়িত্ব পালন করেছেন। এখন সময় এসেছে নেতৃত্বের জায়গায় নতুন কাউকে সুযোগ দেওয়ার। আর, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিবেচনায় অধিনায়কত্বে পরিবর্তন আনাটা কোনো ভাবেই অযৌক্তিক নয়।












