শিরোপা পুনরুদ্ধারের মিশনে ভারত, শ্রীলঙ্কার লক্ষ্য ধরে রাখা!

ভারতীয় নারীরা যেমন শিরোপা পুনরুদ্ধারে ছেড়ে কথা বলবেন না, তেমনই ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হার্শিতা-আতাপাত্তুরাও শিরোপা ধরে রাখতে নিজেদের সবটা উজাড় করে দেবেন। শেষ পর্যন্ত কারা হাসবেন শেষ হাসি?

দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এশিয়ার নারী ক্রিকেটে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণে মুখোমুখি হচ্ছে ভারত-শ্রীলঙ্কা। আগের নয়টি সংস্করণের সাতটিতেই আধিপত্য দেখানো ভারতের এবারের লক্ষ্য হারানো রাজত্ব পুনরুদ্ধার। অন্যদিকে, ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কা নামবে শিরোপা ধরে রাখার মিশনে।

দুবাইয়ের ধীরগতির ও টার্নিং পিচে দুই প্রতিবেশীর লড়াই ব্যাপক রোমাঞ্চই ছড়াবে বলে মত ক্রিকেট বোদ্ধাদের। বিশ্লেষকরা বলছেন, দুবাইয়ের এই টার্নিং কন্ডিশনে ভারতের জয়ের প্রধান চাবিকাঠি হয়ে উঠতে পারেন অলরাউন্ডাররা।

বিশ্বমানের অফস্পিন ও ডেথ ওভারে কার্যকর ব্যাটিংয়ে চমৎকার পারফরম্যান্স করতে পারেন এবারের আসরে সর্বোচ্চ ১১ উইকেট নেওয়া দীপ্তি শর্মা। আর ওপেনিংয়ে বড় সংগ্রহের ভিত গড়তে দলের মূল ভরসা টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক শেফালি ভার্মা। সঙ্গে স্মৃতি মান্দানার দৃঢ় ব্যাটিংও রাখতে পারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

একইসঙ্গে, বোলিং বিভাগেও অভিজ্ঞতার সঙ্গে তারুণ্যের চমৎকার রসায়ন ভারতের বড় শক্তি। স্পিনার শ্রী চারাণীর সাথে তরুণ নন্দনী শর্মা ও ক্রান্তি গৌড় পেস আক্রমণের গুরু দায়িত্ব সামলাতে নিয়ামক হয়ে উঠতে পারেন। যা ভারতকে ঢের এগিয়ে রাখছে ফাইনালের আগে।

তবে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কাকেও হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। পাকিস্তানকে পরাস্ত করে ফাইনালে ওঠা প্রমীলা লঙ্কানরা মূলত তারকাদের একক নৈপুণ্যের ওপর ভরসা করছে খানিকটা।

বিশেষ করে, টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় শীর্ষ উইকেট সংগ্রাহক লঙ্কান অফস্পিনার ও অধিনায়ক চামারি আথাপাত্তু যেকোনো মুহূর্তেই ম্যাচে মোমেন্টাম এনে দিতে পারেন দুবাইয়ের টার্নিং পিচে। সাথে ২০২৪ সালের আসরে এই ভারতের বিপক্ষেই ৬৯ রানের এক ক্যামিও ইনিংস খেলা হার্শিতা সামারাভিক্রমা ফাইনালে শ্রীলঙ্কার রানের গতিকে ওপরের দিকে নিয়ে যেতে পারেন দারুণভাবে! তাঁর সাথী হতে পারেন নাকশী ডি সিলভাও।

এর বাইরে, কাভিশা দিলহারিও বল আর ব্যাট হাতে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে হয়ে উঠতে পারেন তুরুপের তাস। সেমিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩৩ রানের এক কার্যকর ইনিংস খেলে সেটিরই প্রমাণ দিয়েছেন তিনি!

সবমিলিয়ে, পরিসংখ্যান আর ইতিহাস ভারতের পক্ষে কথা বলছে। সাতবারের এশিয়াজয়ী ভারতীয় নারীরা তাই যেমন শিরোপা পুনরুদ্ধারে ছেড়ে কথা বলবেন না, তেমনই ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হার্শিতা-আতাপাত্তুরাও শিরোপা ধরে রাখতে নিজেদের সবটা উজাড় করে দেবেন। শেষ পর্যন্ত ২০২৬ নারী এশিয়া কাপের ফাইনালে কারা হাসেন শেষ হাসি, সেটাই এখন দেখার পালা!

লেখক পরিচিতি

সাব এডিটর

Share via
Copy link