কেমন হতে পারে এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের একাদশ!

২০১০ সালে সোনা জিতেছিল বাংলাদেশ, ২০২৬ সালে এসে সেই স্মৃতি ফেরানোর সুযোগ আছে লিটন দাসের দলের সামনে।

এশিয়ান গেমসের ক্রিকেটে সোনা জয়ের লক্ষ্য নিয়ে জাপান যাচ্ছে বাংলাদেশ। এশিয়ার মহারথীরা সবাই দল সাজিয়েছে অভিজ্ঞ আর সিনিয়র ক্রিকেটারদের নিয়ে। বাংলাদেশও পিছিয়ে নেই। লিটন দাশের নেতৃত্বে  টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তকে দলে ফিরিয়ে পূর্ণ শক্তির স্কোয়াড ঘোষনা করেছে বাংলাদেশ ! নিয়মিত একাদশ প্রায় অপরিবর্তিতই থাকার কথা। তবে একাদশ গোছাতে গিয়ে কয়েকটা জায়গায় ভাবতে হবে কোচ আর নির্বাচকদের।

ওপেনিংয়ে তানজিদ হাসান তামিমের সঙ্গী হতে পারেন সাইফ হাসান। মিডল অর্ডারে একটা জায়গা নিয়ে অবশ্য আলোচনা হতেই পারে। সেখানে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত নাকি ইয়াসির আলী রাব্বি ? এই প্রশ্নের মুখোমুখি হতে পারে ম্যানেজমেন্ট।

এশিয়ান গেমসে রাব্বির অভিজ্ঞতা আছে, আগের আসরেও খেলেছেন তিনি। অন্যদিকে মোসাদ্দেক অলরাউন্ডার, ব্যাট আর বল দুই জায়গাতেই অবদান রাখতে পারেন। লম্বা সময় পর দলে ফিরে দুজনই সাম্প্রতিক সময়ে নিজেদের অভিজ্ঞতার প্রমাণ দিয়েছেন। তাই এই লড়াইটা সহজ হবে না।

পেস আক্রমণে শরিফুল ইসলাম আর মুস্তাফিজ এর জায়গা মোটামুটি নিশ্চিত। দারুণ ছন্দে থাকা এই দুই পেসারকে বাইরে রাখার সুযোগ নেই। বাকি থাকে সাইফউদ্দিন আর হাসান মাহমুদের মধ্যে বাছাই। ইংল্যান্ডে কেন্টের হয়ে কাউন্টি ক্রিকেট খেলে সদ্য দেশে ফেরা হাসান মাহমুদের সেই অভিজ্ঞতা এখানে এগিয়ে রাখতে পারে তাকে।

তিন পেসার নিয়ে খেলার সুযোগও থাকছে বাংলাদেশের সামনে। তবে যেখানে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে অর্থ্যাত নাগোয়ার কোরোগি স্পোর্টস পার্ক সেই মাঠের উইকেট বানিয়েছেন গামিনি ডি সিলভা, যিনি দীর্ঘদিন মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের কিউরেটর ছিলেন। তার হাতে তৈরি পিচ স্পিন সহায়ক হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। সেক্ষেত্রে রিশাদ হোসেন, শেখ মেহেদী হাসান আর মোসাদ্দেককে একসঙ্গে দলে রাখলে স্পিন আক্রমণও পোক্ত থাকবে, আবার তিন পেসার খেলানোর সুযোগও তৈরি হবে।

এভাবে সাজালে ব্যাটিং আর বোলিংয়ে ভারসাম্য থাকবে বাংলাদেশের। শেখ মেহেদী আর মোসাদ্দেক দুজনই ব্যাট-বল দুই জায়গাতেই চমক দেখানোর সামর্থ্য রাখেন। টপ অর্ডার শুরুতে ঝড়ো ইনিংস খেলে দলকে এগিয়ে দিতে পারলে বাকি কাজটা সারতে হবে মিডল অর্ডারকে, নিজেদের সেরাটা দিয়ে। আর দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের ভরসার জায়গা হয়ে থাকা বোলাররা তাদের অবদান দিয়ে এনে দিতে পারেন দারুণ কিছু।

সব মিলিয়ে বাংলাদেশের সম্ভাব্য একাদশ হতে পারে, তানজিদ হাসান তামিম, সাইফ হাসান, লিটন দাস (অধিনায়ক), নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহীদ হৃদয়, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, শেখ মেহেদী হাসান, রিশাদ হোসেন, মুস্তাফিজুর রহমান, শরিফুল ইসলাম ও হাসান মাহমুদ।

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link