মিকেল আর্তেতার আর্সেনাল এখন আর স্রেফ আর্ট বা ফ্ল্যাশের ওপর নির্ভর করে না। তারা একটি সুনির্দিষ্ট মেশিন, যা প্রতিপক্ষের ছোটখাটো ডিফেন্সিভ ভুলগুলোকেও নিখুঁতভাবে ব্যবচ্ছেদ করতে জানে। সান্ডারল্যান্ড তাদের ঘরের মাঠে যে টাইট ডিফেন্সিভ স্ট্রাকচার সাজিয়েছিল, তা ভাঙতে আর্সেনালকে খেলতে হয়েছে চরম ধীরস্থির এক ট্যাকটিক্যাল দাবা খেলা।
সান্ডারল্যান্ডের অফ দ্যবল স্ট্রাকচার শুরু থেকেই আর্সেনালের পজিশনাল প্লেকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছিল। তারা ৪-৪-২ বা ৫-৪-১ শেপে একেবারে নিজেদের বক্সের সামনে তাবু গেড়ে বসে, যাতে আর্সেনালের অভ্যন্তরীণ হাফ স্পেসগুলো পুরোপুরি বন্ধ থাকে।
বিশেষ করে বুকায়ো সাকাকে রিসিভ করার আগেই দুইজন মিডফিল্ডার ও ফুলব্যাক দিয়ে ঘেরাও করে রাখার যে পরিকল্পনা তারা করেছিল, তা প্রথমার্ধে আর্সেনালের উইং প্লে অনেকটাই নিষ্ক্রিয় করে রাখে।

কিন্তু এই ধরণের স্ট্রাকচারের আসল পরীক্ষা হয় মোমেন্টাম শিফটের মুহূর্তে। ৫৫তম মিনিটে ডেভিড রায়া যখন পেনাল্টি সেভ করেন, সান্ডারল্যান্ডের পুরো ট্যাকটিক্যাল ডিসিপ্লিনে একটি মানসিক ধস নামে। সান্ডারল্যান্ডের হাই প্রেসিং ইনটেনসিটি হঠাৎ কমে এলে আর্সেনালের ব্যাক লাইন থেকে বল প্রোগ্রেস করার পথ মসৃণ হয়ে যায়।
আর্সেনাল তাদের ট্রেডমার্ক ৩-২-৫ অ্যাটাকিং শেপে সুইচ করতেই ফাঁদটি স্পষ্ট হতে থাকে। ইনভার্টেড ফুলব্যাকের পজিশনিংয়ের কারণে সান্ডারল্যান্ডের ডিফেন্স মিডফিল্ডের দিকে বেশি ঝুঁকতে বাধ্য হয়।
ঠিক তখনই আর্সেনাল ডান উইংয়ে প্লেয়ার ওভারলোড করে প্রতিপক্ষের মনোযোগ সাকায় আটকে রেখে বক্সের ঠিক বাইরে হাফ স্পেস খালি করে ফেলে। ৫৮ মিনিটে ব্রুনো গুইমারেসের গোলটি ছিল প্রতিপক্ষের ডিফেন্সিভ ব্লক সরিয়ে স্পেস ম্যানিপুলেট করার এই কাঠামোগত জয়েরই ফসল।

ম্যাচের শেষদিকে সান্ডারল্যান্ড যখন মরিয়া হয়ে ম্যান ওভারল্যাপ করতে চায়, আর্সেনাল তখন তাদের কাউন্টার প্রেস দিয়ে মিডফিল্ডের নিয়ন্ত্রণ ছিনিয়ে নেয়। প্রতিপক্ষ বল রিকভার করার সাথে সাথে প্রেসিং ট্র্যাপে ফেলে তাদের ব্যাক লাইনকে কাট অফ করে ফেলা হয়। এক্সট্রা টাইমের পেনাল্টি ও রেড কার্ডটি এই লাগাতার ট্যাকটিক্যাল সুফোকেশন বা প্রতিপক্ষকে শ্বাসরুদ্ধ করে রাখার কৌশলেরই অনিবার্য পরিণতি।
প্রতিপক্ষের লো-ব্লক ভাঙতে যা প্রয়োজন – উচ্চমাত্রার পজিশনাল পেশেন্স এবং স্পেস ম্যানিপুলেশন। তারই এক চমৎকার মাস্টারক্লাস ছিল আর্সেনালের এই জয়।











