বয়স কে বুড়ো আঙুল দেখান তিনি রোজ

বাংলাদেশ ক্রিকেটের সবচেয়ে পরিশ্রমী ক্রিকেটার থেকে যদি একজনকে বেছে নিতে হয়, সেটা মুশফিকুর রহিম। সম্প্রতি মীরপুরের মাঠে সেই পরিশ্রমেরই আরেকটা প্রমাণ দেখা গেল, ঘাম ঝরিয়ে ব্যাটিং  অনুশীলনে ব্যস্ত মুশফিক, সামনের ব্যস্ত সূচির জন্য নিজেকে তৈরি করছেন এখন থেকেই।

বাংলাদেশ ক্রিকেটের সবচেয়ে পরিশ্রমী ক্রিকেটার থেকে যদি একজনকে বেছে নিতে হয়, সেটা মুশফিকুর রহিম। সম্প্রতি মিরপুরের মাঠে সেই পরিশ্রমেরই আরেকটা প্রমাণ দেখা গেল, ঘাম ঝরিয়ে ব্যাটিং অনুশীলনে ব্যস্ত মুশফিক, সামনের ব্যস্ত সূচির জন্য নিজেকে তৈরি করছেন এখন থেকেই।

তাঁর ক্যারিয়ারের পরিসংখ্যান কথা বলে নিজেরাই। ১০৪ টেস্টে ৩৯.০৯ গড়ে ৬৮৪০ রান, ১৪টি সেঞ্চুরি, বাংলাদেশের হয়ে দুটোতেই সর্বোচ্চ। মে মাসে সিলেটে পাকিস্তানের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করেই এই রেকর্ড গড়েন তিনি। কিন্তু সংখ্যার চেয়েও বড় গল্প তার ধারাবাহিকতায়।

গত দেড় দশকে মুশফিক ছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান। ২০১০-১৯ দশকে ৪০.৮৫ গড়ে রান করে ফক্স ক্রিকেটের সেরা টেস্ট একাদশে উইকেটকিপার হিসেবে জায়গা করে নেন তিনি। তার তিনটি ডাবল সেঞ্চুরির সবগুলোই এসেছে এই সময়ের মধ্যে, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুটি। এশিয়ার মাটিতে গড়টা আরও ভালো, ৪৪.১৩।

আসল চমক অবশ্য গত পাঁচ বছরে। ২০২০ সালের পর কমপক্ষে ২০ ইনিংস খেলা ব্যাটসম্যানদের মধ্যে বিশ্বে সর্বোচ্চ গড় ছিল মুশফিকের। ২০২২ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টানা দুই সেঞ্চুরির পর তার রান দাঁড়ায় ২১ ইনিংসে ১০০২, গড় ৫৮.৯৪, যা তখন জো রুট কিংবা বাবর আজমের চেয়েও এগিয়ে। গত পাঁচ বছরে মোট প্রায় ৩০ টেস্টে ৩২৫০ রান, গড় পঞ্চাশের ওপরে।

বয়স ৩৯ ছুঁয়েছেন, রঙিন পোশাকের দুই ফরম্যাটকেও বিদায় জানিয়েছেন আগেই।কিন্তু লাল বলের প্রতি নিবেদনে এতটুকু ভাটা পড়েনি। এই বয়সেও তরুণ সতীর্থদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে মাঠে ঘাম ঝরাচ্ছেন মুশফিক, নিজের শরীরকে ফেলে রাখছেন না বয়সের অজুহাতে।

কারণটা সামনে তাকালেই স্পষ্ট। ৯ অক্টোবর থেকে আফগানিস্তানের বিপক্ষে এক ম্যাচের টেস্ট দিয়ে শুরু, তারপর টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের গুরুত্বপূর্ণ তিন সিরিজ, ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, তারপর দক্ষিণ আফ্রিকা সফর।

আর ২০২৭ এর শুরুতে ইংল্যান্ড সিরিজ।  দীর্ঘ ও কঠিন এক সূচি অপেক্ষা করছে বাংলাদেশের জন্য। আর সেই সূচির আগেই নিজেকে প্রস্তুত করে রাখার কাজটা শুরু করে দিয়েছেন মুশফিক। যে শৃঙ্খলা তাকে এতদূর এনেছে, সেই একই শৃঙ্খলা নিয়েই তিনি নামছেন সামনের লড়াইয়ে।

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link